Hopeless end or Endless hope!

গতবারের মতোই এবারেও লেখার শুরুতেই বলে রাখা শ্রেয় যে, আমি নিজের নির্ধারিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে নয়, বরং বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে আজকে হাজির হয়েছি!
এইবার বোধকরি প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়েছে, তাই এখনও পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।
আর ঠিক সেই কারণেই, মনে হলো, হয়তো বিষয়টি সম্পর্কে নিজের অভিমত ভাগ করে নিয়ে অনেকের কাছে বিষয়টি সহজলভ্য হবে!
তবে, লেখাটা ইচ্ছে করেই নিজের মাতৃ ভাষায় লিখছি, তাতে কেউ টুকলি করবার চেষ্টা করতে চাইলে লেখাটি ট্রান্সলেট করে পড়ে বুঝে টুকলি করতে হবে!
আর যারা বাংলা পড়তে পারেন, তাদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবার সংখ্যা নেই বললেই চলে, কাজেই সেখানে নকলের সম্ভবনা খানিক কম!
এবার বিষয়বস্তুতে ফেরা যাক! প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু এন্ডলেস হোপ, আর হোপলেস এন্ড!
অর্থাৎ একটিকে মধুরেন সমাপয়েত বলা যায়, আরেকটির শেষটি আশাতীত নয়, এই তো?
এবার প্রথমে শুরু করি যে, বিষয়গুলিকে হোপেলেস এন্ড কিংবা হতাশাজনক সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা যায়!
কিছু উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বলি? তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে!
ধরুন আপনার, পরীক্ষা চলছে, এবার প্রশ্নপত্র পেয়ে আপনি আনন্দে আত্মহারা, কারণ সব প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা!
আপনি লেখা শুরু করলেন, কিন্তু সময় আপনাকে সব উত্তর লেখার সুযোগ দিলো না!
যাঃ! বেল পড়তেই খাতা কেড়ে নিতে উদ্যোগ হলেন, শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকা, আপনি আপ্রাণ অনুরোধ করলেন আর পাঁচটা মিনিট সময় দিতে, কিন্তু নাহ্! শেষমেশ খাতা হাতছাড়া হয়ে গেলো!
এবার, আপনি পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে এই পরীক্ষাটিকে অবলীলায় হোপলেস্ এন্ড কিংবা বাংলায় হতাশাজনক সমাপ্তি আখ্যায়িত করতেই পারেন! কি তাই তো?

কারণ, এটি আপনি দ্বিতীয়বার দেবার সুযোগ পাবেন যদি ফেল করেন, আর এন্ডেলেস হোপ অর্থাৎ অফুরন্ত আশায় বুক বেঁধে ওই হিন্দি ছায়াছবি বারোক্লাস ফেল ছায়াছবির আই পি এস মনোজ শর্মা হতে পারেন, বারংবার পরীক্ষায় বসে, সফল হয় দেখিয়ে!
জীবনের অনেকক্ষেত্রে এই সমাপ্তি নির্ভর করে আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গির উপর!
গ্লাস অর্ধেক ভর্তি দেখবো, নাকি অর্ধেক খালি, সেটা তো একেবারেই নিজস্ব বিষয়!
অনেকেই আছে, যারা অকালে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেয় প্রতিকূলতার সাথে পাল্লা দিতে না পেরে, অর্থাৎ এদের মানসিকতায় হতাশাজনক সমাপ্তির প্রভাব অধিক পড়ে!
আরেকদিকে, স্বজন হারা হয়ে শৈশব থেকে প্রতিকূলতার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যারা জীবনের প্রতিটি সূর্যদয়ের সাথে নতুন আশায় বুক বেঁধে নতুন করে লড়াইটা শুরু করে,
আর সূর্যাস্তের সাথে এই আশা রাখে যে, আগামী দিনটি আর ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসবে, তারা সেই দলভুক্ত যাদের মধ্যে অফুরন্ত আশা কাজ করে!

আরো, একটি উদাহরণ দিচ্ছি, যেটি দেশ, ধর্ম, জাতি নির্বিশেষে সকলেই হয়তো রিলেট করতে পারবেন!
মনে করুন সেই সময়ের কথা, যখন আমাদের দেশ পরাধীন ছিল!
সেই সময় দু'ধরনের মানুষ ছিল প্রতি দেশে!
একদল, ইংরেজদের তথা বিরোধীদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল, তাদের হয়ে কাজ করতো!
কারণ, এরা কোনোদিন দেশ পরাধীনতার গ্লানি মুক্ত হতে পারে বিষয়টিতে বিশ্বাসী ছিলেন না, তাই স্বাধীনতা সংগ্রামী দের কার্যকলাপ এবং তাদের মৃত্যুবরণ ছিল, এই শ্রেণীর মানুষদের কাছে হতাশাজনক সমাপ্তি!
ঠিক বিপরীত দিকে, যারা দেশকে স্বাধীন করতে প্রাণ দিয়েছেন, এমনকি এখনো দেশের সুরক্ষায় নিজেদের সবটা উজাড় করে দিচ্ছেন,
তারা বিশ্বাস করতেন এবং এখনো করেন, তাদের এই আত্মবলিদান কখনও বিফল হবে না, এবং পরের প্রজন্মের কিছু অংশ এই কাজটিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করে যাবে!
একজন মৃত্যুগামী সৈনিক মৃত্যুর পূর্বে কি বলেছিলেন জানেন?
অনেক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি বলেছিলেন, স্যার সবকটা গুলি বুকে নিয়েছি, একটাও পিঠে মারতে দেইনি! এটি কিন্তু আমার দেশের ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনার উপমা দিলাম!
কথাটির অভ্যন্তরীণ অর্থ বুঝলে, হয়তো প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন!
প্রতিদিন লড়াই করে বেচে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে যে স্ফুলিঙ্গ জ্বলে কিংবা তারা জ্বালিয়ে রাখতে সমর্থ হয়, সেটা হলো, অফুরন্ত আশা!
তারা শুধু নিজের সর্বোচ্চ প্রয়াস দিয়ে কাজটা করে, বাকিটা ছেড়ে দেয় সৃষ্টিকর্তার কাছে!
প্রতিবার, প্রতিদিন এরা সেই অফুরন্ত আশায় বুক বেঁধে, আবার পরীক্ষায় বসে, যেমনটি মনোজ শর্মা করেছিলেন, রিস্টার্ট!
আর, হেরে যাবার মত সহজ কাজের নজির শৈশব থেকেই দেখে এসেছি, এখনো দেখছি, হয়তো আগামীতেও দেখতে হবে! আমি পারি না, আমার দ্বারা হবে না, আমার সাথেই এমনটা হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি!
যদি কুয়োর ব্যাঙ না হয়ে একটু বাইরে বেরিয়ে দেখতো! তাহলে পরিণতি খানিকটা বিচ্ছিন্ন হলেও হতে পারতো হয়তো!
তবে, সব মিলিয়ে এইটুকু বলা যায়, শেষ হবার আগে শেষ করতে নেই, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই আমাদের হাতে, বাকিটা থাকুক না, ওই উপরে যিনি বসে আছেন তার হাতে!

কর্ম ঠিক রেখে, নীতি ঠিক রেখে কাজটা করে যাওয়া, এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকলে, বোধহয় হতাশাজনক সমাপ্তির পরিমাণ খানিক কম হলেও হতে পারে!
কারণ সেখানে প্রত্যাশার জায়গা থাকে না।
আর, বিশ্বাস করুন এটা সম্ভব, আমি নিজেকে দিয়ে কথাটা বলছি!
এখন আমার কে থাকলো, কে চলে গেলো, কে দেবে, কি পাবো ইত্যাদি বিষয়গুলো মনে বিশেষ ছাপ ফেলতে পারে না, আমি মৌনতা বেছে নিয়েছি মানুষের, সম্পর্কের, এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে!
নিজের ভালো থাকার চাবি অন্যের হতে তুলে দিতে আর আমি রাজি নই, সেটি থাকুক শুধুমাত্র ঈশ্বরের হাতে!
ইচ্ছে হলে কথা বলবো, নইলে নয়, কারণ এই কথা থেকেই কথা বাড়ে সঙ্গে বৃদ্ধি পায় প্রত্যাশা!
ধূলো ঝেড়ে উঠে পুনরায় দৌড়ানোর প্রয়াসকে বলে অফুরন্ত আশা আর পড়ে গিয়ে ভয় পেয়ে, থেমে যাওয়াকেই বলে হতাশাজনক সমাপ্তি, সবটাই নিজের উপর নির্ভর করে, কোনটা, কে বেছে নেবে এটা নিজের নিজের উপর, হ্যাঁ পাশাপশি পারিবারিক পরিবেশ এবং শিক্ষা তো রয়েইছে!
তো, আপাতত কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে নিজের অভিমত খানিকটা প্রকাশ করলাম, সবটা নয় কারণ প্রতিযোগিতা চলমান!
আশাকরি, যারা লেখাটি পড়বেন, তারা বুঝবেন বিষয়বস্তুটির গুরুত্ব, সঙ্গে লেখার সাহায্য পূর্ণ ইঙ্গিত।


Your thoughts on “Endless Hope” and “Hopeless End” are truly inspiring. 🌸 I really liked how you explained that an ending often depends on our perspective and mindset. The message that “we should not end something before it truly ends” is especially powerful. Your examples beautifully show that failure, difficulties, and setbacks are not necessarily the end as long as we have the courage to rise again and keep trying. A very meaningful and thought-provoking write-up. ❤️ Wishing you success and endless hope always! 🌷
0.00 SBD,
3.40 STEEM,
3.40 SP