যাকে ভুলতে চাই, মন কেন বারবার তাকেই মনে করিয়ে দেয়?

in আমার বাংলা ব্লগ • 2 days ago

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।




Dreamy Memories by Moonlight.png

মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ আসে, যাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো একসময় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে কথা বলা, ছোট ছোট বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করা, দিনের শেষে নিজের সব কথা খুলে বলা কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই তাদের কথা মনে পড়া—সবকিছুই একসময় আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে যখন সেই মানুষটি দূরে চলে যায়, সম্পর্ক বদলে যায় কিংবা কোনো কারণে আর আগের মতো পাশে থাকে না, তখনই শুরু হয় এক অদ্ভুত লড়াই। নিজের মনের সঙ্গে নিজের লড়াই। মানুষটি আর জীবনে নেই, অথচ তার স্মৃতি রয়ে গেছে। তখন আমরা নিজেদের বোঝাতে চেষ্টা করি, তাকে ভুলে যেতে হবে, তার কথা আর ভাবা যাবে না, পুরোনো স্মৃতিগুলো আর মনে করা যাবে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যত বেশি তাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করি, তত বেশি যেন তার কথা মনে পড়তে থাকে। যে মানুষটিকে মন থেকে সরিয়ে দিতে চাই, সেই মানুষটিই কেন বারবার মনের দরজায় এসে দাঁড়ায়?এর পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের একটি মজার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার কাজ করে। আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে ভাবতে চাই না বলে সিদ্ধান্ত নিই, তখন সেই বিষয়টি যেন আমরা ভুলে গেছি কি না, তা যাচাই করার জন্যও মস্তিষ্ককে সেটির দিকে নজর দিতে হয়। অর্থাৎ, কাউকে মনে না করার চেষ্টা করতে গেলেও মনের একটি অংশ বারবার পরীক্ষা করে, আমরা তাকে মনে করছি কি না। আর সেই পরীক্ষা করতে গিয়েই তার স্মৃতি আবার সামনে চলে আসে। ধরো, তোমাকে বলা হলো, আগামী এক মিনিট সাদা রঙের একটি বিড়ালের কথা একদম ভাববে না। তুমি যতই অন্য কিছু ভাবার চেষ্টা করো, ততই হয়তো সাদা বিড়ালটির ছবি মনে ভেসে উঠবে। কারণ, কোনো কিছু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে গেলেও মস্তিষ্ককে আগে বুঝতে হয়, কোন বিষয়টি এড়িয়ে চলতে হবে। প্রিয় কোনো মানুষকে ভুলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় একই ঘটনা ঘটে।তবে শুধু মস্তিষ্কের এই প্রক্রিয়াই সবকিছুর ব্যাখ্যা নয়। কোনো মানুষের সঙ্গে আমাদের আবেগ যত গভীর হয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোও তত বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। একজন মানুষের সঙ্গে হয়তো প্রতিদিন কথা বলার অভ্যাস ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে তার বার্তা দেখা, কোনো ভালো খবর পেলে সবার আগে তাকে জানানো কিংবা মন খারাপ হলে তার কাছে ছুটে যাওয়া—এসব বিষয় ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যায়। একসময় সেই মানুষটি আর পাশে না থাকলেও অভ্যাসগুলো সহজে হারিয়ে যায় না। সকালে ফোন হাতে নিলে হয়তো এখনো মনে হয়, মানুষটি বার্তা দিয়েছে কি না। কোনো মজার ঘটনা ঘটলে তাকে বলার ইচ্ছা জাগে। কোনো পরিচিত গান শুনলে মনে পড়ে যায়, একসময় এই গানটি দুজনের কত প্রিয় ছিল। তখন বোঝা যায়, কাউকে হারানো মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেক অভ্যাস, অনুভূতি এবং পরিচিত মুহূর্ত থেকেও দূরে সরে যাওয়া।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতিকে শুধু ঘটনার তালিকা হিসেবে জমা রাখে না। বিভিন্ন স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনুভূতি, পরিবেশ, শব্দ, গন্ধ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো জায়গা। এ কারণেই অনেক বছর পরেও কোনো পরিচিত গন্ধ পেলে হঠাৎ শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। একইভাবে, কোনো নির্দিষ্ট গান, রাস্তা, বৃষ্টির বিকেল কিংবা পরিচিত খাবার আমাদের এমন একজন মানুষের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে, যাকে আমরা অনেক দিন ধরে মনে করতে চাইনি। আমরা হয়তো সেই মানুষটির কথা ভাবছিলাম না, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িত কোনো পরিচিত বিষয় স্মৃতির দরজাটি খুলে দিয়েছে। ফলে মনে হয়, মানুষটি যেন হঠাৎ করেই আবার আমাদের সামনে ফিরে এসেছে।কখনো কখনো কাউকে ভুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ সম্পর্কটির শেষটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হয় না। কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না, কিছু কথা বলা হয়ে ওঠে না, আবার কিছু ঘটনা মনের মধ্যে অসমাপ্ত থেকে যায়। মানুষটি কেন বদলে গেল, কেন দূরে সরে গেল, কোথায় ভুল হয়েছিল কিংবা সবকিছু অন্য রকম হতে পারত কি না—এমন প্রশ্ন বারবার মনে আসে। উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা পুরোনো কথোপকথন, আচরণ এবং স্মৃতিগুলো নতুন করে বিশ্লেষণ করতে থাকি। মনে হয়, অতীতের কোনো একটি মুহূর্ত বুঝতে পারলেই হয়তো সবকিছুর ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। কিন্তু সব সম্পর্কের শেষের পেছনে এমন কোনো উত্তর থাকে না, যা জানলে মনের সব প্রশ্ন মিটে যাবে। কখনো কখনো কিছু ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা না পেয়েও আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। আমরা যখন কাউকে হারাই, তখন সব সময় শুধু মানুষটিকে মিস করি না; অনেক সময় তার সঙ্গে থাকা নিজের সেই পুরোনো সত্তাকেও মিস করি। হয়তো সেই মানুষটির কাছে আমরা খুব সহজে নিজের কথা বলতে পারতাম। হয়তো তার সঙ্গে থাকলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো। হয়তো ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, যার মধ্যে সেই মানুষটির উপস্থিতি ছিল। সম্পর্কটি শেষ হয়ে গেলে শুধু বর্তমানের শূন্যতা তৈরি হয় না, ভেঙে যায় ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কল্পনা করা অনেক পরিকল্পনাও। তাই কখনো কখনো আমরা মানুষটির চেয়ে বেশি মিস করি সেই অনুভূতিটাকে, যা তার সঙ্গে থাকার সময় অনুভব করতাম। আমরা চাই, আবার কেউ আমাদের সেভাবে বুঝুক, আমাদের কথা মন দিয়ে শুনুক কিংবা আমাদের জীবনে সেই পরিচিত স্বস্তিটুকু ফিরিয়ে আনুক।আবার স্মৃতিরও একটি নিজস্ব স্বভাব আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক সময় অতীতের সুন্দর মুহূর্তগুলো বেশি মনে রাখি, আর কষ্টের ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে দেখি। যে মানুষটির সঙ্গে সম্পর্কের শেষ দিকে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম, তাকেও হয়তো একদিন মনে হবে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ। মনে পড়বে তার সুন্দর কথাগুলো, যত্নের মুহূর্তগুলো কিংবা একসঙ্গে কাটানো আনন্দের দিনগুলো। কিন্তু কেন সম্পর্কটি ভেঙেছিল, কোন বিষয়গুলো আমাদের কষ্ট দিয়েছিল, সেগুলো হয়তো তখন ততটা স্পষ্ট মনে পড়বে না। ফলে পুরোনো মানুষটির প্রতি আবার টান অনুভব হতে পারে। তবে কাউকে মনে পড়া মানেই এই নয় যে তার সঙ্গে আবার সম্পর্ক তৈরি করা উচিত, কিংবা মানুষটি আমাদের জীবনের জন্য সঠিক ছিল। স্মৃতি ফিরে আসা একটি স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতা; সেই স্মৃতির ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেব, সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।তাহলে কাউকে ভুলে যেতে চাইলে কী করা উচিত? প্রথমেই বুঝতে হবে, ভুলে যাওয়া কোনো সুইচ নয়, যা ইচ্ছা করলেই বন্ধ করে দেওয়া যায়। কাউকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নেওয়ার পর একদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সব স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বরং জোর করে স্মৃতির সঙ্গে লড়াই করতে থাকলে অনেক সময় সেটি আরও বেশি মাথায় ঘুরতে পারে। তাই নিজেকে বারবার এই কথা বলার পরিবর্তে যে, মানুষটিকে কোনোভাবেই মনে করা যাবে না, নিজের অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা ভালো। তার কথা মনে পড়লে নিজেকে দুর্বল ভাবার প্রয়োজন নেই। মনে পড়েছে, কারণ মানুষটি একসময় তোমার জীবনের একটি অংশ ছিল। কিন্তু সে এখনো তোমার প্রতিটি দিনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।নিজেকে সময় দেওয়াও জরুরি। জীবনের পরিচিত রুটিনে ফিরে আসা, নিজের পড়াশোনা বা কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়া, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন কিছু শেখা কিংবা আগে ভালো লাগত এমন কাজগুলো আবার শুরু করা ধীরে ধীরে জীবনের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে পুরোনো স্মৃতি একদিনে মুছে যায় না, কিন্তু স্মৃতির পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। যে জীবন একসময় একজন মানুষকে ঘিরে ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে অন্য মানুষ, নতুন অভ্যাস এবং নতুন আনন্দের জায়গা তৈরি হয়। প্রয়োজন হলে পুরোনো কথোপকথন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মানুষটির খবর বারবার দেখা থেকে কিছুটা বিরতি নেওয়াও সহায়ক হতে পারে। কারণ প্রতিনিয়ত পুরোনো স্মৃতির সামনে ফিরে গেলে মনকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমে যায়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের অনুভূতির জন্য নিজেকে দোষী না ভাবা। কেউ হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়, আবার কারও কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। সবার সম্পর্ক এক রকম নয়, সবার অভিজ্ঞতাও এক নয়। তাই অন্য কেউ কত দ্রুত অতীত ভুলে গেছে, তার সঙ্গে নিজের মানসিক অবস্থার তুলনা করা ঠিক নয়। সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আর মাঝেমধ্যে পুরোনো স্মৃতি ফিরে এলেই যে তুমি আবার আগের জায়গায় ফিরে গেছ, এমনও নয়। অনেক সময় এগিয়ে যাওয়ার পথেও পেছনের কিছু মুহূর্ত মনে পড়ে। পার্থক্যটা হলো, একসময় যে স্মৃতি তোমার পুরো দিনটিকে ভারী করে দিত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্মৃতির উপস্থিতি হয়তো আর তোমার বর্তমানকে আগের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।আসলে মানুষকে ভুলে যাওয়া মানে তার অস্তিত্বকে নিজের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা নয়। বরং এমন একটি অবস্থায় পৌঁছানো, যেখানে তার কথা মনে পড়লেও নিজের জীবন থেমে থাকে না। যেখানে পুরোনো কোনো গান শুনে মন খারাপ হতে পারে, কিন্তু সেই মন খারাপ তোমাকে সারাদিন আটকে রাখতে পারে না। যেখানে কোনো পরিচিত জায়গা পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়, কিন্তু তুমি বুঝতে পারো, সেই দিনগুলো অতীতের অংশ এবং তোমার সামনে এখনো অনেক নতুন দিন অপেক্ষা করছে।জীবনে কিছু মানুষ আসে আমাদের আনন্দ দিতে, কিছু মানুষ আসে আমাদের অনেক কিছু শেখাতে, আবার কিছু মানুষ থেকে যায় শুধু স্মৃতি হয়ে। সবাইকে চিরকাল পাশে পাওয়া যায় না, আর সব সম্পর্কের পরিণতিও আমাদের ইচ্ছামতো হয় না। কিন্তু কোনো সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেই সম্পর্কের সুন্দর মুহূর্তগুলো মিথ্যা ছিল, কিংবা সেই মানুষটিকে মনে পড়ার কারণে আমরা দুর্বল হয়ে পড়েছি। অনুভূতিগুলো সত্যি ছিল, স্মৃতিগুলোও সত্যি ছিল। শুধু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের বাস্তবতা বদলে গেছে।

তাই যাকে ভুলতে চাইছ, তাকে মনে পড়লে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু কোরো না। মনে রেখো, কাউকে মনে পড়া আর তার কাছে ফিরে যেতে চাওয়া এক বিষয় নয়। কাউকে মিস করা আর তাকে নিজের জীবনে আবার জায়গা দেওয়া এক বিষয় নয়। কখনো কখনো মন শুধু পুরোনো কোনো মুহূর্তকে মনে করে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেই মুহূর্তে ফিরে যাওয়াই তোমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।হয়তো একদিন মানুষটিকে পুরোপুরি ভুলে যাবে না, কিন্তু তাকে মনে পড়লেও আর আগের মতো কষ্ট হবে না। তার নাম শুনলে বুকের ভেতরটা আগের মতো ভারী হয়ে উঠবে না। পুরোনো স্মৃতিগুলো তখন আর তোমাকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না; বরং মনে করিয়ে দেবে, জীবনের একটি সময়ে তুমি কাউকে আপন ভেবেছিলে, কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছিলে, তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে শিখেছ।কারণ শেষ পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কাউকে ভুলে যাওয়া নয়; বরং এমনভাবে বাঁচতে শেখা, যেখানে অতীতের কোনো মানুষ তোমার বর্তমানের সুখ কেড়ে নিতে পারে না।


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community