জেনারেল রাইটিং ||| ফ্লোরমেট বানানোর অনুভূতি |||original writing by @saymaakter.
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই?আশা করছি আমার বাংলা ব্লগের প্রিয় ভাই ও বোনেরা পরিবারকে নিয়ে সুস্থ সুন্দরভাবে দিনগুলো অতিক্রম করছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
বরাবরের মতো আবারো হাজির হলাম আপনাদের মাঝে নতুন আরেকটি ব্লগ নিয়ে। আজ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি অনুভূতিমূলক পোস্ট "ফ্লোরমেট বানানোর অনুভূতি"।
প্রত্যেকটা মানুষের কোনো না কোনো আবেগ অনুভূতি থাকে। একেকজনের আবেগ অনুভূতি গুলো একেক রকম।প্রত্যেকটি পরিবারের প্রত্যেকটি নারীর এক একটি স্বপ্ন থাকে। নারীরা সবসময় চেষ্টা করে তার ঘরকে অন্যরকম ভাবে সাজাতে।তাইতো তার হাতের ছোঁয়ায় তার ঘর দেয়াল ঘরের প্রতিটি কোনা সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ নারীরা সব সময় চায় একটু ব্যতিক্রম কিছু তার ঘরে থাকুক।সবাই তার পরিপাটি জিনিস গুলোর সৌন্দর্য ও রুচিশীলের প্রশংসা করুন।নারীরা যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন তাদের কোন একটি কাজ যদি মাথার ভিতরে ঢুকে যে পর্যন্ত সেই কাজটি তারা না করে এই পর্যন্ত তাদের স্বস্তি লাগেনা।
মনে হয় এই কাজটি কখন করব কখন শেষ হবে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আজ যখন হঠাৎ একটু সময় পেয়েছি। সেই সময়টিকে কাজে লাগালাম। আর আপনারা সবাই অবগত আছেন আমাদের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে কাটিং করার সময় অনেক কাপড়ের টুকরো বের হয় এই অকেজো কাপড় গুলো মাঝে মাঝে ফেলে দিতেও খারাপ লাগে। কারণ প্রত্যেকটা কাপড়ের টুকরো থাকে ছোট না মোটামুটি অনেক বড় সাইজেরই।আমি যে কাপড়ের টুকরাগুলো যেটা বেশি বড় সেগুলো চেষ্টা করি রেখে দেওয়ার জন্য।আজ যখন পিওর ভয়েল কাপড় দিয়ে আমার ছেলের জন্য প্যান তৈরি করছিলাম তখন হঠাৎ কিছু কাপড় চোখে পড়ে গেল।
কারণ প্রচন্ড গরম এই গরমে বাচ্চাদের সব সময় মোটা কাপড় পরানো উচিত না। তাই কয়েকটি প্যান তৈরি করলাম সেই সাথে মনের মতো করে একটি ফ্লোর মেড তৈরি করে ফেললাম। কমলা রঙের কাপড় বেশ ভালই ছিল সেই কাপড় গুলো প্রথমে টুকরো করে নিয়েছি তারপর ভিতরে কিছু কাপড় দিয়ে তার ওপরে একটি ব্লু কালার কাপড় দিয়ে সাইডে কমলা রঙের কাপড় জয়েন দিয়ে সেলাই করে নিয়েছি। এরপর আবারো কমলা রঙের কাপড় দিয়ে কিছু ফুলের পাপড়ি বানিয়ে নিলাম। এরপর পাপোশের ঠিক মাছ বরাবর ভাঁজ করে নিয়ে দুই সাইডে দুইটা ফুল তৈরি করে নিলাম এবং সেই ফুল মেশিন এর মাধ্যমে চাপ সেলাই করে দিলাম।
প্রথমে ভেবেছিলাম শুধু পাতাগুলো এলোমেলো ভাবে দিব তারপরে দেখলাম সেভাবে কেন জানি ভালো লাগছে না। তারপরে ফুল তৈরি করে নিলাম। ফ্লোরমেট যখন তৈরি করছিলাম প্রথমে ভাবছিলাম অতটা হয়তোবা সুন্দর লাগবে না কিন্তু যখন এটা কমপ্লিট করলাম আমি নিজেও লুকিং দেখে অবাক হয়ে গেছি। এত সুন্দর হয়েছে ফ্লোর ম্যাট যা বলার বাইরে। আসলে কোন কাজ যদি মনোযোগ এবং ডিজাইনগুলো মাথার রেখে মনের মাধুরী সাজিয়ে কাজ করা যায় তাহলে অনায়াসে সেই কাজ সুন্দর হয়। তবে ফ্লোর মেটটি আমার অনেক ভালো লেগেছে। চেষ্টা করব অন্য ডাই নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হওয়ার জন্য।
আজ যাচ্ছি অন্য কোনদিন আবারো হাজির হব নতুন কোন ব্লগ নিয়ে সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমার পরিচয়
আমি মোছাঃ সায়মা আক্তার।আমি একজন ব্লগার, উদ্যোক্তা।কবিতা লিখতে, নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে এবং নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।আমি উদ্যোক্তা জীবনে সব সময় গ্রামের অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করি।আর এই অবহেলিত মহিলাদের কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রোভাইড করি এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি করছি।আর এসব কিছুর পিছনে আমার এই অবহেলিত মহিলাদের উৎসহ এবং উদ্দীপনায় সম্ভব হয়েছে।তাই সব সময় আমি অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে এবং অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে খুব ভালো লাগে।এজন্যই সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং তাদের সহযোগিতায় নিজেকে সব সময় সম্পৃক্ত রাখি।আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে স্টিমিটে যুক্ত হই।আমার বাংলা ব্লগে শুরু থেকে আছি এবং এখন পর্যন্ত আমার বাংলা ব্লগেই ব্লগিং করে যাচ্ছি।
🇧🇩আল্লাহ হাফেজ🇧🇩




