অন্যের ফিলিংস!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
কিছু কিছু মানুষকে মানে আসলে আমি আমার ফ্যামিলিতেই দেখেছি যারা নিজেকে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে আশেপাশের মানুষ কী অনুভব করছে সেটা নিয়ে যেনো তাদের কোনো চিন্তাই নেই।বিষয়টা আমার কাছে সত্যিই অনেক অদ্ভুত লাগে।কারণ একটা পরিবারে থাকলে তো শুধু নিজের কথা ভাবলেই হয় না।আশেপাশের মানুষগুলোরও অনুভূতি আছে,তাদেরও কষ্ট হয়, ভালো লাগে,খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু মানুষ যেনো নিজের প্রয়োজন আর নিজের অনুভূতির বাইরে আর কিছুই বুঝতে চায় না।আর সবসময় নিজের কথা ভাবা যে খারাপ এমন না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজন, শান্তি এবং ভালো থাকার বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু নিজের কথা ভাবতে গিয়ে যদি অন্য মানুষের অনুভূতিগুলোকে একেবারে গুরুত্বহীন করে দিই।তাহলে সেটা আর স্বাভাবিক আত্মযত্ন থাকে না।তো তখন ব্যাপারটা অনেক বেশি স্বার্থকেন্দ্রিক হয়ে যায়।আর ফ্যামিলির মধ্যে এই বিষয়টা আরও বেশি চোখে পড়ে। কারণ পরিবারে মানুষগুলো একে অন্যের খুব কাছের হয়।একজনের আচরণ অন্যজনের ওপর সহজেই প্রভাব ফেলে।সেখানে কেউ যদি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু করতে চায়।কিন্তু অন্য কারো কথা শুনতেই না চায়।তাহলে আস্তে আস্তে সম্পর্কের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়।
মানে কিছু মানুষ আছে যে এরা নিজের কোনো সমস্যা হলে সেটা সবাইকে বুঝতে হবে বলে মনে করে।কিন্তু অন্য কেউ কষ্ট পেলে সেটাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।আর নিজের মন খারাপ হলে সবাইকে সেটা বুঝতে হবে।কিন্তু অন্য কারো মন খারাপের কারণ জানতে চাওয়ার সময় এদের নেই।নিজের অসুবিধা তাদের কাছে অনেক বড় আর অন্যের অসুবিধা যেনো তেমন কোনো বিষয়ই না।আর আমার কাছে এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে অদ্ভুত লাগে।কারণ মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটা হচ্ছে অন্য মানুষের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা।সবসময় বুঝতে পারব এমন না।কিন্তু অন্তত চেষ্টা তো করা যায়।কেউ চুপ করে আছে কেনো,কারো আচরণ হঠাৎ বদলে গেছে কেনো,কেউ কোনো কথায় কষ্ট পেয়েছে কিনা এসব একটু খেয়াল করা দরকার।আর ফ্যামিলির মানুষদের ক্ষেত্রে তো এই খেয়ালটা আরও বেশি থাকা উচিত।কারণ বাইরের মানুষের সাথে হয়তো সব কথা বলা যায় না।কিন্তু পরিবারে অন্তত এমন একটা জায়গা থাকা দরকার যেখানে মানুষ নিজের অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব পাবে।সেখানে যদি নিজের মানুষই শুধু নিজের কথা বোঝে আর অন্যের কথা বুঝতে না চায়।তাহলে বিষয়টা সত্যিই কষ্টের।কিন্তু এমন মানুষদের সাথে থাকলে আমাদেরও একটা বিষয় বুঝতে হয়।আমরা কাউকে জোর করে সংবেদনশীল করে তুলতে পারব না।কেউ যদি সবসময় নিজের চিন্তার মধ্যেই থাকতে চায়।তাহলে তাকে বদলানো আমাদের একার দায়িত্ব না।নিজের অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন হলে নিজের সীমাটা ঠিক করা দরকার।আর আমার মনে হয় কি জানেন,নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকা স্বাভাবিক।নিজের সমস্যা নিয়ে ভাবাও স্বাভাবিক।কিন্তু আশেপাশের মানুষগুলোর অনুভূতিকে একেবারে বাদ দিয়ে শুধু নিজেকে নিয়ে থাকাটা কোনোভাবেই সুন্দর না।
কারণ আমরা কেউ একা থাকি না।আমাদের প্রতিটা আচরণই কোনো না কোনোভাবে অন্য মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে।আর সবশেষে আমার কাছে সবচেয়ে অদ্ভুত লাগে এই বিষয়টাই যে কিছু মানুষ সত্যিই যেনো নিজেকে আর নিজের প্রয়োজন ছাড়া আর কিছুই বুঝতে চায় না।অথচ একটু অন্য মানুষের জায়গায় দাঁড়িয়ে চিন্তা করলেই অনেক কিছু বোঝা যায়।নিজের জন্য যতটা অনুভূতি থাকে,অন্য মানুষের জন্যও যদি তার সামান্য অংশ থাকে।তাহলে সম্পর্কগুলো অনেক সুন্দর হতে পারে।নিজের কথা বোঝার পাশাপাশি অন্যের কথাটাও বোঝার চেষ্টা করা দরকার।কারণ পরিবারে শুধু একসাথে থাকাটাই যথেষ্ট না একে অন্যের অনুভূতিগুলোর প্রতিও একটু যত্ন থাকা দরকার।তাই না?

