ক্লিন মাইন্ড!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কারো কাছ থেকে সামান্য একটা উপকার পেলেও একদম মন থেকে ধন্যবাদ জানায়।আসলে বিষয়টা হয়তো খুব ছোট।কিন্তু তাদের ধন্যবাদ দেওয়ার ধরন দেখলেই বোঝা যায় যে মানুষটা সত্যিই কৃতজ্ঞ।আমার কাছে এই ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে।কারণ শুধু মুখে একটা ধন্যবাদ বলা না বরং অন্য একজন মানুষের করা কাজের মূল্য বুঝতে পারাটাও অনেক বড় একটা ব্যাপার।আর আমার মনে হয় যে যাদের মন অনেক বেশি পরিষ্কার থাকে তারা অন্য মানুষের ভালো কাজগুলো সহজেই দেখতে পারে।কেউ তাদের জন্য একটু সময় দিলে,কোনো কাজে সাহায্য করলে বা প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ালে তারা সেটা মনে রাখে।ওরা মনে করে না যে অন্য মানুষটা সাহায্য করবেই বরং ওরা বুঝতে পারে যে ওই মানুষটা নিজের সময়,শ্রম বা এফোর্ট দিয়ে তাদের জন্য কিছু করেছে।আর সেখান থেকেই কৃতজ্ঞতাটা আসে।

কিন্তু অনেক মানুষকে আবার দেখেছি যে ওরা কারো কাছ থেকে উপকার পাওয়ার পর সেটাকে এমনভাবে নেয় যেনো এটা তাদের পাওনাই ছিলো।কেউ তাদের জন্য অনেক কিছু করলেও সেটার কোনো মূল্য দেয় না।একটা সময় এমনও মনে হয় যে যতো বেশি সাহায্য করা হয় ততো বেশি তারা সেটাকে স্বাভাবিক ধরে নেয়। পরে আবার সাহায্য না করলে উল্টো অভিযোগও করতে পারে।আর আমার কাছে এই জায়গাটাই খুব অদ্ভুত লাগে।কারণ কেউ আমাদের জন্য কিছু করতেই বাধ্য না।একজন মানুষ নিজের ইচ্ছায় আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে,আমাদের কোনো কাজে সাহায্য করছে,আমাদের সমস্যার সময়ে সময় দিচ্ছে,এটা তো তার নিজের ভালো মন থেকেই করছে।সেখানে অন্তত সেই এফোর্টটুকুর সম্মান করা উচিত।আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে খুব বড় কিছু লাগে না।অনেক সময় শুধু একটা মন থেকে বলা ধন্যবাদই যথেষ্ট।কিন্তু সেই ধন্যবাদটা যখন সত্যি মন থেকে আসে।তখন সেটা শুনতেও ভালো লাগে।মানে মনে হয় যে আমার করা কাজটা মানুষটা বুঝতে পেরেছে।আমার সময় বা পরিশ্রমটা তার কাছে মূল্যহীন হয়নি।

আর আসলে আমি মনে করি যে অন্যকে রেস্পেক্ট করতে পারাটাও মানুষের মনের একটা সুন্দর দিক প্রকাশ করে।যার নিজের মধ্যে অহংকার বেশি থাকে সে অনেক সময় অন্যের উপকার স্বীকার করতেও অস্বস্তি বোধ করে।হয়তো মনে করে যে ধরেন অন্যকে ধন্যবাদ দিলে নিজের অবস্থান ছোট হয়ে যাবে।অথচ বাস্তবে কাউকে ধন্যবাদ দেওয়ার মধ্যে ছোট হওয়ার কিছু নেই বরং এতে বোঝা যায় যে আমরা অন্য মানুষের ভালো কাজের মূল্য দিতে জানি।আবার কৃতজ্ঞ হওয়া মানে এই না যে সারাজীবন কারো কাছে ঋণী হয়ে থাকতে হবে।শুধু কেউ আমাদের জন্য ভালো কিছু করেছে সেটা স্বীকার করা এবং সম্মান করা।একজন মানুষ আমাদের জন্য সামান্য কিছু করলেও সেটা মনে রাখা যায়।পরে সুযোগ হলে আমরাও তার পাশে দাঁড়াতে পারি।আর আমার মনে হয় যে পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে এই কৃতজ্ঞতাবোধটা আরও বেশি থাকা দরকার।কারণ আমরা যদি অন্যের ভালো কাজের মূল্য দিতে শিখি।তাহলে সম্পর্কগুলোর মধ্যেও একটা সুন্দর সম্মান তৈরি হয়।কেউ সাহায্য করলে সেটা স্বাভাবিক ধরে না নিয়ে তার এফোর্টটাকে বুঝতে পারা দরকার।আর একজন মানুষের চরিত্র বোঝার জন্য সে অন্য মানুষের কাছ থেকে কী নেয় শুধু সেটাই দেখার বিষয় না।সে নেওয়ার পর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাও অনেক কিছু বলে।কেউ যদি মন থেকে ধন্যবাদ দিতে পারে,অন্যের এফোর্টকে সম্মান করতে পারে।তাহলে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে তার মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ আছে।আর আমার কাছে এই গুণটা সত্যিই অনেক সুন্দর।কারণ পরিষ্কার মন থাকলেই হয়তো মানুষ অন্যের ভালো কাজটুকুও পরিষ্কারভাবে দেখতে পারে।

ABB.gif