প্রেমিকা বানাতে চান? একটা মেয়েকে টাকা ধার দিন!
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।

থিবীতে প্রেম নিবেদনের কত শত উপায় আছে! কেউ একগুচ্ছ লাল গোলাপ দেয় কেউবা রিকশার হুড ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। আবার কেউ লুকিয়ে চিঠি লেখে বা দামি রেস্তোরাঁয় ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজন করে। কিন্তু বর্তমানের এই চূড়ান্ত বাস্তববাদী যুগে এসব পুরোনো কৌশল যেন কিছুটা ক্লিশে বা একঘেয়ে হয়ে গেছে। মনের মানুষটির দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আজকাল সমাজে এক অদ্ভুত কিছুটা হাস্যকর কিন্তু ভাবিয়ে তোলার মতো সমীকরণ বেশ চর্চিত হচ্ছে। সমীকরণটি হলো ‘প্রেমিকা বানাতে চান? তাহলে পছন্দের মেয়েটিকে কিছু টাকা ধার দিন!’
শুনতে খুব অদ্ভুত লাগছে তাই না? হয়তো একটু হাসিও পাচ্ছে। কিন্তু একটু গভীরভাবে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে দেখবেন এই কথার পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্যরকম বাস্তবতা।
যেকোনো মানবীয় সম্পর্ক টিকে থাকে যোগাযোগের ওপর। আপনি যখন পছন্দের কোনো মানুষকে টাকা ধার দেন তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনাদের মাঝে একটা অলিখিত অথচ মজবুত যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হয়ে যায়। যে মেয়েটি হয়তো আগে আপনার মেসেজের রিপ্লাই দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা কখনো দিন পার করে দিত টাকা ধার নেওয়ার পর সে নিজেই হয়তো আপনার নিয়মিত খোঁজ নেবে। কারণ তার অবচেতন মনে একটা দায়বদ্ধতা কাজ করবে। এই ‘ধার’ জিনিসটা অনেকটা আঠার মতো কাজ করে। পাওনা টাকার সূত্র ধরে আপনার কাছেও তার সাথে কথা বলার একটা দারুণ ও ‘বৈধ’ অজুহাত তৈরি হয়ে যায়। "কেমন আছো? দিনকাল কেমন যাচ্ছে? কালকের দিনটা কেমন কাটলো?" এই সাধারণ প্রশ্নগুলোর আড়ালেই হয়তো সম্পর্কটা একটু একটু করে গভীর হতে থাকে।
মানুষ যখন কারও কাছে ঋণী থাকে তখন সে স্বাভাবিকভাবেই একটু সংবেদনশীল বা দুর্বল অবস্থানে থাকে। মেয়েটি হয়তো তার জীবনের ছোটখাটো সমস্যা পারিবারিক বা আর্থিক টানাপোড়েন আপনার সাথে শেয়ার করতে শুরু করবে। এই শেয়ারিংয়ের মাধ্যমেই তৈরি হয় মানসিক নির্ভরতা। আপনি তার বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন এই বিষয়টা তাকে আপনার প্রতি চরম কৃতজ্ঞ করে তুলবে। আর আমরা সবাই জানি অনেক সময় গভীর কৃতজ্ঞতা থেকেই ভালোবাসার জন্ম হয়। মেয়েটি হয়তো ভাবতে শুরু করবে "এই মানুষটা অন্য সবার চেয়ে আলাদা স্বার্থহীনভাবে সে আমার বিপদে ছায়ার মতো পাশে ছিল।"
কিন্তু মুদ্রার তো উল্টো পিঠও আছে! ছবিতে যেমনটা একটি গভীর প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে "ভালোবাসা নাকি বিনিময়?"। সম্পর্ক যখন শুরুতেই টাকার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তখন সেখানে একটা বিরাট প্রশ্নচিহ্ন আজীবন রয়ে যায়। এই যে মেয়েটির আপনার প্রতি এত মনোযোগ এই যে রাতের পর রাত জেগে কথা বলা এটা কি সত্যিই আপনার প্রতি তার ভালোবাসার কারণে নাকি ধারের টাকার একটা মানসিক চাপের কারণে? একটা সময় হয়তো আপনি নিজেই দ্বিধায় পড়ে যাবেন। সে কি সত্যি আপনাকে ভালোবাসে নাকি শুধু আপনার মানিব্যাগের নির্ভরতাটুকু ভালোবাসে?
আর ধারের টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টা তো আরও জটিল ও মধুর এক সংকট। টাকা ফেরত চাইলে হয়তো সম্পর্কটাই তেতো হয়ে ভেঙে যাবে মেয়েটি ভাববে আপনি ছোট মনের মানুষ। আর টাকা না চাইলে আপনার নিজের পকেট ফাঁকা হতে থাকবে। অনেক সময় দেখা যায় ধারের টাকা শোধ করার ভয়েই মেয়েটি আপনার সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে যা এক ধরণের ‘টক্সিক’ বা অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের জন্ম দেয়।
তাই পরিশেষে বলা যায় "টাকা ধার দিয়ে প্রেমিকা বানানো" বিষয়টা শুনতে বেশ রোমাঞ্চকর মজার বা চটজলদি উপায় মনে হলেও এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। সত্যিকারের ভালোবাসা কখনোই কোনো আর্থিক লেনদেন বা দেনা পাওনার ওপর নির্ভর করে না। এটি গড়ে ওঠে পারস্পরিক বিশ্বাস সম্মান আর আত্মার অনুভূতির ওপর। টাকা হয়তো সাময়িকভাবে কাউকে আপনার কাছাকাছি আনতে পারে আপনার সাথে কথা বলার বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে কিন্তু একটা দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য টাকার চেয়ে হৃদয়ের টানটাই বেশি জরুরি।
তাই মনের মানুষটিকে ইমপ্রেস করতে চাইলে তাকে টাকা নয় বরং আপনার সত্যিকারের ভালোবাসা সময় আর সম্মান উপহার দিন। ধার দেওয়া টাকা হয়তো কখনো না কখনো ফেরত পাওয়া যায় কিন্তু ধারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভালোবাসার কোনো গ্যারান্টি নেই!
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR

