কিছু চিন্তা-ভাবনায় সীমাবদ্ধতা আনা প্রয়োজন।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ দেখতে পাওয়া যায় যাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে কোন সীমাবদ্ধতা নেই। এমনকি আমরাও মাঝেমধ্যে একটা জিনিস ভাবতে ভাবতে দেখা যায় অনেক কিছু ভালো চিন্তা করে ফেলি। আসলে চিন্তাভাবনা এমন একটা জিনিস যার কোন দাড়ি কমা থাকে না আবার সীমা থাকে না। আসলে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে এমন কিছু ধরনের চিন্তাভাবনা দেখতে পাওয়া যায় যে একটা জিনিস বা একটা ঘটনা দেখে তার একদম বিস্তারিত ঘটনা তৈরি করে দেয়। সে ঘটনা সত্যি বা মিথ্যে এবার সেই জিনিসটার কোন অস্তিত্ব আছে কিনা সেটা কোনভাবেই জানাবে বোঝার প্রয়োজন কিছু কিছু মানুষের মনে হয় না। আসলে মানুষ এমন একটা জীব তারা শুধু নিজেদের চিন্তাভাবনা করতেই ব্যস্ত থাকে আর নিজেদের স্বার্থ নিয়ে এই ভাবতে থাকে। অন্য কারো সম্পর্কে কোন খারাপ কথা চিন্তা করার আগে তাদের মধ্যে বোধ বুদ্ধি থাকে না যে তার এতদূর চিন্তা ভাবনা করার প্রয়োজন আছে কিনা অথবা একটা সামান্য জিনিস নিয়ে এতটা পরিমাণ বিস্তারিত ভাবনা চিন্তার কোন দরকার আছে কিনা। কিছু কিছু মানুষের এতটাই বিস্তারিত কল্পনা করতে পারে যে তার মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা না থাকা সত্ত্বেও তারা অনেক কিছুই ভাবনা চিন্তা করতে থাকে।
আর এই ভাবনা চিন্তার জন্য যদি কারোর জীবনে ভীষণভাবে ক্ষতি নেমে আসে তাও সেই মানুষটির বিন্দুমাত্র কোন কষ্ট বা আফসোস হয় না যে সে এমন কাজটা কেন করল। বর্তমানে মানুষ এতটাই স্বার্থপর হয়ে গেছে যে সে শুধু নিজের কথা চিন্তা করে আর অন্যের নামে দোষ দেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবনা চিন্তা করে না। এসব মানুষ শুধুই চিন্তা করে নিজের গায়ে যেন দোষ না লাগে আর নিজে সবসময় সঠিক এবং সত্য প্রমাণ করার চেষ্টায় থাকে যতই সে খারাপ কাজ করুক না কেন বা অন্যের উপর অন্যায় করুক না কেন। অন্যায় কাজ করার সময় কিছু মানুষ কোন ভাবনা চিন্তা করে না কিন্তু তার ফল যখন আসে তখন এমন নিষ্পাপ আচরণ করে যেন সে কোন কিছুই করেনি অন্য সবাই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। আসলে এই পৃথিবীতে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে ষড়যন্ত্র করে সেই সব সময় অন্যকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে গণ্য করতে থাকে। অন্যের ঘাড়ে কিভাবে দোষ দেওয়া যায়? নিজের দোষ বা পাপের ভাগী কি করে অন্যকে করা যায় এই ব্যাপারে কিছু কিছু মানুষ খুবই কৌশলী হয়ে থাকে। আসলে বর্তমানে পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন হোক এমনকি নিজের পিতা-মাতা সকলের থেকেই একটা সুরক্ষিত দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে যেন তারা আমাদের কোন রকম ক্ষতি অথবা স্বার্থসিদ্ধির উপায় বলে মনে করতে না পারে।
বর্তমানে বাবা-মায়েরাও এত বেশি স্বার্থপর হয়ে উঠছে যে তাদের মধ্যে মায়া-মমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং বিভিন্ন কারণে নিজের সন্তানকেই ভুল বুঝে চলেছে ও দোষারোপ করে চলেছে। সামান্য একটা জিনিস দেখে বিভিন্নভাবে সেই ঘটনাটির সাথে আরো কিছু কাহিনী জুড়িয়ে সন্তানকে দোষারোপ করছে নিজের বাবা। আসলে বর্তমান সমাজে বাবা মা হয়ে উঠছে ভীষণভাবে স্বার্থপর আর শুধুমাত্র স্বার্থের কারণেই বর্তমানে দেখা যায় বিভিন্ন দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়া হয় অথবা পুত্র সন্তান বা কন্যা সন্তান ঈশ্বরের কাছে দাবি করছে। বর্তমান সমাজের চারিদিকে মানুষের যতটা হিংস্র এবং চিন্তাভাবনার ওপর সীমাবদ্ধতা ভুলে যাচ্ছে তাতে করে দেখা যাচ্ছে সম্পর্ক খুবই সহজেই নষ্ট হতে দেখা যায়। মানুষের চিন্তা ভাবনার মধ্যে কোন সীমাবদ্ধতা না থাকায় মানুষ এত পরিমাণ এবং অতিরিক্ত নিজের মনগড়া চিন্তা ভাবনা করছে যাতে বাস্তবতার সাথে কোনই সম্পর্কযুক্ত থাকে না। আর এই চিন্তা ভাবনার কারণেই মানুষের মস্তিষ্কে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
আসলে মানুষ যেরকম ভুল চিন্তা-ভাবনা করছে এতে শুধু তার নিজের ক্ষতি হচ্ছে না তার যেমন মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি তার সাথে থাকা আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সম্পর্কেরও ক্ষতি হচ্ছে। আর এর ফলেই মানুষ হয়ে যাচ্ছে সম্পূর্ণ একা আর নিঃসঙ্গ। নিঃসঙ্গতার ফলে মানুষ আরো অসহায় ও বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে পড়ছে যা মানুষ নিজেও বুঝতে পারছে না। অন্যকে দোষারোপ করতে থাকে যে তাকে কেউ দেখেনা বা তার অসময়ে কেউ পাশে থাকে না কিন্তু এরা কোনভাবেই বোঝেনা যে সে কজনের বিপদে বা দু সময়ে পাশে ছিল। সে অন্য কারোর অসময়ে বা খারাপ সময় যেমন পাশে ছিল না তেমনি তার কর্মফল অনুযায়ী তার পাশে খারাপ সময়ে কেউ থাকছে না। মানুষ সব সময় নিজের কর্মফল ভুলে যায় এবং এই যে অতিরিক্ত চিন্তার ফলে সে খারাপ কাজ করে ফেলছে সেগুলো কখনো চিন্তাভাবনা করে দেখেনা। তাই আমাদের সব সময় ভালো কর্মের এবং ভালো চিন্তার প্রতি খেয়াল করা উচিত আর খারাপ কর্ম ও খারাপ চিন্তা ভাবনার প্রতি সীমাবদ্ধতা রাখা উচিত।
ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

