জেনারেল রাইটিং : আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস।
সবাইকে শুভেচ্ছা,
বন্ধুরা, আশাকরি সবাই ভালো আছেন? আজ প্রায় চার মাস পর আমার বাংলা ব্লগে হাজির হলাম। চার মাসে অনেক ঘটনা ঘটেছে, দেশে এবং বিদেশে। ব্যক্তি জীবনেও অনেকের অর্জন-প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি ছিল।আমাদের প্রাপ্তি - অপ্রাপ্তি যাই ঘটুক, জীবন বহমান। থেমে নেই। গন্তব্যে ছুটে চলছে। চারপাশে এত ঘটনা ঘটেছে, কোনটা ছেড়ে কোনটা নিয়ে আলোচনা করি সেটাও একটা সমস্যা। সব ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে এক সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া শিশুর নৃশংস হত্যা আমাকে স্তম্ভিত করেছে। অবশ্য এরকম নৃশংস ঘটনায় আমরা কয়েকদিন পর পরেই স্তম্ভিত হয়ে যাই। সারাদেশে যখন সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু তাজমিনের হত্যাকান্ড নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে এবং সেই আলোচনা সমালোচনার উপর দাঁড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। বন্ধুরা, আমার বাংলা ব্লগে আমার আজকের জেনারেল রাইটিং এর বিষয় আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। আশালরি সাথেই থাকবেন।
পৃথিবীর মানুষ চিন্তা চেতনা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়েছে অনেক যোজন যোজন দূরে কিন্তু একটা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি, সেটা হচ্ছে নারী ও কন্যাশিশু।ব্যতিক্রম আছে।তা অপ্রতুল। বিশেষ করে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশ গুলোতে।বাংলাদেশের বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে কন্যাশিশু সম্পর্কে সংখ্যাগরিষ্ঠের দৃষ্টিভঙ্গি, লিঙ্গবৈষম্য, খুন, ধর্ষণ, বিদ্যমান। নিরাপত্তা, আর্থিক নিরাপত্তা, বেড়ে উঠার পরিবেশ শিশুবান্ধব নয়। কন্যাশিশু তো দুরের কথা। শহরে কিছুটা উন্নত হলেও গ্রামে শিশুদের বিকাশের তেমন সুযোগ সুবিধা নেই। আমাদের দেশে কন্যাশিশুদের বিকাশের আর একটা বড় অন্তরায় অপুষ্টি ও বাল্য বিয়ে।
এবারের কন্যাশিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য 'বাল্যবিয়ে বন্ধ করুণ এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুণ।আসলেই মেয়ে বা কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে আমরা যে আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাই তা কোন দিনেই সম্ভব হবেনা। কন্যাশিশুর উপর সকল প্রকার অন্যায়,অতাচার,বৈষম্য, খুন,ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিশুই আগামীর বাংলাদেশ। আসুন কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় সবাই সোচ্চার হই-আওয়াজ তুলি।
বন্ধুরা, আজ এই পর্যন্ত। আবার কথা হবে অন্য কোন ব্লগে। সবাই সুস্থ থাকুন নিরাপদে থাকুন।
