মা এর সাথে কেনাকাটা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি পুজোর কেনাকাটা বিষয়ে কিছু মুহূর্ত।।
গতকাল বেশ অনেকদিন পরে মায়ের সাথে মার্কেটে বেরিয়েছিলাম। মা সাধারণত মার্কেটে বার হয় না, কেনাকাটা করতে হলেও আমাকে আর বাবাকে দিয়েই করে। একেবারেই ঘরকুনো মানুষ, তা বহুবার পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করেছি। গতকাল একটু জোর করে এই বার করেছিলাম মাকে।
গতকাল পার হওয়ার পিছনের কারণ ছিল মায়ের জন্য কিছু কুর্তি দেখা। মা সাধারণত শাড়ি পড়ে কিন্তু ঘুরতে গেলে আমি জোর করে মাকে কুর্তি কিংবা চুরিদার পরিয়ে থাকি। সামনে একটা ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান চলছে। এ কারণে কালকে একটু শপিং করা হয়েছে আর কি। মায়ের সাথে শপিং করতে বেরিয়ে প্রচুর দোকান ঘোরা হয়। প্রথমে আগমনী বাসন্তী গিয়ে সেখানে মা নিচের ফ্লোর থেকে ঘুরে চলে আসলো। মায়ের রিকোয়ারমেন্ট হলো কুর্তি হবে গলা ঢাকা কলার দেওয়া, হাতে পট্টি থাকবে , লং হবে সামনের দিকে বোতাম থাকবে।
এই এতকিছু বিষয় একটা কুর্তিতে উপস্থিত এরকম করতে খুঁজতে গেলে তো দোকানদারের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই পুজোর বাজার। যদিও আমরা সকালের দিকে গিয়েছিলাম। তাও দোকানের পরিস্থিতি খারাপ ছিল। প্রচুর ভিড় ছিল। ওই দোকানের না পেয়ে আমরা আবার যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয়ে আসলাম। সেখানেও মায়ের মনমতো হলো না। উপরন্ত প্রচুর দাম চাইছিল।
মায়ের মুড খারাপ হয়ে গেল, মা বুঝতে পারলো মনে হয় মায়ের আর কুর্তি হবে না। তাই মায়ের মুখ ঠিক করতে আমি যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয়ের নিচে মিও আমোর এর আউটলেটে ঢুকলাম। ওখান থেকে দুজন মিলে একটা কেক কিনে খেলাম।
আবার ওখান থেকে টোটো নিয়ে চলে গেলাম এক্সপ্রেস বাজারে। আমার মন বলছিল ওখানে মায়ের জন্য কুর্তি পছন্দ হয়ে যাবে। কারণ ওখানে দেখানোর ব্যাপার নেই। সবকিছুই টাঙানো থাকে। মেয়েদের সেকশান দোতলায়। যেতেই প্রচুর প্রচুর কুর্তি মায়ের পছন্দ হতে লাগলো। যেমনটা চাইছিল সেরকমই প্রচুর অপশন ছিল। এক এক করে মা ট্রাই করতে লাগলো। তারপর তো তিনটে কুর্তি নেয়া হলো। তার সাথে নেয়া হলো দুটো প্যান্ট। মা দুটো ওড়না কিনলো।
এসব করতে করতে হঠাৎ করে মায়ের একটু জুয়েলারি সেকশনে নজর পড়াতে, ওখান থেকে মা দুটো সুন্দর গোল্ড প্লেটেড চুরি, কানের দুল, আর আমি আমার জন্য একটা ব্রেসলেট নিলাম।
সব করে ক্যাশ কাউন্টারে লাইন দেখে মাথা ঘুরছিল। এত বিরাট লাইন পড়েছে। লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতেই দুপুর পার হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু করার নেই, লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে বিল করা হলো। টোটাল বিল দাঁড়ালো ৩৬৭০ টাকা। ভারতীয় দাম অনুযায়ী মোটামুটি ৬১১ টি স্টিম।
যাই হোক এত কম টাকা আর এত বেশি স্টিম আমার কাছে সত্যিই দুঃখজনক। যদিও আমি স্টিম কাজে লাগিয়ে জিনিসপত্র কিনিনি। তবুও এই হিসাব করতে গিয়ে এই মনটা খারাপ লাগছে। একটা সময় যেখানে একটা স্টিম ৮০/ ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, আর তার কি হাল। যাকগে, সেসব কথা থাক।
ওখান থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ির দিকে রওনা হতে হবে কারণ দুপুর তিনটে বেজে গেছে। বেরিয়েছিলাম মোটামুটি বারোটা নাগাদ। তিন ঘন্টা সময় এসবই করে বেড়ালাম। বাড়ি গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপার আছে। ঈশান আর বাবা বাড়িতে চলে এসেছে, তাই টোটো করে সোজা বাড়ির দিকে আবার রওনা হলাম। গতকাল যে কটা ছবি তুলেছি সে কটা ছবি শেয়ার করছি।। আজকে এখানেই শেষ করছি ।সকলে ভালো থাকুন।।




