বোনের জন্মদিনে দুপুরের আয়োজন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবার নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকের পোস্টে বোনের জন্মদিনের কিছু কেনাকাটার মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আসলে মন চাই অনেক কিছুই জিনিস দিতে ।কিন্তু আমাদের মত মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিতে চাইলেই সবকিছু পাওয়া যায় না। আসলে একের পর একেক একেক জনের জন্মদিনে সমস্ত জিনিস দিতে দিতেই আমি মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কারণ আমার পরিবারের সকলকে আমি নিজের টাকাতে দিতেই বেশি পছন্দ করি। বছর শুরু হতেই সকলের জন্মদিন শুরু হয়ে যায় সেগুলো মেটাতে মেটাতে সত্যিই আর পারা যায় না ।তাতে আবার সামনে চলে আসছে পুজো পুজোতে একটা বড় কেনাকাটা তো থাকেই। সারা বছর কম বেশি খরচ লেগেই থাকে। তবে নেমন্তন্ন মেটাতে মেটাতেই আমাদের মতো বাঙালীরা মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে পড়ি। যাই হোক সেদিন আমি মামার বাড়িতে যাওয়ার পর দেখি আমার মা এসেছে। এদিকে মা আসবে আমি জানিনা মাকে দেখে তো আমি অবাক।
আসলে দু-তিন দিন ধরে মায়ের সাথে সেভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি। সেভাবে কথা হয়নি। তাই মা আমাকে বলে উঠতে পারিনি যে সে আসবে। মাকে দেখতে পেয়েও ভীষণ খুশি হয়েছিলাম ।এদিকে আমার কেনা সমস্ত জিনিস দেখে সকলেই খুশি। বোনতো সাথে সাথে আমার জামাটাই পড়ে নিল সেই জামাটা পড়েই নাকি দুপুরের খাবার খাবে। এদিকে কোন কিছুর আয়োজন করা শুরু হয়নি। আমি গিয়ে সমস্ত কিছু অ্যারেঞ্জ করছিলাম। আসলে প্রত্যেক বছরই আমি দেরি করে যাই বলেও বোনের ভীষণ রাগ হয়। তাই আমাকে দুপুর একটা নাগাদই ফোন করেছিল দিদি তুই কখন আসবি। আসলে দিদি থাকলে হয়তো মনে সাহসটা বাড়ে। নয়তো বোন মামিকে ভীষণ ভয় পায়। মামীর মুখের উপর একেবারেই কথা বলার ক্ষমতা থাকে না। আর আমি কোন কিছু বললে মামী একেবারেই না করতে পারে না।
আমি সমস্ত কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে দিয়েছিলাম। বোন ভীষণ খুশি হয়েছিল ।এভাবে কোন বছরই সাজানো হয় না। সেদিন পিসিকে পেয়েছিল তাতে তো আরও খুশি হয়েছিল। যাই হোক দুপুরে সমস্ত আয়োজন কমপ্লিট করে এরপর শুরু হয়েছিল এক এক করে আশীর্বাদ পর্ব। বড়োরা প্রত্যেকে আশীর্বাদ করে নিয়েছিল। দুপুরে সেভাবে কাউকে নেমন্তন্ন করা হয়নি। সকলে নিমন্ত্রণ ছিল রাত্রিবেলায়। বোন কে খেতে দেওয়ার আগে আমার বর মশাই এসে হাজির হয়েছিল। তার নাকি তারা ছিল কাজে বেরোবে। কিন্তু সে বোনের খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিল। দুজনেই একসাথে বসে খেয়ে নিয়েছিল। দুপুরে ওদের খাওয়ার পর আমরা সকলে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিয়েছিলাম ।কারণ রাতে ছিল আসল অনুষ্ঠান।
এখনকার দিনে জন্মদিন মানেই ছোট খাটো একটা অনুষ্ঠান লেগে যায় বাড়িতে। আমাদের বাড়িতেই আমাদের প্রত্যেক বোনকে যদি নেমন্তন্ন করে তাহলেই আর বাড়িতে জায়গা দেওয়া যাবে না ।এমনিতেই মনে হবে বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান চলছে। যাই হোক সেদিনের দুপুর বেলাটা খুব ভালোভাবে কেটে গিয়েছিল । দুপুরের অনুষ্ঠানে সকলেই ভীষণ আনন্দ করে ছিল।এরপরে সন্ধ্যার মুহূর্ত পরের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

