পুজোর কেনাকাটা এর প্রথম দিন
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আশা করি সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন ।আমরা একটি বছর অপেক্ষা করে থাকি এই বিশেষ দিনটির জন্য ।যেহেতু আমরা সনাতন ধর্মী, আমাদের বড় ধর্মীয় উৎসব হলো "শারদীয় দুর্গাপূজা"।
কথায় আছে " ১২ মাসে ১৩ পার্বন" । প্রতি মাসেই কিছু পূজা পার্বণ থাকে। বিভিন্ন উৎসবের মাঝে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব দুর্গাপূজা। দূর্গা পূজা বছরে দুই বার হয়ে থাকে। শরৎ কালে আশ্বিন মাসে "মহিষাশুর মরদীনী" দেবী দুর্গা রূপে পূজা করা হয় ।
বসন্ত কালে যে দূর্গা হয় তাকে বাসন্তী পূজা বলে । শরৎ কালের দূর্গা উৎসব খুব ধুমধাম করে উৎযাপন করা হয় । এই উৎসব নিয়ে সকলের অনেক পরিকল্পনা থাকে। এই দিনে সবার সাধ্যমত পরিবারের সদস্যদের এবং সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে থাকেন।
তবে এখনকার কেনাকাটা আর ছোটবেলার কেনাকাটার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।তখন কোন দায়িত্ব নিতে হয়নি , সংসারের চিন্তা ছিল না, কোন দায়িত্ব নিতে হয়নি ,শুধুমাত্র নিজের পছন্দের পোশাকটা পেলে অনেক খুশি হতাম ।
![]() | ![]() |
|---|
ছোটবেলাতেই আমার ঠাকুরমা-দাদুকে হারিয়েছি এবং দিদা-দাদুর স্মৃতি মনে পড়ছে না। বাবার বাড়ি থেকে কিংবা মামার বাড়ি থেকে আমাদের পুজোর পোশাক পাওয়ার কোন স্মৃতি মনে পড়তো না। শুধুমাত্র বাপির দেয়া এবং দাদার দেয়া উপহার পেয়ে আমরা অনেক খুশি ছিলাম।
যখন সংসার ধর্মে পা দিলাম, আস্তে আস্তে সংসারের দায়িত্ব নিতে শিখলাম ,এখন পূজোর কেনাকাটার ধারণা পরিবর্তন হয়েছে । এটা শুধু আমার পরিবর্তন নয় , এটা সকল বিবাহিত মেয়েদেরই এই পরিবর্তন হয়ে থাকে ।
এখন পুজোর বাজার মানে হল ,পরিবারের সকল সদস্যের চাহিদা গুলো আগে দেখা, সংসারের প্রয়োজনের জিনিস কেনা , তারপরে হলো নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস দেখা । সন্তানের পছন্দের গুরুত্ব দেওয়া।
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতনে পুরো মাস চালাতে হয় ।বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির যা আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে দিন দিন । পুজোতে আমরা বোনাস পেয়ে থাকি , সেই বোনাস দিয়ে সকল দায়িত্ব গুলো পালন করার চেষ্টা করি। এবার পূজার আমারও সবথেকে শুরুতে কেনাকাটা দিয়ে আমার পুজোর বাজার শুরু করে সেটা হল আমার জন্য
![]() | ![]() |
|---|
পূজোর বাজারের তালিকায় প্রথমে রাখি আমার ঠাকুর ঘরের জন্য প্রয়োজনের সামগ্রী । আমি ঠাকুর ঘরের সমস্ত কিছু পিতলের রাখার চেষ্টা করছি। পিতলের থালা বাসন কিংবা পিতলের বিগ্রহ এগুলো আমার অনেক ভালো লাগে। এগুলো পরিষ্কার রাখা একটু কষ্টসাধ্য তাও আমার কাছে অনেক প্রিয়।
সংসারের জীবন এত বছর হলেও আমি সেরকম কোন কিছু গুছিয়ে নিতে পারিনি । আমাদের তিন বছর পর পর পোস্টিং হয়ে যেত তাই আমরা সেভাবে কোন কিছু আয়োজন করতে পারিনি। এখন যেহেতু স্থায়ী হয়েছিল তাই ঠাকুর ঘুরে সমস্ত কিছুই পিতলের জিনিসপত্র সংগ্রহ করছি ।
পিতলের রাঁধা গোবিন্দের বিগ্রহ ,গোপাল সোনার বিগ্রহ ও লক্ষ্মী মায়ের বিগ্রহ সংগ্রহ করেছি। আর্মি বাবু শুক্রবার ছাড়া সময় পায় না তাই আমাদের শুক্রবার দিনটি পূজোর বাজার করার জন্য উত্তম সময় ।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান করে ,ঠাকুর পুজো দিয়ে, আমরা জিয়া উদ্যান চলে যাই। ওখানে প্রতি শুক্রবার সকালে গীতা পাঠ হয় এবং ধর্মীয় আলোচনা হয় ।সেখানে অংশগ্রহণ করি ।অনেক দাদাভাই এবং দিদিভাইদের সাথে পরিচিত হই।
![]() |
|---|
আমরা সিএনজি এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টি নেমেছে। আমরা জিয়া উদ্যানের ভিতরে কিছু সময় অপেক্ষা করি। বৃষ্টি থেমে যাবার পরে একটি সিএনজি নিয়ে শাঁখারী বাজার চলে যাই । এখানে পিতলের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও ঠাকুরের জিনিস পাওয়া যায়।
এখানে পুজোর সামগ্রী কেনার অনেক দোকান রয়েছে। সেখান থেকেই সবকিছু আমাদের কিনতে হয়। সাধারণত ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ততটা পাওয়া যায় না । কিন্তু বর্তমানে পিতলের মূল্য এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে বলার মতো না । যাইহোক , আমার লক্ষী ঠাকুর আছে তাই আমার খুব ইচ্ছে করছে পিতলের নারায়ণ ঠাকুর ও ছোট্ট একটি সরস্বতী ঠাকুর আনার ।
একটি পিতলের ঘট দেখে খুব ভালো লাগলো , আমার একটি পিতলের ঘট আছে তারপরও একটি ঘট নিলাম।কারন পুজো করার সময় ঠাকুর দাদা দুটো ঘট চেয়ে থাকেন। তাই আমি বাড়তি আরেকটি ঘট নিলাম। পিতলের একটি পান নিলাম কারণ আমিতো পান খাই না, বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর ঘটে পান দিতে হয় ।
সবকিছু মিলিয়ে আমার বাংলা টাকায় বিল আসলো ১০,৮৬০ টাকা (BDT) । এই টাকা সম্পূর্ণই আমার জমানো টাকা । কিছু টাকা, হাত খরচ থেকে অল্প অল্প করে জমিয়ে রেখেছিলাম এবং স্টীমিট প্ল্যাটফর্ম থেকে কিছু টাকা তুলেছিলাম সেই টাকা দিয়ে কিনেছি।
সত্যি কথা বলতে ,এখন থ্রিপিস কিংবা কসমেটিক কিনতে ইচ্ছে করছে না । এখন ইচ্ছে সংসারের একটা জিনিস করি ,ঠাকুর ঘরের কিছু কিনি। যেখানে একসময় ড্রেসের সাথে জুতা ম্যাচিং করে না কিনলে ভালো লাগতো না, এখন সেখানে মনে হচ্ছে ,ঠাকুর ঘরের জন্য দুটো পিতলের থালা বাটি কিনলে শান্তি মিলে।
তখন মেয়ে ও আমি অসুস্থ ছিল আবার বৃষ্টির জল লেগেছিল । আমার তেমন সমস্যা না হলেও মেয়ের জ্বর বেড়ে গিয়েছিল। শাঁখারী বাজারে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম । ওখানে সুস্বাদু লুচি সবজি এবং ছানার মিষ্টি পাওয়া যায় ।সে অনেক পুরনো দাদা ভাইয়ের দোকান । এখানে মাটন খিচুড়ি অনেক সুস্বাদু।
![]() | ![]() |
|---|
বাজার শেষ করে বাসায় আসতে আসতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে যায় । এই কেনাকাটা দিয়ে আমার পুজোর বাজার শুরু হল ।
আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন ।









