বাবার ( শ্বশুর মশাইয়ের)জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি পর্ব

in Incredible India5 days ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে আরও নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি সকলের ভালো লাগবে। জন্মদিন সকলের কাছেই একটা স্পেশাল দিন। ছোট থেকে বড় সকলেই চাই এই দিনটিতে একটু স্পেশাল ফিল করতে, দিনটাকে একটু অন্যরকম ভাবে কাটাতে।তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেগুলো হয়তো করা হয়ে ওঠেনা। সাংসারিক চাপ কিংবা লোক লজ্জার ভয়েও অনেক সময় অনেক ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ঠিক সেই ভাবেই আমার শ্বশুর বাড়িতে শাশুড়ি কিংবা শ্বশুর মশায়ের জন্মদিন কোনদিন কোনদিন সেই ভাবে পালন করা হয়নি। ঠাকুমা শাশুড়ি সুস্থ থাকাকালীন বাবাকে মানে শ্বশুর মশাই কে ওনার জন্মদিনে ভালো ভালো খাবার রান্না করে খাওয়াতেন। তবে এখন ঠাকুরমা শাশুড়ির বয়স ৮০ এর ওপরে। তাই এই বয়সে উনার পক্ষে আর সেই সমস্ত কিছু করা সম্ভব হয় না। সেই কারণেই বেশ অনেকগুলো বছর হয়ে গেল শ্বশুরমশাই কে জন্মদিনের দিনে সেইভাবে গুছিয়ে খেতে দেওয়ার চল উঠে গেছে। আমার শাশুড়ি মা যদিও যথেষ্ট ভাবে করার চেষ্টা করেন তবে প্রতিবছর তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

1000472731.jpg

তাই, বিয়ে করে আসার পর ভেবেই রেখেছিলাম এই বছর, বাবার জন্মদিনের দিন বাবাকে বাবার পছন্দ মতো খাবার রান্না করে খাওয়াবো। সেই মতো জন্মদিনের আগের দিন মায়ের সাথে আলোচনা করি যে পরের দিন আমরা কি কি রান্না করবো। মা বলে বাবা মটন খেতে ভালবাসে, মটন পেলে আর অন্য কিছু দিয়ে পেতে চাইবে না তাই অযথা অনেক রকমের পদ রান্না করার কোন দরকার নেই। মটন, চাটনি, মিষ্টি এগুলো খেতেই বাবা বেশি ভালোবাসে। তাই সকাল বেলায় আমার বর বাজারে গিয়ে মটন কিনে এনেছিল। যদিও ও কোনদিন বাজারে যায় না, বাবা নিজেই মটন কিনে আনে, তবে বাবাকে আগে থেকে কোন কিছু জানানো হবে না বলেই আমার বর নিজেই গিয়েছিল কিনতে। তারপর আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসপত্র কিনে নিয়ে এসেছিল। শুধু দই আর মিষ্টিটা সকালবেলায় কিনে আনেনি।

1000472736.jpg

সমস্ত কিছু আয়োজন করার পর আমরা শাশুড়ি-বৌমা মিলে সকাল সকাল রান্নাবান্নার আয়োজন করা শুরু করেছিলাম। মা সমস্ত সবজি কেটে ছেড়ে দিয়েছিল। আমি এক এক করে সাত রকমের ভাজা করেছিলাম---- শাক ভাজা, পটল ভাজা, মিষ্টি কুমড়ো ভাজা, আলুভাজা, বেগুন ভাজা, কাঁচা কলা ভাজা ও ঢ্যাঁড়শ ভাজা। এরপর বাবার পছন্দের মাছ ভাজা হয়েছিল। এরপর আমি ভাত রান্না করে নিয়েছিলাম।

1000473440.jpg

তারপর রান্নার দায়িত্ব নিয়েছিল মা, মানে শাশুড়ি মা। উনি একে একে মুগ ডাল, মটন ও আমের চাটনি রান্না করে নিয়েছিলেন। মা মটনটা খুব ভালোই রান্না করে। বাবা মায়ের হাতের মটন খেতেই বেশি ভালবাসে তাই এই বিষয়ে আমি একেবারেই হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। আমরা যদিও বাবা নিজেই কিনে এনেছিল বাজার থেকে। আমের চাটনি খেতে বাবা খুব ভালোবাসে। দেখতে দেখতে দুপুরের মধ্যে আমাদের সমস্ত রান্নার আয়োজন হয়ে গিয়েছিল।

1000473442.jpg

আজ এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আপনাদের সাথে বাবার জন্মদিন পালনের দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...
Loading...