শাশুড়ি মায়ের জন্মদিনে বিভিন্ন রকমের রান্না করলাম

in Incredible India • yesterday

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আমার শাশুড়ি মায়ের জন্মদিনের দ্বিতীয় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আমি আমার আগের পোস্টে ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম যে কিছুদিন আগেই আমরা আমাদের বাড়িতে আমার শাশুড়ি মায়ের জন্মদিন পালন করেছিলাম। সেই উপলক্ষ্যে আমি বিভিন্ন রকমের পদ নিজের হাতে রেঁধে সুন্দর করে সাজিয়ে ওনাকে পরিবেশন করেছিলাম।

1000533100.jpg

গতকাল আপনাদের শেয়ার করেছিলাম যে কিভাবে একটা ব্যস্ত সিডিউল এর মাঝেও আমি নিজের হাতে রান্না করার সময় বের করেছিলাম। চলুন তাহলে আপনাদের জানিয়ে দিই আমি আমার শাশুড়ি মায়ের জন্য কী কী রান্না করেছিলাম। প্রথমেই পাঁচ রকমের সবজি ভেজে নিয়েছিলাম। পাঁচ রকম এই সবজির মধ্যে ছিল কাঁচা কলা, পটল, বেগুন, আলু ও মিষ্টি কুমড়ো। এরপর করেছিলাম মুগ ডাল।

1000535065.jpg

তারপর একে একে বানিয়েছিলাম নারকেল চিংড়ি, সরষে পোস্ত বাঁটা দিয়ে পাবদা মাছের ঝাল। নারকেল চিংড়ি ব্যক্তিগতভাবে আমার এবং আমার শাশুড়ি মায়ের ভীষণ পছন্দের একটি পদ। গরম ভাতের সাথে খেতে অসাধারণ লাগে। আর রান্না করতেও খুব অল্প সময় লাগে। প্রেসার কুকারের মধ্যে সরষে, পোস্ত, লঙ্কা ও নারকেলের পেস্ট এর সাথে চিংড়ি মাছগুলোকে ভালোভাবে মাখিয়ে নিয়ে সামান্য জল, পরিবার মত লবণ ও একটু বেশি করে সর্ষের তেল দিয়ে একটা সিটি দিয়ে নিলেই আমাদের নারকেল চিংড়ি একেবারে রেডি। এরপর আসি পাবদা মাছে। পাবদা মাছ আমি আগে কখনো রান্না করিনি তাই মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে রান্না করছিলাম। তবে তেলের উপর দিতেই মাছগুলো ভীষণ পরিমাণে ফাটছিল। কয়েক ফোঁটা গরম তেল গায়েও ছিটিয়ে এসেছিল।

1000534906.jpg

এরপর বানিয়ে নিয়েছিলাম চিকেন কষা আর রুই মাছের ঝাল।সব শেষে হঠাৎ মনে পড়লো চাটনি বানানোর কথা। তবে বাড়িতে টমেটো মাত্র ৩ টে ছিল, সেখান থেকে একটা টমেটো রেখে দিয়েছিলাম। এরপর দেখলাম বাড়িতে তেঁতুল আর খেজুর আছে। এই সব গুলো উপকরণ দিয়ে একটা দারুণ স্বাদের চাটনি বানিয়ে ফেললাম।ব্যস্ ! এই ছিল আমার রান্না। যদিও এই সব কিছু বানাতে বানাতেই অনেক বেলা হয়ে গিয়েছিল। শাশুড়ি মাও আমাকে কিছুটা সাহায্য করে দিয়েছিল। সব রান্নার মধ্যে চাটনি টা অসাধারন হয়েছিল। নিজের রান্নার প্রশংসা নিজেই করছি। হা...হা...হা... যাইহোক রান্না সেরে রান্না ঘর পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম। এরপর ঘর গুছিয়ে নিয়েছিলাম। এই সব কিছু করতে করতে প্রায় দুপুর ৩ টে বেজে গিয়েছিল।

1000534908.jpg

এর পর আমি স্নান করে একটা নতুন পোশাক পরে নিয়েছিলাম আর শাশুড়ি মাও একটা আরামদায়ক পোশাক পরে এসেছিল। তারপর আমি সব খাবার গুলো সুন্দর করে বাটিতে দিয়ে থালার চারপাশে সাজিয়ে দিয়েছিলাম। শাশুড়ি মা সত্যিই সবটা দেখে খুব খুশি হয়েছিল। বারবার বলছিল, "জীবনে প্রথমবার কেউ আমাকে এত যত্ন করে সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দিল।" এই খুশিটা দেখার জন্যেই তো সারাদিন এত খাটাখাটনি করেছিলাম। তাই আমার খাটুনি সফল হয়েছিল। সব শেষে বেশ কিছু ফটো তুলেছিলাম দিনটাকে মনে রাখার জন্য।

1000535063.jpg

এইভাবেই আমরা দিনটাকে উদযাপন করেছিলাম। আজকে তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
image.png
curated by solaymann
 21 hours ago 

Thank you so much.

Loading...