"সুন্দরবনে দ্বিতীয় দিনের শেষটা যেভাবে কাটলো"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
বর্তমানে আমি পুরীতে আমাদের রুমের ব্যালকনিতে বসে আপনাদের সাথে সুন্দরবন ঘোরার গল্প শেয়ার করছি। তবে পুরীর গল্পও ফোনের গ্যালারিতে জমছে। ধীরে ধীরে সেগুলোও শেয়ার করবো।
যাইহোক সুন্দরবন ভ্রমনের আগের পর্বে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম, আমাদের লঞ্চের বাকিরা যখন দোবাকি অভয়ারণ্য ঘুরতে গিয়েছিলো, তখন আমরা চারজন অর্থাৎ ননদ, ননদের ছোটো ছেলে, ননদের হাজবেন্ড এবং আমি লঞ্চে বসেছিলাম।
|
|---|
আমাদের লঞ্চ ঘাট থেকে সরে গিয়ে মাঝ নদীতে দাঁড়িয়েছিলো। সেখানে অপেক্ষা করার সময় হঠাৎ করে মনে হলো কিছু সুন্দর স্মৃতি ছবির মাধ্যমে তুলে নিয়ে যাই। কারণ অনেক সময় লোকের ভিড়ে ছবি তুলতে আমরা অতটাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। বিশেষ করে আমি এবং আমার ননদ।
![]()
|
|---|
যাইহোক এরপর ননদ এবং ননদের হাজব্যান্ডকে রিকোয়েস্ট করলাম যাতে লঞ্চের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। যাতে কয়েকটা সুন্দর ছবি তুলে দিতে পারি। সেই মতো ওনারা উঠে সামনে গেলো, আর অনেকবার বলার পর দুজনে টাইটানিক সিনেমার মতো একটু পোজ দিলো। তারপর আরও বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম।
|
|---|
মুহূর্তগুলো আমরা বেশ আনন্দ করে কাটালাম। কারণ সেই মুহূর্তে লঞ্চে আমরা কয়েকজন ছাড়া আর শুধু ড্রাইভার ছিলো। তবে তিনি ওনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর আমরা আমাদের ফটোসেশন করছিলাম। এরপর ননদের ছোটো ছেলেকেও ডেকে নেওয়া হলো। বাবা মায়ের ছবি তোলা দেখে ননদের ছেলেরও ইচ্ছে হলো নিজেও কয়েকটি ছবি তুলবে। তাই তাকেও কয়েকটা ছবি তুলে দিলাম।
![]()
|
|---|
এরপর ডেকের সামনে ফাঁকা থাকায় ও একটু শুয়ে গেমও খেলে নিলো। যাইহোক কিছুক্ষণ বাদেই আমাদের লঞ্চের নাম অ্যানাউন্স হলো এবং আমরা আবার ঘাটের দিকে এগিয়ে গেলাম। তারপর এক এক করে সকলেই উঠে এলো লঞ্চের ভিতরে।
![]()
|
|---|
ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের পাশ থেকে একটা লঞ্চে যাচ্ছিলো, যেটা দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো। আর্মিদের ড্রেসের যেমন রং হয় লঞ্চটির সারা গায়ে তেমন রং করা ছিলো। হতে পারে এটা আর্মিদের জন্যই তৈরি করা।
যাইহোক এরপর আমাদের লাঞ্চের সময় হয়ে গেলো। তারপর আমরা এক এক করে লাঞ্চ সারলাম। তবে সেই মুহূর্তের কোনো ছবি আমার কাছে তোলা নেই বলে, আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম না। এইদিন লঞ্চে পমফ্রেট মাছ ও কাতলা মাছ ছিলো। এক এক করে খাওয়া দাওয়া শেষ হওয়ার পর, আমরা সকলেই লঞ্চে বসে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চললাম ঘাটের দিকে।
![]()
|
|---|
কারণ যেই ঘাট থেকে আমরা সেদিন সকাল বেলা লঞ্চে উঠেছিলাম, সেইখানেই আমাদেরকে নামানো হবে। যাতে আমরা হেঁটে হোমস্টেতে চলে যেতে পারি। যখন আমরা ঘাটে নামলাম, তখন বিকেল হয়ে এসেছিলো। সূর্য অস্ত যাচ্ছিলো। তবে হেঁটে ফেরার সময় সেটা দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো।
![]()
|
|---|
এরপর সকলেই ঘরে ফিরে ফ্রেশ হলাম। গল্প করে অনেকটা সময় কাটার পরে, সন্ধ্যা হতেই আমাদের রুমে দিয়ে যাওয়া হলো গরম গরম চিকেন পকোড়া। রুমে বসেই আমরা সেগুলো খেলাম এবং গল্প করে অনেকটা সময় কাটালাম।
তারপর তৈরি হয়ে নিলাম আবার একটু বাজারের দিকে যাওয়ার জন্য। ননদের ইচ্ছে হয়েছিলো এখান থেকে একটু ডাব খাবে। আগের দিনই বলছিলো, তবে চাউমিন খেয়ে যাওয়া হয়েছিলো বলে, কারোরই ইচ্ছে করছিলো না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তাই এইদিন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো, বাজারে গিয়ে ডাব খাওয়া হবে। সেই রকম ভাবেই রাতের দিকে আমরা চলে গিয়েছিলাম। কেনাকাটা আগেরদিন শেষ হয়ে গিয়েছিলো বলে, পরদিন আর কিছু না কিনে, সোজা ডাবের দোকানে গিয়ে আমরা ডাব খেয়েছিলাম। সেখানকার ডাবগুলোর স্বাদ অনেক মিষ্টি ছিলো।
![]()
|
|---|
ডাব খেয়ে আমরা সকলেই গল্প করতে করতে আবার হোমস্টেতে ফিরে এলাম। রাতের খাবারের আয়োজনে ছিলো ফ্রায়েড রাইস ও চিলি চিকেন। সকলেই সেটা তৃপ্তি করে খেয়ে নিলাম, কারণ রান্নাটা খুব ভালো হয়েছিলো।
এরপর আর কি আগের দিনের মতনই বারান্দায় বসে কিছুটা সময় কাটিয়ে, তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম।
এই ভাবেই দ্বিতীয় দিন শেষ হলো। পরদিন সকালে সমস্ত লাগেজ গুছিয়ে, একবারে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম। কারণ সেদিন ছিলো আমাদের বাড়ি ফেরার দিন। তাই সেই গল্প পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকের লেখা আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।।












