"তিতলির জন্মদিনের সারাটাদিন আমরা যেভাবে কাটিয়েছিলাম"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
তিতলির এবারের জন্মদিনের সকালটা একেবারেই অন্যরকম ছিলো। এর আগে কোনো বছর এমন হয়নি যে, তিতলি ঘুম থেকে উঠে নিজের মাকে পায় নি।
দু বছর আগে যখন দিদির হাসবেন্ডের ব্রেন সার্জারি হয়েছিলো। এক মাস যাবত দিদি হসপিটালেই ছিলো। তার মাঝেই তিতলির জন্মদিন পরেছিলো। ওই একটা দিনের জন্য দিদি রাতে বাড়ি এসেছিলো, যাতে পরদিন সকালবেলায় মেয়েটাকে একটু পায়েস রান্না করে দিয়ে যেতে পারে।
ঈশ্বরের কৃপায় অমন দিন শুধু তিতলি আর তাতানের জীবনে কেন, অন্য কারোর জীবনে যেন না আসে। কারণ ওই দিনগুলো খুবই কষ্টের ছিলো। বাচ্চাগুলো একপাশে যেমন বাবাকে মিস করেছে ঠিক ততটাই মিস করেছে নিজের মাকেও। আর সেবার এমনই সিচুয়েশন ছিলো যে, আমার শ্বশুরমশাইও সেই সময় হসপিটালে ভর্তি ছিলো। তাই আমার পক্ষেও সেবার যাওয়া সম্ভব হয়নি।
![]()
|
|---|
আর এবার দিদির হসপিটালে এতোটাই কাজের চাপ ছিলো যে, ও কোনো মতেই ছুটি ম্যানেজ করতে পারেনি। এমনকি আজও ওকে ডিউটি যেতে হয়েছে। অন্যান্য বার এই দুটো দিন দিদি ছুটি নেয়। কারণ জন্মদিনের দিন রান্না বান্না, খাওয়া দাওয়া, করে শুতে অনেকটা রাত হয়। তাই পরদিন সকালে উঠে ডিউটি যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।
তবে এবার আর কোনো উপায় ছিলো না। আর এই কারনেই এবারে তিতলির জন্মদিনের আয়োজনটা একেবারেই সাধারণ ছিলো। দিদি সাতটা নাগাদ ডিউটিতে বেরিয়ে গিয়েছিলো। আর আমরা সকলে আটটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলাম।
![]()
|
|---|
আগে থেকে ঠিক করেছিলাম জন্মদিনের দিন সকালে তিতলি ও তাতানকে একটু ম্যাগি বা পাস্তা করে দেবো। তবে আগের দিন রাতে চিকেন বার্গার খেয়ে দুজনের কেউই অন্য কোনো কিছু খায়নি। তাই সকাল বেলাতে আর অন্য কোনো খাবার না দিয়ে একটু গরম ভাত খাইয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
ডিমের অমলেট খেতে দুজনেই ভীষণ পছন্দ করে। ভাত খেতে হবে শুনেই তাদের প্রথম শর্ত ছিলো ডিমের ওমলেট দিলে তবেই ভাত খাবে। অগত্যা সেটাই মানতে হলো আমাকে। যেহেতু জন্মদিন, তাই সবকিছুতে বারণ করা সম্ভব নয়। তবুও যে ভাত খেতে রাজি হয়েছিলো, এতেই আমি খুশি ছিলাম। তাই দু'জনকে ডিমের অমলেট করে ভাত খাইয়ে দিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
একটু বাদে আমার বাবা এবং দিদির হাজব্যান্ড বাজারে চলে গিয়েছিলো কেনাকাটা করতে। আসলে দিদি এইবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো জন্মদিনে কোনো মাংস নয়, কেবলমাত্র ওদের পছন্দের মাছ রান্না করা হবে। পছন্দের তালিকায় ছিলো ইলিশ, গলদা চিংড়ি, আর পাবদা এই তিনটে মাছ। দুজনের খুব পছন্দ চিংড়ি মাছ।
তবে ইলিশ মাছ খাওয়ার বায়না এবার তাতান করেছিলো। তবে ইলিশ মাছ খাওয়ানোটা খুব কষ্টকর ব্যাপার, এতো বেশি কাঁটা ইলিশ মাছে যে, এই দায়িত্বটা দিদিই নিয়ে থাকে। এছাড়া আরও পাঁচ রকমের ভাজা, চাটনি, পায়েস সবই হবে ঠিক হয়েছিলো।
তবে হ্যাঁ তিতলিকে রাতের বেলায় সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দেওয়ার কথা ঠিক হয়েছিলো। যাতে দিদি ততক্ষণে অফিস থেকে ফিরে আসতে পারে। মেয়ের জন্মদিনে মা যদি হাতে করে মেয়েকে খাবার বেড়ে দেয়, সেটা বোধহয় মা এবং মেয়ে দুজনের জন্যই খুব আনন্দের মুহূর্ত হয়।
![]()
|
|---|
তাই সকালের দিকে খুব বেশি কিছু নয়, আমি শুধুমাত্র চাটনিটা করে রেখেছিলাম। আর তিতলি ও তাতানের পছন্দ মতন পাবদা মাছের ঝাল রান্না করে দিয়েছিলাম। দুপুরের খাবারটা দুজনেই তৃপ্তি করে পাবদা মাছের ঝাল দিয়ে খেয়েছিলো।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি এই প্রথম আমি পাবদা মাছ রান্না করেছি নিজের হাতে। শাশুড়ি মাকে রান্না করতে দেখেছি, তবে আমি কখনো রান্না করিনি। আর যেহেতু আমি পাবদা মাছ খাই না, তাই এরস্বাদ সম্পর্কে ততটাও অভিজ্ঞতা ছিলো না। তবে তিতলি আর তাতান দুজনেই খুব তৃপ্তি করে খেয়েছে, কারণ রান্নায় খুব একটা ঝাল দিইনি। যেহেতু ওরা খাবে, তাই ওদের মতো করেই রান্নাটা করেছিলাম।
রান্না করাকালীন আমি রেসিপির ছবিটাও তুলেছি, যেটা আমি আপনাদের সাথে পরবর্তীতে নিশ্চয়ই কোনো একটা পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করবো। আমি রান্না গুলো করার পর, বাকি আমাদের জন্য দুপুরের রান্না গীতাদি করেছিলো। যিনি দিদিদের বাড়িতে রান্না করেন। আমি রান্না বান্না শেষ করে, তিতলিকে স্নান করিয়ে দিলাম।
![]()
|
|---|
স্নান করার পর তিতলি নতুন জামা পড়ে, ঠাকুর প্রণাম সেরে নিলো। দিদি সকালবেলা ঠাকুর পূজো দিয়ে যেতে পারেনি ঠিকই, তবে সমস্তটাই বলে গিয়েছিলো। তাই বাবাও ফুল, মিষ্টি এনে তিতলির নামে পাশের মন্দিরে পূজো দিয়ে এসেছিলো। আর ঘরের ঠাকুরের পুজো দাদা স্নান সেরে দিয়ে নিয়েছিলো। এরপর এক এক করে আমরা সকলেই স্নান সেরে, দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করলাম।
তিতলি ও তাতান দুজনের মধ্যে একজনও দুপুরে ঘুমাবে না বায়না করছিলো। অনেক বুঝিয়ে দুজনকে নিয়ে ঘরে গিয়ে শুলাম, যাতে একটু ঘুমিয়ে নেয়। না হলে রাতের দিকে ঘুম পেয়ে যাবে তাড়াতাড়ি।
তবে কখন বেলুন ফোলাবো, কখন ঘর সাজাবো হবে, মা কখন আসবে, বাবা কখন কেক আনতে যাবে, এতো এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি প্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়লাম । তবুও অবশেষে দুজনে ঘুমালো। আর সাথে আমিও।
অফিস থেকে ফিরে দিদি আমাদের ঘুম ভাঙিয়েছে দেখে আমি একেবারে অবাক হয়ে গেছিলাম। তখন প্রায় ঘড়িতে সাড়ে পাঁচটা বাজে। দিদি এতো তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে দেখে অবাক হলাম, কারণ গত দুসপ্তাহ যাবৎ নরমালি বাড়িতে আসতে ওর সাড়ে সাতটা আটটা বেজে যাচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
পরে শুনলাম ওর যে ম্যাম রয়েছেন, তার কাছ থেকে রিকোয়েস্ট করে দু'ঘণ্টা আগে অফিস থেকে বেরিয়েছে। আর এই কারণে পরদিন অর্থাৎ গতকাল ওকে আরও সকালে অফিস যেতে হয়েছিলো এবং ফিরতে আরও রাত হয়েছিলো। গতকালকে আগের দিনের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করে তবেই ফিরেছে।
সত্যি যে সকল মায়েরা চাকুরীজীবী, তাদের সকলেরই বোধহয় এইরকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কখনো না কখনো যেতে হয়। যেখানে সন্তানের কাছে চাইলেই সব সময় একই রকম ভাবে উপস্থিত থাকতে পারেন না। যাইহোক দিদি একটু তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছিলো এটাতে আমরা সকলেই খুশি ছিলাম।
এরপর থেকে আমরা সকলে মিলে রাতের আয়োজন শুরু করেছিলাম। সেগুলো কিভাবে করেছিলাম, আর ফাইনালি রাতের আনন্দটা কেমন ছিলো, সেটাও পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো।
প্রত্যেকে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।









Dear @sampabiswas,
Hello! I’m sorry but could someone give an idea what are the problems of this post? https://steemit.com/hive-120823/@waihinoo1/finding-quiet-in-a-world
It just said “This Post was hidden due to low ratings”. It would be very nice for me to know why because then i can improve myself and don’t make same errors in next posts. Thanks for your attention. Have a good day !
Looking forward to collaborating with you all,
@waihinoo1