"পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নেওয়া উদ্যোগ।"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজ শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর, ঘরের বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করে, স্নান করতে যাবো এমন সময় হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে, গেটের সামনে গিয়ে দেখলাম একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন।
মহিলা আমার অপরিচিত, তাই গেটের তালা খোলার আগে ওনার কাছে জানতে চাইলাম কি বিষয়ে উনি কথা বলতে চাইছেন। আসলে শাশুড়ি মা বাড়ি না থাকলে, শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই, আমি যেন গেটে তালা দিয়ে রাখি। এই অভ্যাসটা আমার বরাবরের।
পরিচিত কেউ যদি হয় তবেই গেট খুলি, না হলে সব সময় ভিতর থেকেই কথা বলি। যাইহোক মহিলাটি যে কারণে এসেছিলেন সেটা জেনে সত্যিই বেশ ভালো লাগলো। আসলে উনি আমাদের দত্তপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে এসেছিলেন।
আমাদের দত্তপুকুর এখনো পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত। পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই এমন অনেক কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো পৌরসভা এলাকায় হলেও পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা গ্রাম গুলিতে তা চালু হয়নি। তার মধ্যে সবথেকে বড় একটা কাজ হলো,- ময়লা সংগ্রহের গাড়ি চালু করা।
আপনারা সকলেই জানেন শহরের দিকে সকলেরই কম জায়গার মধ্যে বাড়ি। সুতরাং সবজির খোসা হোক, কিংবা বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস ফেলার জন্য যথেষ্ট জায়গা সকলের বাড়িতে থাকে না। তাই বেশিরভাগ জায়গাতেই নোংরা সংগ্রহের গাড়ি আসে।
যেখানে পচনশীল বর্জ্য পদার্থ আর প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস, আলাদা আলাদা ভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং সেই গাড়ি একটা নির্দিষ্ট জায়গাতে গিয়ে সেই ময়লাগুলো ফেলে আসে।
গ্রামের দিকে মানুষদের তেমন সমস্যা হয় না, কারণ গ্ৰামের দিকে বেশিরভাগ বাড়িতে অনেক খানি জায়গা থাকে এবং বাড়ির এক কোণায় অনেকেই এই ময়লা গুলো জমা করতে পারেন। প্লাস্টিকগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়েও দিতে পারেন। তবে আমাদের বাড়ির আশেপাশে প্রায় সকলেরই কম জায়গার মধ্যে বাড়ি, তাই ময়লা ফেলা সকলের জন্য একটা সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।
![]()
|
|---|
সকলে মিলে বিষয়টি বহুবার পঞ্চায়েতে জানানো হলেও, পঞ্চায়েত থেকে এতোদিন তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে আজ এসে মহিলাটি জানালেন, আগামী সপ্তাহ থেকে ময়লা সংগ্রহকারী আমাদের এখানে আসবে। আর তিনি বাঁশি বাজালে সকলকে নিজেদের বাড়ির ময়লা নিয়ে গিয়ে গাড়িতে ফেলে আসতে হবে।
অবশ্যই এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যাতে পচনশীল জিনিসগুলো এবং প্লাস্টিক জাতীয় জিনিসগুলো আলাদা আলাদা ভাবে গাড়িতে ফেলা হয়। এই উদ্যোগটি নেওয়ার ফলে আমাদের আশেপাশের সকলেই খুব খুশি।
এতোদিন পর্যন্ত সকলেই সবজির খোসা বা পচনশীল জিনিসগুলোকে নিজেদের বাড়ির একটা কোনায় জমা করতো, কিংবা বাড়ি থেকে একটু দূরের ফাঁকা জমিতে সমস্ত নোংরা ফেলে আসতো। ফলোতো দুর্গন্ধ ছড়াতো এবং আশেপাশের বাড়ির সকলেরই সমস্যা হতো।
তবে আমার শাশুড়ি মাকে দেখেছি, তিনি আমাদের বাড়ির সকল সবজির খোসা ও পচনশীল জিনিসগুলো একটা বড় ড্রামে জমিয়ে সার তৈরি করে, ছাদের টবের মাটির সাথে সেগুলো ব্যবহার করতেন।
![]()
|
|---|
যাইহোক আগামী সপ্তাহ থেকে এই সমস্যা দূর হতে চলেছে, এটাই সবথেকে ভালো বিষয়। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেই দুটো করে বালতি প্রত্যেকের বাড়িতে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মাসে ৫০ টাকা করে দিতে হবে সেই গাড়ির ড্রাইভারকে যিনি গাড়ি নিয়ে আসবেন। তবে সকলের সেটা দিতেও আপত্তি নেই, যদি কিনা তিনি নিয়মিতভাবে ময়লা নিতে আসেন।
সকলকে যে বালতি দেওয়া হয়েছে, তার উপরে স্পষ্টভাবে লিখেও দেওয়া আছে কোন বালতিতে কি জিনিস ফেলতে হবে। প্রথম তিন মাসের জন্য ওনরা অ্যাডভান্স টাকা নিয়ে গেছেন। বিষয়টি যে বাধ্যতামূলক তা নয়, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সকলের বাড়িতে এসে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যারা এটা নিতে চান কেবলমাত্র তাদেরকেই বালতি দেওয়া হয়েছে এবং দেড়শ টাকা নিয়ে তিন মাসের বিলও কেটে দিয়েছে।
![]()
|
|---|
সত্যি কথা বলতে এই উদ্যোগটিকে আমি অন্তত সাধুবাদ জানাই। আর আমাদের আশেপাশের সকলেই এই বিষয়টি নিয়ে খুব খুশি, কারণ এমন একটা জিনিসের অপেক্ষা সকলেই করছিলো। সত্যি কথা বলতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে থাকতে সকলেই পছন্দ করে। পরিবেশ নোংরা করতে কেউ ইচ্ছুক হয় না। কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন থাকে যে, মানুষ অনেক কিছু বাধ্য হয়ে করেন।
বিয়ের পর থেকে আমি নিজেও বহুবার এই বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতে সকলকে আবেদন জানাতে দেখেছি, কিন্তু কখনোই তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অবশেষে এতো বছর বাদে যে এমন একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটাই সবথেকে ভালো বিষয়।
![]()
|
|---|
বাড়িতে শাশুড়ি মা ও শুভ কেউই ছিলো না। মহিলা আমাকে সমস্তটা জানালেন, তারপর আমি ফোনে ওদের সাথে কথা বললাম এবং দুজনেই আমাকে বললো যাতে আমি টাকাটা দিয়ে, বালতি দুটো নিয়ে নিই। তাই সেই মুহূর্তে আগে সেই কাজটাই করলাম। বাড়ির থেকে বেরিয়ে, টাকা জমা দিয়ে, শাশুড়ি মায়ের নামে স্লিপ কাটিয়ে বালতি নিয়ে এসেছি।
আগামী সপ্তাহ থেকে সপ্তাহে তিন দিন নোংরা সংগ্রাহক গাড়ি আসবে এবং বাঁশিতে হুইসেল দিলে আমাদেরকে গিয়ে সমস্ত ময়লা ফেলে দিয়ে আসতে হবে। বিষয়টা ভেবেই ভালো লাগছে। আশাকরি এখন থেকে ভবিষ্যতেও এই নিয়মটা চালু থাকবে।
![]()
|
|---|
দুপুরের অনেকটা সময় আজ এই বিষয় নিয়েই কেটে গেলো। প্রত্যেক বাড়ি থেকেই কেউ না কেউ বালতি সংগ্রহ করতে এসেছিলেন এবং তাদের সকলের কথা শুনে মনে হলো এই উদ্যোগে সকলেই খুব খুশি। পাশাপাশি সকলেই আশাবাদী যে এবার থেকে শুধু নিজেদের বাড়ি নয়, বরং বাড়ির আশেপাশের সম্পূর্ণ পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নই থাকবে। এমন দিনের অপেক্ষা করছিলো সকলেই।
যাইহোক ভাবলাম এমন একটি উদ্যোগের বিষয়ে আপনাদের সাথে আজ কিছু কথা শেয়ার করি। তাই এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে উপস্থাপন করলাম সম্পূর্ণ বিষয়টা। আপনাদের ওখানেও এইরকম ভাবে পরিবেশ পরিষ্কার এর জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কিনা, তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।





