Better life with steem//The Diary Game// 04th August, 2026
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
শাশুড়ি মা বাড়িতে নেই আজ প্রায় ১২ দিন। তবে এই ১২ দিনের মধ্যে আজকের দিনটা আমার একটুও ভালো কাটেনি। কেন জানিনা সারাদিন একেবারেই বাড়িতে থাকতে ভালো লাগছিলো না।
কখনো কখনো একাকীত্ব বড় ভালো লাগে। আবার ঠিক এই একাকিত্বই কখনো কখনো অসহনীয় হয়ে ওঠে। এটাই বোধহয় সকলের জীবনের গল্প। মাঝেমধ্যে আমাদের সকলের মন যে আদেও কি চায়, তা আমরা সব সময় বুঝতেও পারি না।
যাইহোক এইরকম বুঝতে না পারার মাঝেই দিনটা পার হয়ে গেলো। সারাদিন কি কি করলাম সে গল্পই না হয় আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করি। গত পরশুদিন অর্থাৎ রবিবারে কি পরিমানে বৃষ্টি হয়েছিলো, সেকথা আপনাদের গতকালকের পোস্টেই শেয়ার করেছি।
এমনকি গতকালও বেশ ভালোই মেঘলা আকাশ ছিলো এবং বিকালের দিকে বৃষ্টিও হয়েছিলো। স্বাভাবিকভাবেই ভেবেছিলাম আজও তেমনটাই হবে। আসলে গত কয়েকদিন এমনই কাটছে। সকালবেলায় আবহাওয়া দেখে মনে হচ্ছে না যে বৃষ্টি হবে না, তবে দুপুরের পর থেকেই আবহাওয়া বদলাতে শুরু করছে।
|
|---|
![]()
|
|---|
বরাবরের মতন ফোনের অ্যালার্মে ঘুম ভাঙলো আমার। অবশ্য রাতে একটানা ঘুমিয়েছে এমনটা নয়। মাঝেমধ্যেই ঘুম ভেঙেছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখেছি ভোর হতে এখনও অনেকটা দেরি। তারপর কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করে ঘুমিয়ে পড়েছি।
ঘুম থেকে উঠে প্রথমে ফ্রেশ হয়ে, উপরে চলে গেলাম। ঠাকুরের শয়ন তুলে, ঠাকুরের পুজোর ফুল তুলে, একেবারে নিচে নামলাম। আজকাল গাছে তেমন ফুল ফোঁটে না। যাইহোক শুভ যেহেতু অফিসে যাবে, তাই সকাল বেলাতেই একেবারে রান্না বসিয়ে দিলাম।
শাশুড়ি মা বাড়ি না থাকলে আমি এমনটাই করি, সকালে যেটা রান্না করি সেটাই কখনো কখনো একা দুপুরবেলায় খেয়ে নিই। কখনো কখনো এই জন্যই বললাম, কারণ মাঝে মধ্যে দুপুর বেলায় আমি একা কিছুই খাই না।
শুভকে সময়মতো ডেকে দিলাম।
![]()
|
|---|
ও ঘুম থেকে উঠে তৈরি হলো অফিসে যাওয়ার জন্য। ব্রেকফাস্ট এর জন্য রুটি করেছিলাম তবে শুভ রুটি খেতে চাইলো না। তাই ওকে আজ একটু গরম ভাতই দিয়ে দিলাম। আর ওই রুটি দুটোর মধ্যে একটা ডিম দিয়ে, এপাশ অপাশ করে ভেজে নিয়ে, টমেটো সস্ দিয়ে আমি ব্রেকফাস্ট কমপ্লিট করলাম।
তারপর যথারীতি শুভ অফিসে বেরিয়ে গেলে সম্পূর্ণ বাড়িতে আমি একা। আজ একেবারেই কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করছিলো না। কিন্তু ইচ্ছে করছিলো না বলেই শুয়ে থাকার উপায় ছিলো না। তাই আগে কমিউনিটির দায়িত্ব পালন করে, রান্নাঘরের সমস্ত কাজ গুছিয়ে নিয়ে, ঘরের কাজে হাত দিলাম।
অনেক জামা কাপড় ধোয়ার কাজ বাকি রয়েছে, তবে বৃষ্টি হবে এমনটা ভেবে আজও আর জামাকাপড় ভেজালাম না। কারণ বৃষ্টির মধ্যে জামা কাপড় না শুকালে, সেগুলো মেলে রাখা খুবই সমস্যার। তাই জামাকাপড় ধোয়ার প্ল্যানটা আজকের জন্য বাদ দিলাম। এমনিতেও কেন জানি না আজ কিছুই করতে ভালো লাগছিলো না।
|
|---|
![]()
|
|---|
দুপুর বেলার কাজ বলতে ঠাকুর পুজো, আর তার আগে ঘর মোছা, বাসন মাজা, সেগুলো সবই ধীরে ধীরে করলাম। ভালো লাগছে না বলে বসে থাকার কোনো উপায় নেই। অন্তত ঠাকুরপুজো দিলে কিছুটা মানসিক শান্তি অনুভব করি, সেই কারণেই ফোনে ভক্তি মূলক গান চালিয়ে, পুজো দিতে বসলাম।ততটুকু সময় যেন বেশ ভালো লাগছিলো।
![]()
|
|---|
পুজো দিয়ে উঠে টিভি ছাড়লাম এবং টিভি দেখতে দেখতে ভেবেছিলাম একটু লাঞ্চ করবো। খেতে খুব একটা ইচ্ছে করছিলো না একদমই। অল্প একটু ভাত নিয়ে সকালের রান্না করা সর্ষেপোস্ত দিয়ে রান্না করা চিংড়ি মাছ দিয়ে কোনো রকমে লাঞ্চ শেষ করলাম। তারপর শুয়ে শুয়ে বেশ কিছুক্ষণ টিভি দেখছিলাম, তবে সেটাও যেন আর দেখতে ইচ্ছা করছিলো না। মন ভালো না থাকলে যেমনটা হয় আর কি।
আমি ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম এবং কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝে মধ্যেই ঘুম ভেঙেছে এবং ভেবেছি হয়তো সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তবে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছি সন্ধ্যা হয়নি। আরো কিছুক্ষণ শুয়ে থেকেছি।
|
|---|
![]()
|
|---|
সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে উঠে ফ্রেশ হয়ে ছাদে গেলাম। ও আপনাদের বলা হয়নি আমাদের ড্রাগন গেছে আরও একটা নতুন ফুল এসেছে। বিকেলে তারই একটা ছবি তুলেছি।একটু বাদেই সন্ধ্যা পুজো শেষ করে নিচে এসে টিভি চালিয়ে বসলাম।
আজ ইউটিউবে নিজের পছন্দের বেশ কয়েকটা গান দেখলাম। বহু বছর হয়ে গেছে এইরকম গানের ভিডিও দেখিনি। আগে যখন বাড়িতে ডিভিডি ছিলো, তখন এইরকম গানের ক্যাসেট কেনার খুব নেশা ছিলো। আজ হাতের মুঠোয় সমস্ত কিছু। ইউটিউব খুললেই সবটা দেখা যায়। তবে পুরনো দিনের গানগুলো দেখতে দেখতে, কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে বেশ ভালোই লাগলো।
|
|---|
![]()
|
|---|
শুভ অফিস থেকে ফিরে একটু ওর বন্ধু রাজার দোকানে গিয়েছিলো। কিছু একটা দরকার ছিলো, আমি আর আলাদা করে জিজ্ঞাসা করিনি। তাই আধঘন্টা বাদে ফিরে এসে কলিংবেল বাজানোর পরে, দরজা খুলতে গিয়ে দেখি দরজার সামনে রাখা পাপোশের উপরে আমাদের একজন অতিথি বসে আছে।
এদের কথা আগের কোনো একটা পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। অবশ্য তিনজনের মধ্যে আজ এনাকে একাই দেখতে পেলাম। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে আবার গুটি মেরে বসলেন। তবে তাকিয়ে ছিলেন আমার দিকেই। যাইহোক শুভ ফ্রেশ হয়ে নিলে, আমরা দুজন মিলে রাতে ডিনার শেষ করলাম। তারপর আমি বসলাম পোস্ট লিখতে।
এইভাবেই কাটলো আমার আজকের দিনটা। সারাদিন কোনো কিছুই করতে ভালো লাগেনি। আজকের একাকীত্ব একেবারেই উপভোগ্য ছিলো না। যাইহোক জীবনের সব দিন সমান কাটবে না এটাই স্বাভাবিক। আগামীকাল নিশ্চয়ই সুন্দরভাবে কাটবে সেই প্রত্যাশা রইলো।
আপনাদেরও আগামী দিনগুলো খুব ভালো কাটুক, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন আপনারা সকলে। শুভরাত্রি।
![]() |
|---|









