"It's Throwback Time! – Childhood Memories Contest"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।
আজ আরও একবার আমি আমাদের কমিউনিটিতে আয়োজিত কনটেস্টে অংশগ্রহণ করতে চলেছি। প্রথমেই আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের কমিউনিটির মডারেটরকে, এতো সুন্দর একটি উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।
কনটেস্টের বিষয়বস্তু হিসেবে তিনি যে বিষয়টা বেছে নিয়েছেন, সেটি আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সঙ্গে জড়িত। আর আমার বিশ্বাস সকলেই বর্তমানে দাঁড়িয়ে এটা অনুভব করেন যে, শৈশবই ছিলো আমাদের জীবনের সবথেকে সুন্দর মুহূর্ত। যখন পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতার সাথে আমাদের পরিচয় হয়নি। তখন আমরা জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত সবথেকে বেশি উপভোগ করতাম।
আর আজ সেই ছোটোবেলাকে আরও একবার ফিরে দেখার সুযোগ পেলাম, এই কনটেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তাই বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে যখন শৈশবের দিকে তাকাই তখন অনেক কিছুই মনে পড়ে।
শৈশবের খেলাধুলা আমাদের জীবনের অনেকখানি জুড়ে ছিলো। বিভিন্ন ধরনের খেলার মাধ্যমে কেটেছে আমাদের শৈশব। আজ সেই বিষয়েই নিজের অনুভূতি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। চলুন তাহলে শুরু করি,-
|
|---|
শৈশবের কথা বললেই প্রথমে যেটা মনে পড়ে সেটি হলো, আমাদের শৈশব আর বর্তমান শিশুদের শৈশবের পার্থক্য। এক প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠার সুবাদে আমাদের শৈশব ছিলো একেবারেই অন্যরকম। যেখানে প্রযুক্তির কোনো ছোঁয়া তখনো পর্যন্ত ছিলো না। যদিও সময়ের সাথে সাথে আমরা সকলেই পরিবর্তন হয়েছি, তবে আমাদের শৈশব ছিলো অনেক বেশি সুন্দর।
কারণ প্রযুক্তির বদলে প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। পড়াশোনার বাইরে যতটুকু সময় পেতাম ততটুকু খেলাধুলাতেই ব্যয় হতো। কারণ তখনও টিভি, কম্পিউটার, বা মোবাইল আমাদের জীবনের সময়গুলোকে কেড়ে নিতে পারেনি।
আজকালকার বাচ্চাদের পড়াশোনা করার জন্য এই মোবাইল ও কম্পিউটারের উপরে নির্ভর করতে হয়। পড়াশোনার বাইরে বাদবাকি সময় তারা ব্যয় করে অনলাইন গেম খেলার মাধ্যমে, কিংবা ইউটিউব দেখার মাধ্যমে। তাই এদের শৈশব আর আমাদের শৈশবের মধ্যে রয়েছে বিস্তার।
আমার শৈশবের প্রিয় খেলা বললে অনেকগুলো খেলার কথাই মনে পড়ে। সত্যি কথা বলতে তখনকার সময় প্রতিটি খেলাই খুব উপভোগ করতাম। লুকোচুরি, রান্নাবাটি, পুতুল খেলা, গোল্লাছুট, কুমিরডাঙ্গা ইত্যাদি খেলা ছিলো এর অন্তর্ভুক্ত।
আর বর্ষাকালের সবথেকে প্রিয় খেলা ছিলো লুডু। কারণ তখন বৃষ্টির কারণে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এই সকল খেলার সুযোগ পেতাম না। তাই সেই সময় লুডু খেলাতেই মগ্ন থাকতাম।
![]()
|
|---|
পুতুল খেলতে আমি বরাবরই ভালবাসতাম। মেয়ে ছিলাম বলে কিনা জানিনা। তবে পুতুলের জন্য শাড়ি বানানো, তাকে সাজানো, ঘর বানানো, বিছানা পাতা, এই সমস্ত কিছু আমি খুব সুন্দর যত্ন সহকারে করতাম। এমনকি আমরা একে অপরের পুতুলের সাথে বিয়ের আয়োজন করতাম।
সে ক্ষেত্রে ছেলে পুতুল নিয়ে আমার বান্ধবীরা আমাদের বাড়িতে আসতো আমার মেয়ে পুতুলের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য। সেখানে খাবারের ব্যবস্থাও থাকতো। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতো চানাচুর, চকলেট, কখনো কখনো মা আবার লুচি ছোলা ডাল রান্না করলে সেদিনই পুতুলের বিয়ের আয়োজন করতাম সেগুলো খাওয়ার জন্য। তখন আনন্দ বেড়ে যেত আরো দ্বিগণ।
আবার বিয়ের পর যখন আমার পুতুল শশুর বাড়িতে চলে যেতো। মন খারাপও হতো ভীষণ। তবে ওই একটা দিনের জন্যই পরদিন আবার গিয়ে নিজের পুতুল ফেরত নিয়ে আসতাম। বর্তমানে দাঁড়িয়ে এই পুতুল খেলাকে আমি ভীষণ মিস করি। কারন এটিও ছোটোবেলায় আমার খুব প্রিয় একটা খেলা ছিলো।
|
|---|
পুতুল খেলার সুযোগ এখন আর হয় না। কোথাও না কোথাও মনে হয় ছোটবেলার পুতুল খেলা বর্তমানে সংসারে পরিণত হয়েছে। বিয়ে করে আমার পুতুল যেমন অন্যের বাড়িতে চলে যেতো, আমিও শশুর বাড়িতে চলে এসেছি। তবে পার্থক্য একটাই, পরদিন গিয়ে আমি আমার পুতুল ফেরত নিয়ে আসতে পারলেও, আমার বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে ফিরে যেতে পারিনি। যাইহোক কথাটা মজা করেই লিখলাম।
![]()
|
|---|
পুতুল খেলার সুযোগ না হলেও ছোটবেলার পছন্দের আরও একটি খেলা এখনো মাঝেমধ্যে খেলা হয়, সেটি হল লুডু খেলা। যেটা বর্ষাকালেই বিশেষ করে খেলা হতো। আর সবথেকে বড় বিষয় বর্তমানে মোবাইলেও এই লুডু খেলার অপশন রয়েছে। তাই এই খেলাটি এখনো আমাদের জীবনে রয়ে গেছে।
তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মোবাইলে খেলার থেকেও, বাজার থেকে কিনে আনা লুডুর বোর্ডে খেলতেই বেশি পছন্দ করি।
এখনো মাঝেমধ্যে খেলা হয় এবং সর্বশেষ আমরা যখন সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়েছিলাম, তখন লঞ্চের ডেকের উপরে বসেও কিন্তু আমরা লুডু খেলেছিলাম। তাই এই লুডু খেলা এখনও জীবনে রয়েছে, এই বিষয়টা ভাবতেও ভালো লাগে।
|
|---|
ছোটবেলায় পুতুল খেলা আমার খুব পছন্দের ছিলো, তবে সবথেকে বেশি এনজয় করতাম লুডু খেলা। কারণ পুতুল খেলার সঙ্গী শুধুমাত্র আমার সমবয়সীরা ছিলো। তবে লুডু খেলার সঙ্গী হিসেবে পেতাম ঠাকুরমা, মা, বাবা, ও দিদিদেরকেও।
পরীক্ষার পর সন্ধ্যাবেলায়, কিংবা বর্ষাকালে যখন বাইরে মুষলধারায় বৃষ্টি হতো, তখন মাঝেমধ্যে লুডু নিয়ে বসে পড়তাম ঠাকুমার সাথে খেলতে কিংবা দিদিদের সাথে খেলতে। পারিবারিক মুহূর্তগুলো তখন যেন একেবারেই সহজলভ্য মনে হতো। আর জীবনের বাস্তবিকতা তখনও বুঝতে পারিনি বলেই ভাবতাম, ঐরকম ভাবেই সমস্ত জীবনটা কেটে যাবে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ওইরকম মুহূর্ত গুলো ফিরে পাওয়া একেবারেই অসম্ভব। কারণ প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনে ব্যস্ত, মা ও ঠাকুমাকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছি। তাই শৈশবের খেলাতে যদি ফিরে যাওয়া যেতো, তাহলে হয়তো এই মানুষগুলোকেও ফিরে পাওয়া যেতো, এটা ভাবলেই এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে মনের ভিতরে।
![]()
|
|---|
যাইহোক প্রথম দিকে লুডু খেলা বুঝতাম না। তাই যখন বড়রা খেলতো তখন তাদের পাশেই বসে থাকতাম এবং বড়দের অনুরোধ করতাম যেন আমাকেও একটু গুটি চালাতে দেয়। মাঝে মাঝে মধ্যে সেই সুযোগও পেতাম। তবে এই রকম ভাবেই একটা সময় আমিও লুডু খেলা শিখে গেলাম।
তবে সত্যি কথা বলতে খেলা শেখার আগে পর্যন্ত সবাই আমাকে নিজেদের দলে নিতে চাইতো, যাতে তাদের হয়ে আমি গুটি চালাতে পারি। অবশ্য পরে বুঝলাম আমার হাতে অনেক বেশি ছক্কা পরতো। আর লুডু খেলার নিয়ম অনুসারে যাদের ছক্কা বেশি পড়ে, তাদেরই জেতার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এই কারণে সকলেই চাইতো আমি তাদের হয়ে গুটি চালি।
বিষয়টা আমি পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছি। তবে সেই মুহূর্তে আমি এটা খুবই উপভোগ করতাম। আমার যেন মনে হতো সকলে আমাকে অনেক বেশি দাম দিচ্ছে, কারণ আমি অনেক বেশি ভালো খেলতে পারি। তাই সকলেই যখন আমাকে লুডু খেলার জন্য ডাকত, যখন গুটি চালাতে বলতো, আমি বিষয়টা খুব উপভোগ করতাম।
|
|---|
যাইহোক ছোটবেলার খেলার স্মৃতি নিয়ে অনেক কথাই শেয়ার করলাম, আবার অনেক কথাই রয়ে গেল মনের গভীরে। তবে বহুদিন বাদে এমন ভাবে ছোটবেলার খেলার দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করার সুযোগ পেয়ে, মনটা আপ্লুত হয়ে গেছে।
আবার বেশ কিছুটা মন খারাপও হলো, কারণ প্রিয় খেলা, প্রিয় মানুষ সবটাই এখন অতীত। যাদেরকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ এ জীবনে আর কখনো হবে না। তবে এখন বড় হওয়ার সাথে সাথে বুঝেছি, এটাই জীবনের বাস্তবতা। আর সবার সাথেই এমনটাই হয়ে থাকে।
যাইহোক আমার তিনজন বন্ধু @muktaseo , @dasudi ও @pinki.chak কে এই কনটেস্টে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানাই। আশাকরি তাদের ছোটবেলার স্মৃতি তারাও ঠিক আমার মতনই সকলের সাথে শেয়ার করবেন এবং নিজেরা মনে মনে ফিরে যাবে সেই শৈশবের দিনগুলোতে।
ভালো থাকবেন সকলে।




Those cherished childhood days were filled with the joy of playful activities. Among these, hide-and-seek was perhaps the most beloved game. I wish you continued success in all your endeavors. It is truly a wonderful, joyful experience to look back on those days from childhood—thank you!