"সারাদিন লঞ্চে ঘুরলেও, সুন্দরবনে আমাদের দুই রাত কেটেছিলো - "রাধা কুঞ্জ হোমস্টে" তে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
মাঝখানে অন্যান্য লেখার ভিড়ে, সুন্দরবন ভ্রমণের যে গল্প আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে শুরু করছিলাম, তাতে একটু বিরতি পরেছে। তবে আজ আবার নতুন একটা পর্ব নিয়ে হাজির হলাম।
![]()
|
|---|
সর্বশেষ পর্বে তুলে শেয়ার করেছিলাম সজনে খালি অভয়ারণ্য ঘুরে দেখার কিছু মুহূর্ত। আর আজকের পর্বের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, সুন্দরবনে আমাদের রাত্রিযাপনের অভিজ্ঞতার কথা।
![]()
|
|---|
সজনে খালি অভয় অরণ্য থেকে একটা নির্দিষ্ট ঘাটে আমাদের দাঁড়াতে বলা হয়েছিলো এবং সেখান থেকেই আমরা এক এক করে নিজেদের নিজেদের লঞ্চে উঠেছিলাম। তখন প্রায় বিকেল হয়ে এসেছিলো। সন্ধ্যা তখনও নামেনি, তবে নদীর বুকে লঞ্চে ভেসে চলতে চলতে সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্যটি এতো সুন্দর লাগছিলো যেটা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
সমুদ্রপারের সূর্যাস্ত দেখতে আমরা সকলেই খুব ভালোবাসি। তবে পারে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা এবং লঞ্চের ভিতরে বসে সূর্যাস্ত দেখার অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
যাইহোক এর পরে কিছু দূর এগিয়ে এসে আমাদের লঞ্চ দাঁড়ানো "এস টু হোটেল" নামক একটি ঘাটে।সেখানেই আমাদের এক এক করে নামতে বলা হলো। এই ঘাটের একেবারে পাশেই একটা লঞ্চ দাঁড় করানো ছিলো। দেখে যেন মনে হচ্ছিলো লঞ্চটিকে ডাঙ্গাতেই রাখা হয়েছে।
![]()
|
|---|
তবে বিষয়টি এমন নয়। আমাদের গাইড দাদা বললেন, যখন জোয়ারের সময় হয় তখন এই লঞ্চগুলি জলের মধ্যেই থাকে যেহেতু তখন ভাটার সময় ছিলো, তাই জল অনেকটা নিচে নেমে গিয়েছিলো বলে এমন মাটি দেখা যাচ্ছিলো।
যাইহোক এরপর আমরা সকলে ঘাট থেকে উঠে দাঁড়ালাম এবং কিছুক্ষণ বাদে আমাদের গাইড দাদা আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে চললেন আমাদের হোটেল বা হোমস্টের দিকে। বেশ খানিকটা পায়ে হেঁটেই যেতে হয়েছিলো। একেবারে গ্রামের মধ্যে দিয়ে সরু রাস্তা দিয়ে আমরা হেঁটে চলছিলাম। মনে হচ্ছিলো যেন এ রাস্তা আমাদের পরিচিত।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
দুপাশে জনবসতি ও রয়েছে। তার মাঝখান থেকে আমরা এগিয়ে চলছিলাম আমাদের ঠিকানার উদ্দেশ্যে। আমাদের লঞ্চে প্রায় ৫৩ জন মানুষ ছিলো। তবে এতোগুলো মানুষকে একসঙ্গে একটা হোমস্টেতে রাখা সম্ভব হয়নি। ট্রাভেল এজেন্সির পক্ষ থেকেই দুটো থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
আমাদেরকে যে জায়গাটায় থাকতে দেওয়া হয়েছিলো, তার নাম ছিলো "রাধা কুঞ্জ হোমস্টে"। একেবারে নতুন তৈরি হওয়া এই হোমস্টেটা দেখে মনটা খুশি হয়ে গিয়েছিলো। কারণ হোমস্টের একেবারেই সামনে ছোট্ট একটা পুকুর ছিলো। বেশ মনোরম পরিবেশের মধ্যে একেবারে নিরিবিলি ছিলো এই হোমস্টেটা।
ডবল বেডের দুটো রুমে আমরা মোট ৬ জন ছিলাম। রুমগুলো ছোটোখাটো কিন্তু বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ছিলো। একেবারে নতুন তৈরি হয়েছিলো বলেই, এখনও পর্যন্ত এতোটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে।
যাইহোক হোমস্টেতে ফিরে গিয়ে সবার প্রথমে আমরা স্নান করে ফ্রেশ হলাম। কারণ সেই ভোরবেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছি, তারপর এক এক করে সমস্ত জায়গা ঘুরে অবশেষে হোমস্টেতে পৌঁছেছি।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
বাইরে এসে দেখলাম সূর্য অস্ত গেছে, তবে বাইরের পরিবেশটা খুবই সুন্দর হয়ে আছে। আমাদের রুমের সামনেই চেয়ার রাখা ছিলো, সেখানেই কিছুক্ষণ বসলাম। তবে শরীর বেশ ক্লান্ত লাগছিলো, তাই একটু বাদে রুমের ভিতরে গিয়ে সকলেই শুয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম।
এর কিছুক্ষণ বাদেই ননদের হাসবেন্ড আমাদেরকে ডাকলেন। কারণ ট্রাভেল এজেন্সির পক্ষ থেকে ফোন করে আমাদেরকে তৈরি হতে বলেছিলো। কারণ সন্ধ্যা বেলার টিফিন ততক্ষণে তৈরি হয়ে গেছে। এছাড়াও সেদিন সন্ধ্যায় ঝুমুর নাচের আয়োজন ছিলো হোমস্টেতে। যখন আমরা এই ট্যুরটা বুক করেছিলাম, তখন এটা সেখানে উল্লেখ করাই ছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
রুমের বাইরে বেরিয়ে দেখি ততক্ষণে চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেছে। চারপাশের লাইটও জ্বলে উঠেছে। রাধাকুঞ্জ হোমস্টেতে ঢুকে যে ঘরটি প্রথম আমাদের চোখে পড়েছিলো ওটাই ছিলো হোমস্টের ডাইনিং রুম এবং আমাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা ওখানেই করা হবে, এ কথা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলঝ।
এরপর আমরা সকলে মিলে তৈরি হলাম। রুম থেকে বেরোনোর সময় দেখলাম ঝুমুর নাচের শিল্পীরা ইতিমধ্যে আমাদের হোমস্টেতে সকলের মনোরঞ্জনের জন্য পৌঁছে গেছেন। ওনার তখন তৈরি হচ্ছিলেন।
সামনাসামনি বসে ঝুমুর নাচ দেখার অভিজ্ঞতা এবং রাতের দিকে স্থানীয় মার্কেট ঘুরে কিছু জিনিস আমরা সকলেই কিনেছিলাম। কি কিনেছিলাম এবং কিভাবে সন্ধ্যার পর থেকে রাত্রের সম্পূর্ণ সময়টা কেটেছিলো, সে কথা আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো।
আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।












