"স্বাস্থ্যকর নাড়ু বা লাড্ডুর রেসিপি"

in Incredible India7 days ago (edited)
IMG_20260910_193427.jpg
"স্বাস্থ্যকর নাড়ু বা লাড্ডু"

Hello,

Everyone,

গতকালকের পোস্টে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম সন্ধ্যাবেলায় আমি একটা জিনিস তৈরি করেছিলাম। যাকে এক কথায় স্বাস্থ্যকর নাড়ু বা লাড্ডু বলা যেতে পারে। আসলে গতকাল ফ্রীজ পরিষ্কার করতে গিয়ে আমি বেশ কিছু আখরোট, পেস্তা ও আমন্ড পেয়েছিলাম।

যেগুলো দেখেই আসলে আমার এটি তৈরি করার কথা মাথায় এসেছিলো। এছাড়াও ঘরে খেজুর, ফ্ল্যাক্সসিড ও সাদা তিল রাখাই ছিলো। তাই ভাবলাম এই সমস্ত কিছু দিয়েই আজ এক স্বাস্থ্যকর খাবার বানানো যাক।

চলুন প্রথমে দেখে নিই আমি কি কি জিনিস ব্যবহার করেছিলাম, -

"স্বাস্থ্যকর নাড়ু তৈরি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ"

নংউপকরণপরিমাণ
১.আখরোটএক কাপ
২.আমন্ডহাফ কাপ
৩.পেস্তাহাফ কাপ
৪.খেজুরএক কাপ
৬.ফ্ল্যাক্সসিডহাফ কাপ
৭.সাদা তিলহাফ কাপ

1672344690977_010726.jpg

"স্বাস্থ্যকর নাড়ু তৈরি করার পদ্ধতি"

এটি তৈরি করা খুবই সহজ এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি করা যায়।

IMG_20260910_184945.jpg
"ড্রাইফ্রুটস- আখরোট,আমন্ড ও পেস্তা"

সবার প্রথমে গ্যাস জ্বালিয়ে একটি কড়াই বসিয়ে, শুকনো কড়াইয়ে আখরোট, আমন্ড, পেস্তা এই তিনটে জিনিসকে খুব ভালোভাবে কিছুক্ষণ ধরে নাড়াচাড়া করতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে এগুলো যাতে পুড়ে না যায়। খুব ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে, সেগুলোকে একটা পাত্র নামিয়ে রাখতে হবে।

IMG_20260910_184015.jpg
"ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি বীজ ভাজার আগে"
IMG_20260910_184941.jpg
"ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি বীজ ভাজার পরে"

এরপর ওই কড়াই এর মধ্যেই ফ্ল্যাক্সসিড দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করতে হবে। এরপর ফ্ল্যাক্সসিড নামিয়ে রেখে, সাদা তিল গুলো দিয়ে দিতে হবে।

IMG_20260910_184450.jpg
"সাদা তিল ভাজার আগে"
IMG_20260910_184938.jpg
সাদা তিল ভাজার পরে
IMG_20260910_185732.jpg
সবকিছু একটু ঠান্ডা হলেও মিক্সিতে নিয়ে গুঁড়ো করতে হবে
IMG_20260910_190649.jpg
"গুঁড়ো করে নেওয়ার পর"

এক এক করে সমস্ত উপকরণ গুলো কড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে খুব ভালোভাবে গরম করার পর, বেশ কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এরপর একটা মিক্সিতে সমস্ত কিছু দিয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে। একদম মিহি গুঁড়ো করার প্রয়োজন নেই।

IMG_20260910_183956.jpg
"খেজুর বীজ ছাড়িয়ে নেওয়ার পর"
IMG_20260910_191601.jpg
"খেজুর গুলো পেস্ট করার পর"

এরপর খেজুরের দানা গুলো ফেলে দিয়ে সেগুলোকেও বেশ ভালোভাবে মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে। তারপর সমস্ত উপকরণ গুলো একসাথে হাতের সাহায্যে খুব ভালোভাবে মেখে নিতে হবে।

IMG_20260910_201057.jpg
হাতের সাহায্যে মেখে নিতে হবে
IMG_20260910_201123.jpg
যাতে সমস্ত উপকরণ গুলো ভালোভাবে মিশে যায়
IMG_20260910_201142.jpg
মিশ্রণটিকে এক জায়গায় রেখে এরপর হাতের সাহায্যে নাড়ু তৈরি করতে হবে

এতে আলাদা করে কোনো চিনি বা গুড় ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনিতেই যতটুকু মিষ্টি হবে, ততটুকুই যথেষ্ট। এতে অতিরিক্ত চিনি মেশালে এর উপকারিতা একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে। এরপরে হাতের সাহায্যে নাড়ুর মতো তৈরি করে নিতে হবে।

আপনারা নিজেদের মতন যে কোনো আকারে এটি তৈরি করতে পারেন। অনেকেই চাইলে একটা থালায় নামিয়ে নিয়ে, সমান করে তারপর ছুরির সাহায্যে ছোটো ছোটো চৌকো আকারে কেটে নিতে পারেন।

তবে আমি নাড়ুর মতনই তৈরি করেছিলাম। এর মধ্যে অন্যান্য আরও অনেক কিছুই যোগ করা যেতে পারে। তবে যেহেতু আমার কাছে আর অন্য কোনো ড্রাইফ্রুট বা সিড ছিলো না। তাই আমি এই কয়েকটা জিনিস ব্যবহার করে এটি তৈরি করেছি।

"রেসিপিতে ব্যবহৃত উপকরণ গুলির উপকারিতা"

আমি যে যে উপকরণ গুলো ব্যবহার করেছি সেগুলোর উপকারিতা আপনাদের সাথে একটু শেয়ার করি, -

IMG_20260910_193354.jpg
নাড়ু তৈরি করে নেওয়ার পর

আখরোট:-

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আখরোটের কোনো বিকল্প নেই। এটা দেখতেও খানিকটা আমাদের মস্তিষ্কের মতনই। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ও ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা আমাদের স্মরণ শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

আমন্ড:-

আমন্ড বা কাঠবাদাম ভিটামিন ই তে ভরপুর। যা আমাদের ত্বকের কোষকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া এটি প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর, যা আমাদের খিদে কমাতেও সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখায় ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

পেস্তা:-

পেস্তা আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি চোখের বিভিন্ন কোষ রক্ষা করে এবং আমাদের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। এতেও প্রচুর প্রোটিন ও ফাইবার পাওয়া যায়। এছাড়াও রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

খেজুর:-

চিনি আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক, একথা আমরা প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু খেজুরে প্রচুর প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা আমাদের শরীরে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজের অভাব দূর করে। এটি আমাদের দ্রুত শক্তি প্রদান করে। এছাড়াও পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা আমাদের হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ওজন বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে খেজুর খুব ভালো অপশন।

ফ্ল্যাক্সসিড:-

ফ্ল্যাক্স সিড যার বাংলা নাম তিসি বীজ। এটি আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেকে ফ্ল্যাক্স সিড জেল চুলের যত্নের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। কারন এটি চুল মজবুত করতে সাহায্য করে।

এছাড়াও আমাদের হৃদ যন্ত্র সুস্থ রাখতে, আর ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। যেহেতু এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, তাই আমাদের কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে হজম শক্তিও উন্নত করে। এটি খেলে আমাদের পেট অনেকক্ষণ ভরপুর থাকে, সুতরাং খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমায় বলে, ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া আমাদের শরীরে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, সুতরাং সুগারের রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী।

সাদা তিল:-

সাদা তিল আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস এর অভাব দূর করে। আমরা সকলেই জানি ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের জন্য কতখানি উপকারী। সুতরাং নিয়মিত সাদা তিল খেলে হাড়ের ক্ষয় রোধ হয় এবং হাড়ের গঠনও মজবুত হয়।

এছাড়া আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। আমার মতো যারা দুধ খান না, বা খেতে পছন্দ করেন না, তারা কিন্তু নিয়মিত সাদা তিল খেতে পারেন। দুধে যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে, তার অভাব দূর করতে সাদা তিল খুব ভালো অপশন।

সকল ড্রাইফ্রুটস বা সিডের উপকারিতা সম্পর্কে আমি আলোচনা করলে, সকল জিনিসেরই কিছু অপকারিতাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকেরই বিভিন্ন জিনিসে অ্যালার্জির সমস্যা থাকে।তাই এই রেসিপিতে ব্যবহৃত উপকরণের মধ্যে সবকটা আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর কিনা, সেই বিষয়ে আগে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে, তবেই এই লাড্ডু গুলো বা নাড়ুগুলো খাওয়ার অনুরোধ রইলো।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...