একাধিক ব্যস্ততায় অতিবাহিত একটি দিন!

আজকের দিনটিকে বিশ্লেষণ করলে উপরের নির্বাচিত শব্দ সমষ্টি মাথায় এসেছিল!
এখন রাত এগারোটা, একসাথে গোটা ছয় ওষুধ খেয়ে লিখতে বসলাম।
অনেক কিছুই অনেক সময় ইচ্ছে করে না করতে, তবে সেই সকল অনিচ্ছে এবং অনীহা গুলোকে বহু বছর ধরেই দমন করবার প্রয়াস করে চলেছি, কারণ আমি জানি অলসতা একটা ব্যাধি, যেটিকে প্রশ্রয় দিলে বৃদ্ধি পায়।
এই মুহূর্তে একসাথে একাধিক কাজ করার অভ্যেস করছি!
যদিও আমাকে বহু বছর ধরেই একসাথে একাধিক কাজ করতে হচ্ছে, তবে এই মুহূর্তে কিছু কাজের ক্ষেত্রে কারোর সাহায্য ছাড়া কাজগুলো সমাধানের প্রয়াস করছি।
যেমন, ধরুন আজকের দিনটি, আজকে একদিকে ক্যুরেশন ছিল, তার মাঝেই রুবি হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছিল, সেখানে সমস্ত কথা বলে, ফোন করেছিলাম মামাতো বোনকে, সেই মুহূর্তে ট্রেন ধরবার তাড়া ছিল, তাই পুনরায় আমি হাসপাতালে ফোন করে যা কিছু সংশয় ছিল জেনে নিয়েছিলাম।
বাইরে আজকে প্রায় সারাক্ষণ বৃষ্টি পড়ছিল, এরই মধ্যে আমাকে ব্যাংকে ছুটতে হয়েছিল, নতুন একটা সেভিংস একাউন্ট খোলার জন্য।
খুব সত্যি কথা বলতে ইতিপূর্বে ব্যাংকের একাউন্ট খোলার সময় কেউ না কেউ সঙ্গে ছিল, কাজেই আজকে প্রথমবার একদম একলা, কারোর সহযোগিতা না নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছি।
![]() | ![]() |
|---|

দেখলাম, এখন সবকিছু ডিজিটালাইজেশনের সাহায্যে নথিভুক্ত করা হচ্ছে!
আগের একাউন্ট খোলার পদ্ধতি আর এখন কার মধ্যে অনেককিছু পরিবর্তন হয়েছে।
খুব বেশি সময় লাগেনি, পাশবই পেয়েছি, বাকি সব পোস্টে আসবে বলেছিল, কিন্তু পরে জানালো চেক বই পোস্টে আসলেও, ডেবিট কার্ড এর জন্য এক সপ্তাহ বাদে পুনরায় ব্যাংকে যেতে হবে।

ব্যাংক থেকে বেরিয়ে দেখি বেশ জোরে বৃষ্টি পড়ছে, সঙ্গে ছাতা না থাকায় পাশের একটি দোকানে বসে ছিলাম, কিছু করার ছিল না, বসে বসে দোকানে নামকরা ফুটবলার দের ছবি নজরে পড়ল!
ভাবলাম, মানুষ পিছনে রেখে যায় তাদের কাজ;
যার যখন সময় হবে, তাকে তখন চলে যেতেই হবে, কিন্তু যারা এই সীমিত সময়কে সঠিক কাজে প্রয়োগ করে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে, সময়ের পাতায় তারাই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে।

মিনিট পনেরো হয়তো বসে ছিলাম, ঠিক মনে নেই, তারপর বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির উদ্দ্যেশে, পথে ঠিক করলাম ডিম কিনে নিয়ে যাব, কারণ এত বেলা হয়ে গিয়েছিল, ডিম আর আলু সেদ্ধ পেঁয়াজ, শুকনো লঙ্কা দিয়ে ভেজে ভাত খেয়ে নেব ঠিক করলাম, কারণ বেলা তিনটের সময় আর কিছু রান্নার সময় হবে না!
মাঝপথে ছোট গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কত হয়েছে বৃদ্ধি পেয়ে সেটাও জেনে নিয়েছিলাম, এরপর একদিন এই কাজটা করতে বেরোতে হবে।
বাড়িতে পৌঁছে ভাবনা অনুযায়ী দুপুরের খাবার খেয়ে, স্নান করে তারপর বাকি কিউরেশান করতে বসেছিলাম!
এরপর সন্ধ্যে দিয়ে কিউরেশন শেষ করে, আর কিছু কাজ সম্পন্ন করে, বুঝলাম বৃষ্টিতে ভেজার জন্য গা গরম গরম লাগছে, এমনিতেই এলার্জি রয়েছে, কাজেই সব মিলিয়ে রাত্রে ওষুধ খেয়ে নিলাম, কারণ বাড়াবাড়ি হলে দেখার কেউ নেই!
দিনশেষে উপলব্ধি করলাম, একদিনে সত্যি যদি সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, কত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব, তবে ইচ্ছেটা থাকতে হবে!
আজকের লেখায় একটি দিনে নিজের অর্জিত উপলব্ধি ভাগ করে নিলাম মাত্র!



