সূত্রপাত!

in Incredible India • 4 hours ago

1000100499.jpg

কোনোদিন ঝগড়া শুনেছেন? নিশ্চই শুনে থাকবেন! ঘরে হোক কিংবা বাইরে, পথে ঘাটে সর্বত্রই কখনও না কখনও ঝগড়া আমরা দেখেছি কিংবা শুনেছি, আর করেছি তো বটেই!

এই যেমন ধরুন আজকের কথা! ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এসে দাড়াতেই একটি কামরায় উঠে পড়েছিলাম এবং বেশ গুছিয়ে জানালার ধারে সীট পেয়ে গিয়েছিলাম।

ভাবলাম আজকেও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে রাস্তা অতিবাহিত হয়ে যাবে, কিন্তু বাধ সাধলো একটি রোমাঞ্চকর ঘটনা।

ঘটনার উল্লেখ, ট্রেনে বসে তোলা কিছু প্রকৃতির ছবি সহযোগে ভাগ করে নিচ্ছি!
কারণ, রাস্তায় চলাচলের সময় কোনো বিতর্কের ছবি তোলা সঠিক নয় বলে আমি সে পথে অগ্রসর হই নি!

ঝগড়া শুরুর কোনো কারণ প্রথমে ছিলই না, তবে বারাসত ষ্টেশনে যখন ট্রেন থেমেছিল, তখন তিনজন ব্যাক্তি উঠেছিল একই কামরায়।

সেখানে আগে থেকেই তাদের পরিচিত তিনজন উপস্থিত ছিল, কাজেই প্রথমে সৌজন্য বিনিময় করে, আয়েশ করে কমলা লেবু কিনে নিয়েছিল ট্রেন উল্লেখিত স্টেশন ছেড়ে দেবার সাথে সাথে।

যদিও আমিও পাঁচ টাকা দিয়ে একটি কমলা লেবু কিনেছিলাম, যেহেতু শীতের খানিক দেরি তাই বেশি লেবু কিনিনি।

1000100498.jpg

1000100497.jpg1000100503.jpg

যাইহোক, এরপর দেখলাম লেবু বিতরণ চলছে নিজেদের মধ্যে!
তারপর, নেশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
এক্ ভদ্রলোক জানালেন তার বিয়ে হতে দেরি হবার সর্বোপরি কারণ তার খৈনির নেশা!

সে নিজেকে স্পষ্টভাষী হিসেবে দাবি করেন! তাই সম্বন্ধ দেখতে গিয়ে তার নেশার কথায় অনেক সম্বন্ধ ভেঙে গিয়েছে!

মনে মনে বেশ হাসি পাচ্ছিল! কানে আসছিলো উচ্চস্বরে আলোচিত ঘটনা!
এরপর, একটি মেয়ে তার এই নেশা মেনে নেয়, এবং ফুলশয্যার রাতে লোকটি তার নববিবাহিতা স্ত্রীকে চুম্বন করতে গিয়ে দেখেছিলেন, তার খৈনির নেশার বিষয়টি স্ত্রী মেনে নিয়েছেন।

যদিও ভদ্রলোক বিয়ের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তার নেশার কথা।
আচ্ছা, আলোচনা এরপর পৌঁছলো ভদ্রলোকের মেয়ের জন্মের কাহিনী পর্যন্ত!

লোকটির মেয়ে তখন ছোট, মশারী টাঙাতে কিছু সময় লাগে বলে তার স্ত্রী মেয়ের গায়ে হওয়া করতে বলে ভদ্রলোকটিকে, কিন্তু তার খৈনির নেশাকে উপেক্ষা করে তার কাজটি করতে দেরি হওয়ায় তার স্ত্রীর প্রশ্ন, তুমি মেয়েকে বেশি ভালবাসো, নাকি খৈনি কে?

1000100496.jpg

উত্তরে লোকটি জানায় খৈনিকে! যুক্তি হলো, এই নেশা সে করছে যখন তার বয়স পনেরো বছর, আর মেয়ে তো সবেমাত্র জীবনে এসেছে!

আমার এই যুক্তিটিও বেশ উপভোগ্য পাশাপশি অবাক করার মতোই লেগেছিল!
বাস্তবসম্মত কিন্তু ভীষণ সাদা কালো সত্যি!

এবার পরের প্রসঙ্গে আসলো, বাঙ্গালীদের স্বভাব! একজন বাঙালি কখনোই অন্য বাঙালির বিপদে পাশে দাঁড়ায় না!

নাও, ঠ্যালা সামলাও! ট্রেন ভর্তি গিজগিজে বাঙালি! যাবে কোথায়? খৈনি পর্যন্ত বিষয়টি ছিল ব্যাক্তিগত, কিন্তু একেবারে একটি জাতিতে ঢুকে পড়া কি এত সহজ বিষয়?

তারপর, কমলা লেবু দিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা থেকে আলো উধাও, সবটাই চোনা পড়ে সে একেবারে মার মার কাট কাট ব্যাপার!

কারণ, ততক্ষণে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে! আর যাবে কোথায়?
কাজেই সূত্রপাত যেখানে থেকেই শুরু হোক না কেনো, শেষমেশ কথা বাড়তে বাড়তে কতদূর পৌঁছতে পারে তার একটা নমুনা আজকে চাক্ষুষ করলাম।

আপনাদের এই রকম কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না, আজ তাহলে এখানেই সমাপ্তির রেখা টেনে বিদায় নিলাম।

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  

El detalle de los 5 taka por la naranja y la discusión sobre la adicción a la khoini en el tren muestra cómo una conversación casual termina en algo tan personal. ¿En qué estación subieron exactamente los tres que iniciaron todo el alboroto?

Lo del tipo que dijo sin filtro que prefiere la khaini antes que a su hija me sacó una risa, aunque en la práctica ese tipo de confesiones te cuestan la relación. ¿Al final el pleito en el vagón escaló o quedó solo en anécdota?