একটি ব্যতিক্রমী দিন!

প্রতিদিন যখন গতানুগতিক কাজের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়, তখন আমাদের দিনগুলোকে বড্ড এক্ ঘেয়ে মনে হয়! মনে মনে আমরা তখন কল্পনা করি, যদি কোথাও যাওয়া যেতো, যদি একটু অন্যরকম ভাবে দিন কাটানো যেতো!
আজকে আমার অতিবাহিত দিনটি সেই দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম!
আমার আজকের দিনটি ঠিক তেমনি গতানুগতিক ধারার বাইরে অতিবাহিত হয়েছে, অর্থাৎ একটি ব্যতিক্রমী দিন!
আমার মনে হয়, প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই একটি বিষয় প্রযোজ্য আর সেটা হলো, যদি কখনও পরের দিন বেরোনো থাকে, তাও আবার সকালে;
তাহলে সারা রাত অন্যান্য দিনের মতো নিশ্চিন্তে ঘুমের অভাব থেকেই যায়!
আমার গতকাল অন্ততঃপক্ষে সেরকমটাই হয়েছে, এবং এটি প্রথম নয়, ইতিপূর্বে যখন মন্দারমণি গিয়েছিলাম ঘুরতে, তখনও এরকমটাই হয়েছিল।
অনেকবার উঠেছি গতকাল রাতে, এমনিতেই বেশি রাতেই ঘুমোতে যাই, তারপর ঐ বারংবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল, তাই একেবারে উঠে পড়েছিলাম ভোর পাঁচটায়।
আজ প্রজেক্ট ভিসিট এর কথা ছিল, আবার অন্যদিকে গতকাল ঘরের বেশকিছু কাজ করতে হয়েছিল, আজ সত্যি বলতে একেবারেই বেরোনোর ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু কথা দিলে সেটা রাখা উচিত, তাই সবকিছু উপেক্ষা করে, সকালে উঠে অনেক বছর পর টিফিন তৈরি করেছি সঙ্গে নিতে যাবো বলে!
![]() | ![]() |
|---|
আজ মঙ্গলবার, নিরামিষ খাবার খেয়ে থাকি, তাছাড়াও কাজের জায়গায় নিজ প্রয়োজনীয় জিনিষ নিজের বহন করাই উত্তম, অন্যের ভরসায় না থেকে!
তবে, খুব সত্যি আজকে মনে হচ্ছিল যদি আমার মা, থাকতো!
আমাকে যদি টিফিন তৈরি করে দিতো!
ঠিক স্কুলের দিনগুলোর মত।
আমি যখন স্নান, পুজো সেরে বাস ধরতে পৌঁছেছিলাম রাস্তার ধারে, তখন পৌনে দশটা বেজে গিয়েছিল, আমি গতকাল জেনেছিলাম সেভাবে আজকে পৌঁছনোর তাড়া নেই, তাও চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি করবার!
আসলে, একলা হাতে, রান্না, বাসন মাজা, ঘর মোছা, পুজো সবটা সেরে উঠে, তৈরি হতে সময় লেগেছিল খানিক।
ঠিক আধঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর, বাস পেয়েছিলাম।
এরপর যখন পৌঁছলাম তখন বাইরে মুষলধারায় বৃষ্টি, সঙ্গে ছাতা ছিল না, তবে রাস্তার উপরেই প্রজেক্ট তাই প্রায় দৌড়ে ঢুকে পড়েছিলাম।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
এরপর, কিছু ছবি তুলে ফেলেছিলাম ব্যাগ রেখে, কারণ জানি আজকের এই অন্যরকম দিনের উল্লেখ করবার সময় ছবিগুলো তুলে ধরতে হবে।
তবে, বাসে বসে বসে কয়েকটি ছবি এবং সাথে শিক্ত সবুজে ভরা প্রকৃতির একটি ভিডিও করেছি, বাস চলা কালীন।


![]() | ![]() |
|---|



পৌঁছে দেখলাম প্রচুর শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের, সাথে জিনস, টপ, কুর্তি খানিক সাজানো হয়েছে।
আমি থাকতে থাকতেই প্রচুর নাইটি এসে পৌঁছেছে!
সাথে জানতে পারলাম, প্রায় ছয় লক্ষ টাকার শাড়ী আটকা পড়ে আছে থানায়, শুধুমাত্র গাড়ির নম্বর সঠিক লেখেনি যেখান থেকে শাড়ি অর্ডার করা হয়েছে সেখানে কর্মরত একটি মেয়ে, সেই কারণে!
এখন সেই নিয়ে যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে!
আসলে, বাইরে থেকে অনেককিছুই সহজ মনে হলেও, এই ব্যবসায়িক চাপ নেওয়া কিন্তু মুখের কথা নয়!
তবে, প্রজেক্টের ওখানে যাবার সময় লক্ষ্য করলাম, এই মাসের তিন এবং চার তারিখ লোকনাথ মন্দিরে জল নিয়ে যাবার আয়োজন চলছে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে, তাই আমি হয়তো আবার আগামী রবিবার যাবো প্রজেক্টের ওখানে!


আজকের পুরো দিনটা নতুন যারা এসেছে কাজের জন্য তাদের সাথে কথা বলেই কেটেছে, শেষে অবশ্য আরেক দোকান থেকে সুজয় নামের পুরোনো কর্মচারী এসেছিল কিছু শাড়ি গোছানোর জন্য।
তবে, এরপর কাজিন এসে গিয়েছিল, আর বাইরের বৃষ্টি দেখে, সাথে চাকলায় জল নিয়ে যাওয়ার কারণে বাস কম চলছে বলে আমাকে চলে আসতে বললো!
আমাকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে, চলে গিয়েছিল, আমি যখন বাড়ি পৌঁছলাম তখন সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টা বাজে, কারণ ফেরার পথে কিছু জিনিষ কিনে তবে বাড়িতে ঢুকেছি।
পৌঁছে পুনরায় স্নান করে, সন্ধ্যা দিয়ে উঠে বুঝলাম, ব্যতিক্রমী দিন কাটানোর ইচ্ছে মাঝেমধ্যে অনেক ভারী পড়ে যায়, যদি সবকিছু একলা হাতে সেরে, সময়মতো কাজের জায়গায় পৌঁছতে হয়!
এখানেই, আমার সাথে অনেকের বৈষমতা রয়েছে, একটি অন্যরকম দিন অতিবাহিত করলাম বটে, তবে প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তি নিয়ে দিন শেষ করলাম।
তাই এই লেখাটিকে দৈনিক রুটিনের চাইতে একটি অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ দিন বলাই ভালো!
যে দিনগুলোকে আরামে বাড়িতে বসে কাটিয়ে একঘেয়েমির আখ্যা দিয়ে থাকি, একদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেখবেন, বুঝতে পারবেন, অনেকের চাইতে হয়তো আপনি সুখেই আছেন।
যেখানে, বিশেষ কিছু না করেও মাথার উপর আচ্ছাদন, লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক আর খাবারের যোগান কারোর মাধ্যমে অনায়াসে পেয়ে যাচ্ছেন!
তাই, থাকুক কিছু এক্ ঘেয়েমি, সংঘর্ষের জন্য যে মানসিকতা, যে পরিশ্রম আর সাহসিকতার প্রয়োজন সেটি নিজের মধ্যে কতখানি রয়েছে, সেটা মেপে নিয়ে তবেই অভিযোগের খাতা তৈরি করা উচিত, তাই না?










@sduttaskitchen
Thank You for sharing this realistic & reflecting diaries about Your Extraordinary Day.
Reading through Your Early Morning Rush, Preparing Tiffins Yourself,
Managing Business Stress at Project Site, Facing Heavy Rains &
A lot More.. Made Me Realized How Hard You Work..
Its A Truly Inspiring Write-Up That Reminds Us To Appreciate Our Daily Lives Instead Of Complaining!