দুর্গাপূজার প্যান্ডেল, পর্ব - ৫।
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি।
বিগত কয়েকটা পোস্টে আপনাদের সাথে এবছর দুর্গাপূজার প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্ত শেয়ার করে ছিলাম।
আগের পোস্টগুলোতে আপনাদের সাথে সাথে সপ্তমীর প্রথম দিনের ঘোরাঘুরির মুহুর্ত তুলে ধরেছিলাম। আজ আপনাদের সাথে সপ্তমীর দ্বিতীয় দিনের ঘোরাঘুরির কিছু মুহুর্ত শেয়ার করতে চলেছি।
স্থান :- শিব বাড়ি মোড়।
বিগত দিন বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো তাই আজ সন্ধ্যার পর পরই বেরিয়ে পড়লাম যাতে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে পারি।
বর্তমানে পরিস্থিতি যেমন শুরু হয়েছে তাতে রাতে বাইরে ঘোরাঘুরি করা মোটেও সেফটি না নিজের জন্য। সচারাচর রাতে কোথাও যাই না, দুর্গাপূজা বলেই ঘুরতে বেরিয়েছি।
আমার ঘোরাঘুরি সঙ্গী??
স্থান পরিবর্তন হয় তবে আমার সঙ্গী,
আমার সঙ্গী সেই কৌশিক। দু'জন একসাথে আজও পূজা দেখতে বেরিয়েছিলাম। কৌশিক আজ আবার পাঞ্জাবি পরে বেরিয়েছে তবে আমার কেন জানি পাঞ্জাবি ভালো লাগে না।
![]() |
|---|
এই জায়গাটার নামই শিব বাড়ি মোড়, তবে এই নাম পরিবর্তন করার অনেক চেষ্টা চালানো হয়েছিলো সাম্প্রতিক কালে তবে সেটা হয় সম্ভব হয় নি।যাক সেটা অন্য প্রসঙ্গ।
খুলনার ভেতরে এখানেও অনেক জাঁকজমক করে পূজা করা হয়। বড় প্যান্ডেল, আশেপাশের বিল্ডিং সব কিছু আলোয় ঝলমল করে সাজানো। সেই মোড়ের মাঝের অংশটা কত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে সেটা দেখতে পাচ্ছেন।
![]() |
|---|
এখানে ছবি ওঠার জন্য অনেক কিছু করা হয়েছি যেখানে দাঁড়িয়ে সবাই ছবি উঠতে পারে।
আগেকার দিনে পালকিতে করে বিয়ে করতে যেতো। তবে এখন পালকি দেখা যায় না। তবে প্যান্ডেলের সামনে পালকির একটা নকশা তৈরি করা ছিলো, ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র সংস্কৃতি নয় বরং আমাদের ঐতিহ্যের বাহকও বটে।
নতুন প্রজন্মের অজানা বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়। প্যান্ডেল ঘুরে দেখতে দেখতে মনে একটা কথা বারবার আসছিলো - এখন কয়টা মানুষ মায়ের মুখ দর্শন করতে যায় বা মায়ের সামনে গিয়ে ২ মিনিট মায়ের দিকে শান্ত মনে তাকিয়ে থাকে সেটা সত্যিই জানার বিষয়। সবাই নিজ নিজ ছবি তুলতে ব্যস্ত। কোন ভাবে, কোন পোঁচ দিয়ে দাঁড়ালে ছবি ভালো আসবে এই নিয়েই ব্যস্ত।
মায়ের প্রতি সমর্পণের চেয়েও, আমি যে প্যান্ডেল দেখতে বেরিয়েছি সবার সামনে সেটাই উপস্থাপন করাটা বেশি প্রধান্য পায়। যেটা আমার কাছে সত্যি খারাপ লাগে।
যদিও আমি ছবি নিয়ে এত সিরিয়াস না তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটা ছবি তুলে রাখি, না হলে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিভাবে! প্যাডেলের সামনে দাঁড়িয়ে দু'জন কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম । নিজ নিজ ধর্মের অনুসরণ করতে কার না ভালো লাগে। তবে সবাই হয়ত সমান ভাবে চিন্তা করে না তাই হয়ত পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে এত হানাহানি। অন্যের ধর্মকে ছোটো করলে নিশ্চয় সেটা নিজ ধর্মের প্রতি সম্মান বুঝায় না। অন্যের ধর্মকে যারা ছোটো করে তারা মূলত নিজের মানসিকতা আর শিক্ষার পরিচয় দেয়। সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি। সকলে ভালো থাকবেন।






Thank you very much for your support 🙏