বন্ধুদেরকে সঙ্গে নিয়ে বারবিকিউ তৈরি!
আশা করি, সকলে ভালো আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ থেকে কিছু দিন আগের একটা ঘটনা নিয়ে হাজির হয়েছি।
সেদিন সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো। বাড়িতে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাচ্ছিলাম, বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় ছিলো না। সারা দিন বাড়িতে একঘেয়েমি লাগছিলো।
তবে দুপুরের পর বৃষ্টি কিছুটা কমেছিলো, তখন রাস্তায় বেরোতে বন্ধুদের সাথে দেখা হলো।
কথায় কথায় হুট করে সকলের একটু অন্য রকম প্লানিং হলো। বৃষ্টির দিনে মজার মজার খাবার খেতে আমার অন্তত ভীষণ ভালো লাগে। তেমনটাই প্লানিং করলাম সকলে মিলে। আমরা ৫/৬ জন ছিলাম। সকলে ঠিক করলাম, বারবিকিউ তৈরি করবো, তবে আমার এই ব্যাপারে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না।
বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় সকল কিছু কিনে আনা হলো,চিকেন ও প্রয়োজনীয় সকল মসলা ইত্যাদি। তবে এগুলো যেহেতু রেগুলার করা হয় না তাই আমাদের কাছে বারবিকিউ নেট ছিলো না কিন্তু তাই বলে কি সব কিছু থেমে যাবে?
একদমই না,
কথায় আছে না, বুদ্ধি থাকলে সকল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। কোনো উপায় না পেয়ে আমরা টেবিল ফ্যানের খাঁচার সামনের অংশ খুলে পরিষ্কার করে ভালো ভাবে ধুয়ে ওটাকেই বারবিকিউ নেট বানিয়ে নিলাম😀। কি বুদ্ধিটা ভালো না?
আমরা সব কিছুর আয়োজন পাশের একজনের বাড়িতে করছিলাম। মাংস কেটে পরিষ্কার করে সেই সাথে মসলা থেকে শুরু করে সব কিছু রেডি করে ফেললাম। সকলে মিলে আনন্দ করে এসব কাজ করতে কিন্তু বেশ ভালো লাগে।
নিজের মনকে ভালো রাখতে মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে এমন পার্টির আয়োজন করলে মন্দ হয় না। কেউ তেমন পারদর্শী নই, তবুও সকলে মিলে ভুল ভাল কাজ করতেও ভালো লাগে, আনন্দ লাগে, হাসি পায় এটাই তো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সার্থকতা আর জীবনের প্রাপ্তি!
ছোটোবেলায় বন্ধুদের সাথে পিকনিক করেছেন কখনও?
যেখানে রান্নায় স্বাদের চেয়েও বেশি প্রাধান্য ছিলো একসাথে আনন্দ করে খাওয়া, খাবারের স্বাদ হোক বা না হোক আনন্দের কোনো কমতি ছিলো না।
সব কিছুর যোগাড় শেষে কয়লা ধরিয়ে দিলাম। রাত অনেক হয়েছে কিন্তু গ্রিল কমপ্লিট হয় নি, এদিকে ভীষণ খিদে পেয়েছে। অনেকক্ষণ সময় লাগে এটা আপনারা জেনে থাকবেন। ভালো ভাবে না পুড়লে খেতেও ভালো লাগবে না তাই কোনো তাড়াহুড়ো করলাম না।
অনেকক্ষণ পর শেষমেশ কমপ্লিট হলো। সবাই ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসলাম। খেতে মোটামুটি ভালো হয়েছিলো, খুব বেশি ভালো হয়েছিলো এটা বলবো না। তবে ঐযে বললাম এখানে কোনো অভিযোগ নেই কারন মুহুর্তটাই বেশি মূল্যবান।
সত্যি বলতে, দোকান থেকে বারবিকিউ কিনে খাইনি এটা বলবো না তবে এখন আর খাইনা। বাইরের খাবার এখন খাইনা বললেই চলে। অনেক সময় রেস্টুরেন্টগুলোতে আগের দিনের থেকে যাওয়া মাংসগুলো আবার বিক্রি করে। বাসি খাবারগুলো পরদিন নতুন ভাবে উপস্থাপন করাটা খুব নরমাল হয়ে গিয়েছে।
ছবিতে দেখে হয়ত মনে হচ্ছে যে মাংসগুলো বেশি পুড়ে গিয়েছে। তবে বাস্তবে মনে হচ্ছিলো আরেকটু পোড়ালে ভালো হতো। আশা করি, আজকের লেখা আপনাদের কাছে পছন্দ হয়েছে। আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি, সকলে ভালো থাকবেন।






