দূর্গাপূজার প্যান্ডেল, পর্ব - ৪।

in Incredible India • 10 days ago (edited)

1000201547.jpg

পূজা শেষ হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগে। তবে ফোনের গ্যালারিতে ডুকে ছবিগুলো চোখে পড়লে পূজার সময় ঘুরতে যাওয়ার মুহুর্তগুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

পূজা শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকদিন যাবত আপনাদের সাথে প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্ত শেয়ার করেছি, তবুও এখনও সব কিছু বলে ওঠা হয় নি।

1000201550.jpg

স্থান : খুলনা বড় বাজার

আসলে এবছর অনেকগুলো প্যান্ডেল দেখেছি, সেগুলো তো একদিনে সবকিছু তুলে ধরা সম্ভব নয় তাই পর্ব আকারে শেয়ার করছি।

খুলনার বড় বাজার কমিটি মিলে এই পূজার আয়োজন করে। প্রতি বছর এখানে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে প্যান্ডেল তৈরি করে।

1000201654.jpg

তবে এবছর অনেকটা ভিন্ন ভাবে তৈরি করেছে প্যান্ডেল। রাস্তা থেকে আনুমানিক প্রায় ৫০/৬০ ফিট উঁচুতে মায়ের মন্দির তৈরি হয়েছে। তাছাড়া প্যান্ডেল তো আরও অনেক উঁচু, তবে প্রধান মন্দির ৫০/৬০ ফুট উঁচুতে তৈরি।

অনেক উঁচুতে তৈরি করার ফলে নিরাপত্তার বিষয়ে ভীষণ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিলো। একত্রে অনেক মানুষ উঠতে দিচ্ছিলো না। সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হবে, ভলেন্টিয়াররা দক্ষতার সাথে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলো যেটা খুবই ভালো লেগেছে।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর, আমরাও উঁচুতে উঠে মন্দিরে প্রবেশ করলাম।

1000201552.jpg

এখানে মায়ের প্রতিমা খুব সাধারণ ভাবে তৈরি করেছিলো, অতিরঞ্জিত করে চোখে লাগার মতো কিছু করেনি। সচারাচর মাকে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত তেমন ভাবেই দেখলাম মাকে।

1000201553.jpg
1000201554.jpg

সত্যি বলতে, নির্দিষ্ট কোনো প্যান্ডেলকে পছন্দের শীর্ষে রাখা মুশকিল। সবগুলো প্যান্ডেল ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে তৈরি, তাই ঘুরতে একঘেয়ি লাগছিলো না। আমার দেখা সবগুলো প্যান্ডেলই আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।

প্যান্ডেলের ভেতরেও অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো ছিলো। রাধা - কৃষ্ণ, মা দূর্গা, মহাদেব পাশাপাশি আরও অনেক ছবি আঁকা ছিলো।
ও হ্যা, মায়ের প্রসাদ নিয়েছিলাম এই প্যান্ডেল থেকে। কিছুক্ষণ মন্দিরের সামনে দাড়িয়ে থেকে প্যান্ডেলের পেছন দিক দিয়ে নেমে যাই।

1000201560.jpg

স্থান: শীতলা বাড়ি মন্দির, খুলনা

খুলনা শীতলাবাড়ি মন্দির, খুলনার ভেতরে সব থেকে জনপ্রিয়। শীতলা বাড়ি মন্দিরের পাশে আমার বাসা থাকায় শুধু দূর্গা পূজার সময় নয়, সময় পেলে মন্দিরে গিয়ে বসে থাকি।

প্রতিদিন বিকালে মন্দিরে অনেক মানুষ আসে, বিশেষ করে আশেপাশের বাসার ছোটো বাচ্চাদের নিয়ে মায়েরা এখানে আসে। আমরাও বন্ধুরা মিলে এখানে এসে বসে থাকি, ছোটোবেলায় ধর্ম বইতে পড়েছি,
মন্দিরে গেলে মন পবিত্র হয়, সত্যিই তাই।
মন্দিরে গেলে মনে কোনো হিংসাত্মক ভাবনা আসে না, খারাপ ভাবনা আসে না।

1000201656.jpg

আর দুর্গাপূজা হবে, পূজা দেখতে আসবো না তা তো হয় না। সপ্তমীর প্রথম দিন প্যান্ডেল ঘুরে দেখা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় শীতলা বাড়ি মন্দিরে গিয়েছিলাম। বাসার পাশে এজন্য সব শেষে এখানে গিয়েছিলাম।

1000201658.jpg

মন্দিরের সামনে ছোটো বাচ্চারা নৃত্য করছিলো এবং সেই সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছিলো। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখছিলাম কিন্তু সন্ধ্যা হেঁটে হেঁটে প্যান্ডেল দেখে পায়ে ব্যথা করছিলো তাই বাসায় চলে এসেছিলাম।

প্রতি বছর পূজা আসে আমাদের জীবনে নতুন স্মৃতি নিয়ে, নতুন ভাবে নতুন কিছুর সাথে পরিচয় করিয়ে জীবনটা এভাবে উপভোগ্য করে তোলে। দুর্গাপূজা আমাদের জীবনের অংশ। যাই হোক, আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি, সকলে ভালো থাকবেন।

Sort:  
Loading...

Congratulations!


Your post has been visited and supported by the Steem Dream Team through the @booming02 curation account.We appreciate the effort and value you bring to the Steem community. Keep creating quality content, engaging with others, and contributing to the growth of our ecosystem.

image.png
Curated by: <@lirvic> Steem Dream Team
Supporting
quality • Encouraging engagement • Growing together
 9 days ago 

Thank you very much for your support.