পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ২৪ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের ২৪ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল। ত্রিশ বছর আগে এক রাতে আমি প্রথম ওর নাম শুনি। কার কাছ থেকে? বাড়ির পুরনো পুরোহিতের কাছ থেকে। তারপর? পুরোহিত বলেছিলেন, উত্তরের ঘর কখনও খোলা যাবে না। অর্ক বলল- কিন্তু আপনি তো নিজেই সেখানে ঢুকেছিলেন। হ্যাঁ। কেন? শশাঙ্ক চোখ নামিয়ে বললেন- কারণ আমি বিশ্বাস করিনি। ত্রিশ বছর আগে সেদিনও আকাশ মেঘলা ছিল। অর্ক যেন শশাঙ্কের কথার মধ্যে সেই রাতটা দেখতে পাচ্ছিল। পুরনো বাড়ির চারপাশে বাতাস, বাঁশঝাড়ের শব্দ। দূরে কুকুরের ডাক। আর বাড়ির উত্তর দিকের করিডোরে একটিমাত্র কেরোসিন বাতি।
শশাঙ্ক বললেন- সেদিন রাত প্রায় বারোটা। হঠাৎ আমি উত্তরের ঘর থেকে শব্দ শুনি। কী শব্দ? কেউ যেন কাঁদছিল। অর্ক চুপ করে শুনছিল। প্রথমে ভাবলাম কোনো পশু ঢুকেছে। তারপর স্পষ্ট শুনলাম একটা শিশুর কান্না। শিশু? হ্যাঁ। কিন্তু ওই ঘর তো তখনও বন্ধ ছিল? ছিল। তাহলে? সেটাই ছিল প্রথম ভুল। অর্ক বলল- কী ভুল? আমি দরজা খুলেছিলাম। আপনি কি একা ছিলেন? না। শশাঙ্ক একটু থামলেন- তোর বাবা আমার সঙ্গে ছিল। অর্কের বুক ধক করে উঠল- বাবা? হ্যাঁ। তাহলে বাবা আমাকে কেন কখনও বলেনি? কারণ সেদিনের পর তোর বাবা আর ওই রাতের কথা কাউকে বলতে চায়নি। কী হয়েছিল? শশাঙ্কের চোখে আতঙ্ক ফিরে এল। আমরা দরজা খুলে দেখলাম ঘর খালি। কেউ ছিল না? না। তাহলে কান্নার শব্দ?...
