প্রাচীন ভারতীয় ভাস্কর্যের অপূর্ব নিদর্শন
প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাসে ভাস্কর্যশিল্প একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। পাথরের বুকে খোদাই করা প্রতিটি মূর্তি যেন এক একটি সময়ের গল্প বলে। কোথাও ফুটে উঠেছে ধর্মীয় বিশ্বাস, কোথাও দেবদেবীর মহিমা, আবার কোথাও প্রকাশ পেয়েছে শিল্পীর অসাধারণ কল্পনাশক্তি ও নিপুণ কারুকার্য। প্রতিটি ভাস্কর্যের গঠন, অভিব্যক্তি এবং সূক্ষ্ম অলংকরণ প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।প্রথম ভাস্কর্যটি তিনটির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখানে গৌতম বুদ্ধকে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মুখমণ্ডলে প্রশান্তির ছাপ, চোখ দুটি অর্ধনিমীলিত এবং দুই হাত ধ্যানের ভঙ্গিতে স্থাপিত। পদ্মাসনে বসে থাকা বুদ্ধের চারপাশে রয়েছে বিশালাকার সর্পের ফণা, যা তাঁকে ছায়া ও সুরক্ষা প্রদান করছে।
দ্বিতীয় ভাস্কর্যটি একজন বহু বাহুবিশিষ্ট দেবীর। মূর্তিটির দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে দেবীর রাজকীয় অবয়ব, অলংকারে সজ্জিত দেহ এবং বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত হাতের বিন্যাস। দেবীর মাথায় রয়েছে সুন্দরভাবে নির্মিত মুকুট। গলায় হার, বাহুতে অলংকার এবং কোমরের পোশাকে সূক্ষ্ম নকশার উপস্থিতি ভাস্কর্যটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তৃতীয় ভাস্কর্যটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে একজন দেবীকে দাঁড়ানো অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মাথায় অলংকৃত মুকুট, গলায় সুন্দর হার এবং পরনে নকশাদার পোশাক। এক হাতের মুদ্রা এবং দেহের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এক ধরনের কোমলতা ও সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে। মূর্তিটির পেছনে রয়েছে খিলান আকৃতির একটি অলংকৃত পাথরের ফলক। ফলকের চারপাশে ছোট ছোট নকশা এবং বিভিন্ন অলংকারের কারুকার্য রয়েছে।
