সিরিজ: বিজ্ঞানের অজানা রহস্য | পর্ব ০১: মহাবিশ্বের ৯৫% কোথায়?
আসসালামু আলাইকুম
আমরা যে মহাবিশ্ব দেখি, সেটাই কি পুরো মহাবিশ্ব? রাতের আকাশে অসংখ্য তারা, দূরের গ্যালাক্সি, গ্রহ, নক্ষত্র আর নীহারিকা দেখে আমাদের মনে হতে পারে, মহাবিশ্বের বিশাল অংশই বুঝি আমাদের চোখের সামনে রয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের সামনে তুলে ধরেছে এক বিস্ময়কর সত্য, মহাবিশ্বের মোট ভর-শক্তির মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ সাধারণ পদার্থ দিয়ে গঠিত। তাহলে বাকি ৯৫ শতাংশ কোথায়?
আমাদের পৃথিবী, সূর্য, চাঁদ, অন্যান্য গ্রহ এবং অসংখ্য গ্যালাক্সি সাধারণ পদার্থ দিয়ে তৈরি। আমাদের শরীর থেকে শুরু করে পাহাড়, সমুদ্র, বাতাস, সবকিছুই এই পদার্থের অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা একে বলেন Ordinary Matter বা সাধারণ পদার্থ। কিন্তু মহাকর্ষীয় প্রভাব এবং মহাবিশ্বের প্রসারণ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, শুধু সাধারণ পদার্থ দিয়ে মহাবিশ্বের সব আচরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এখানেই সামনে আসে ডার্ক ম্যাটার বা অন্ধকার পদার্থের রহস্য। এটি আলো নির্গত করে না বা সাধারণভাবে সরাসরি দেখা যায় না। তবে গ্যালাক্সির নক্ষত্রের গতি, গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের আচরণ এবং মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের মতো ঘটনা থেকে বিজ্ঞানীরা এর উপস্থিতির প্রমাণ পান। বর্তমান মহাজাগতিক মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট ভর-শক্তির প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এটি ঠিক কোন কণিকা দিয়ে তৈরি, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এরপর আসে আরও বিস্ময়কর রহস্য, ডার্ক এনার্জি। ১৯৯০-এর দশকে দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই ত্বরিত প্রসারণ ব্যাখ্যা করার জন্য ডার্ক এনার্জির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমান মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট ভর-শক্তির প্রায় ৬৮ শতাংশ এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাহলে হিসাবটি কী দাঁড়াল? প্রায় ৫ শতাংশ সাধারণ পদার্থ, ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি। এই সংখ্যাগুলো আনুমানিক এবং বর্তমান মহাজাগতিক মডেলের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ৯৫ শতাংশ বলতে এমন কোনো বিশাল ফাঁকা জায়গা বোঝানো হচ্ছে না, যেখানে বস্তু লুকিয়ে আছে। বরং মহাবিশ্বের গঠন ও প্রসারণ ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজনীয় এমন উপাদান বা প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে, যাদের প্রকৃতি এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা এই অদৃশ্য উপাদানগুলোর প্রকৃতি নিশ্চিতভাবে না জানলেও তাদের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে মহাবিশ্বের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করছেন। হয়তো ভবিষ্যতে নতুন কোনো আবিষ্কার আমাদের এই রহস্যের সমাধান দেবে। আবার এমনও হতে পারে, একটি রহস্যের সমাধান নতুন দশটি প্রশ্নের জন্ম দেবে।
আপনার কাছে প্রশ্ন: আপনি কোন রহস্যটির উত্তর আগে জানতে চান? ডার্ক ম্যাটার আসলে কী দিয়ে তৈরি, নাকি ডার্ক এনার্জি কেন মহাবিশ্বের প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে? পরবর্তী পর্বে থাকছে আরও একটি বিস্ময়কর প্রশ্ন, ব্ল্যাক হোলের ভেতরে আসলে কী আছে?
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: সিরিজ: বিজ্ঞানের অজানা রহস্য | পর্ব ০১: মহাবিশ্বের ৯৫% কোথায়?
কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...



High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
| Vote Witness @seven.wit | Meet Speak on Steem |
|---|---|---|
We are the hope!