কালো খামের চিঠি ( পর্ব ১০ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর দশম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ঘরের ভেতর নীরবতা নেমে এল। ডক্টর রায় আবার বললেন- তোমার বোন ঐশী ছিল অসাধারণ মেধাবী। ওর স্মৃতিশক্তি ছিল স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত। কিন্তু পরে বুঝলাম ও এমন কিছু দেখে ফেলেছিল, যা কখনো দেখা উচিত ছিল না। অর্ণব চিৎকার করে উঠল- কী দেখেছিল? কিন্তু কোনো উত্তর এল না।বরং কম্পিউটারের পর্দায় একটি ভিডিও চালু হলো এবং ভিডিওটি খুবই ঝাপসা। তারিখ- ১৭ জুলাই, ২০০৮। একটি শ্রেণিকক্ষ, কয়েকজন শিশু।তাদের মধ্যে ঐশী আর অর্ণব নিজেও।
সে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিশুদের একে একে একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের মাথায় অদ্ভুত যন্ত্র লাগানো হচ্ছে। তারপর কয়েক মিনিট পর তারা বাইরে বেরিয়ে আসছে। কিন্তু প্রত্যেকের মুখে একই রকম শূন্য দৃষ্টি। ভিডিওর শেষে ছোট্ট ঐশী ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিল।কিন্তু একজন লোক দৌড়ে এসে ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। ভিডিও শেষ এবং অর্ণবের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল, কিন্তু তার কিছুই মনে নেই।সে কি সত্যিই সেখানে ছিল? এরপর ডক্টর রায় বললেন- হ্যাঁ, তুমি ছিলে। তোমাদের দুজনের স্মৃতি পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং তোমার ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি সফল হয়। ঐশীর ক্ষেত্রে হয়নি। অর্ণব ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়ল এবং তার সমস্ত বিশ্বাস ভেঙে পড়ছে।
ঐশী সব মনে রেখেছিল? ডক্টর রায় দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং বললেন- সম্পূর্ণ নয়। কিন্তু যথেষ্ট মনে রেখেছিল। তাই ওকে নজরদারিতে রাখা হয়। তাই ও ভয় পেত, তাই ও বারবার বলত- ওরা আমাকে দেখে ফেলেছে। অর্ণবের চোখ ভিজে উঠল এবং সে ফিসফিস করে বলল- তাহলে ও আত্মহত্যা করেনি? ডক্টর রায় সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন না। কয়েক মুহূর্ত পরে বললেন- না। একটি শব্দ। কিন্তু সেই একটি শব্দ যেন অর্ণবের পৃথিবী বদলে দিল। ঐশী আত্মহত্যা করেনি। তাহলে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? পর্দায় ডক্টর রায়ের মুখ আরও গম্ভীর হয়ে উঠল। যেদিন ঐশী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, সেদিনই আমি বুঝেছিলাম- সময় শেষ হয়ে আসছে। সে আমাকে বলেছিল ও সব মনে করতে শুরু করেছে। আমি ওকে লুকিয়ে থাকতে বলেছিলাম।
কিন্তু তিনি চোখ নামিয়ে ফেললেন আর আমি দেরি করে ফেলেছিলাম। অর্ণব দাঁতে দাঁত চেপে বলল- কে করেছে? নাম বলুন! ঠিক তখনই কম্পিউটারের স্ক্রিন কেঁপে উঠল। ভিডিওতে স্ট্যাটিক শব্দ। তারপর একটি লাল সতর্কবার্তা ভেসে উঠল- ACCESS BREACH DETECTED. ডক্টর রায় তাড়াহুড়ো করে বললেন- তারা জেনে গেছে তুমি এখানে এসেছ। শোনো, সময় খুব কম। তোমার কাছে যে রূপার চাবিটা আছে, ওটা শুধু লকারের নয়। ওটাই শেষ দরজার চাবি। তোমার বাড়ির ভেতর তোমার বাবার পুরোনো বইয়ের আলমারির পেছনে হঠাৎ শব্দ বন্ধ, পর্দা অন্ধকার।এক সেকেন্ড পরে আবার জ্বলে উঠল। কিন্তু এবার ডক্টর রায় নেই। তার জায়গায় কালো পর্দায় সাদা অক্ষরে লেখা- তুমি অনেক দূর চলে এসেছ, Subject-14. এর নিচে ধীরে ধীরে আরেকটি বাক্য ফুটে উঠল- এবার আমাদের দেখা করার সময় হয়েছে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





