মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৮ )

in আমার বাংলা ব্লগ14 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৮ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো এরপর অর্ণব ফিসফিস করে বলল- তুমি... সত্যিই আমার ভাই? শিশুটি মাথা নাড়ল- হ্যাঁ। তাহলে তুমি মারা যাওনি? অয়ন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল- আমি মারা গিয়েছিলাম, তাহলে? আমার একটা অংশ বেঁচে আছে। কোথায়? অয়ন অর্ণবের দিকে তাকাল। তারপর নিজের বুকের দিকে ইশারা করল- তোমার ভেতরে। অর্ণবের মাথা ঘুরতে লাগল। তার বাবা হঠাৎ বলল- এখন ওকে যেতে দে। অর্ণব তাকাল- কাকে? অয়নকে। অয়ন চিৎকার করে উঠল- না! তারপর সে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলল- দাদা, ওকে বিশ্বাস করো না! কাকে? তোমার বাবাকে।অর্ণব থেমে গেল।

কেন? অয়নের চোখে আতঙ্ক।কারণ তোমার বাবা... সে বাক্য শেষ করার আগেই লণ্ঠনের আলো নিভে গেল। ঘর আবার অন্ধকার, একটা ধস্তাধস্তির শব্দ। নির্মলবাবুর চিৎকার- অর্ণব, নিচে ঝুঁকে পড়! তারপর- ধাম!রিভলভারের গুলির শব্দ, অর্ণব মেঝেতে পড়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা, তারপর আলো ফিরে এল। নির্মলবাবু দাঁড়িয়ে আছেন, তার হাতে রিভলভার। সামনে কেউ নেই, শুধু মেঝেতে পড়ে আছে- একটা পুরোনো লণ্ঠন। অর্ণব উঠে দাঁড়াল।আপনি কাকে গুলি করলেন? নির্মলবাবু কাঁপতে কাঁপতে বললেন- তোমার বাবাকে। অর্ণব চারপাশে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই। কোথায়? বৃদ্ধ জানালার দিকে তাকিয়ে বললেন- ও পালিয়ে গেছে। অর্ণব দোতলার দিকে তাকাল, কিন্তু অয়নও নেই।

শুধু সিঁড়ির ওপর পড়ে আছে একটা ছোট্ট কাগজ।অর্ণব সেটা তুলে নিল। কাগজে লেখা- দাদা, তুমি যখন এই চিঠি পড়বে, তখন বুঝবে- তোমার বাবা আসল অতিথি নয়। নিচে আরও একটা লাইন- আসল অতিথি তোমার জন্মের আগেই তোমার শরীরে ঢুকেছিল। অর্ণবের হাত কাঁপতে লাগল।শেষ লাইনটা পড়ে তার বুকের ভেতর যেন সবকিছু থেমে গেল। আর সেই অতিথিকে বের করার একমাত্র উপায়- তোমাকে মরতে হবে। আসল অতিথি তোমার জন্মের আগেই তোমার শরীরে ঢুকেছিল। কাগজের শেষ লাইনটা পড়ার পর অর্ণব অনেকক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না।তার হাতে ধরা কাগজটা কাঁপছিল। ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে। নির্মলবাবু কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে এবং তার হাতে এখনও রিভলভার।

মেঝেতে পড়ে আছে পুরোনো লণ্ঠন। আর দোতলার সিঁড়ি- অন্ধকার। অর্ণব ধীরে ধীরে কাগজটা নামিয়ে বলল- আমাকে মরতে হবে? নির্মলবাবু কোনো উত্তর দিলেন না। আপনি জানতেন? বৃদ্ধ মাথা নিচু করলেন- জানতাম। কতদিন ধরে? ত্রিশ বছর। অর্ণবের চোখে বিস্ময়, আপনি আমাকে ছোটবেলা থেকেই চিনতেন? হ্যাঁ। তাহলে আমার জীবনে আপনি কখনও আসেননি কেন? নির্মলবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন- কারণ তোমার বাবা আমাকে নিষেধ করেছিল। কেন? বলেছিল, তোমার কাছে গেলে ও ফিরে আসবে। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল- কে? বৃদ্ধ ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালেন- অয়ন। অর্ণব চেয়ারে বসে পড়ল। তার মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অয়ন কি সত্যিই তার ভাই? যদি হয়- তাহলে সে তার শরীরের ভেতরে কীভাবে?...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available