মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১ )

in আমার বাংলা ব্লগ21 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো। রাত তখন ঠিক বারোটা বেজে সতেরো মিনিট। শহর থেকে অনেক দূরে, নদীর ধারে ছোট্ট এক জনপদ। দিনের বেলায় জায়গাটা যতটা সাধারণ, রাত নামার পর যেন ততটাই অপরিচিত হয়ে ওঠে। দূরে কোথাও মাঝে মধ্যে কুকুরের ডাক, বাঁশ বাগানের পাতায় বাতাসের শব্দ আর নদীর কালো জলের ওপর ভেসে আসা অদ্ভুত এক গন্ধ- এই ছিল রাতের সঙ্গী। সেই রাতেও চারপাশে তেমনই নিস্তব্ধতা। তবে গ্রামের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো দোতলা বাড়িটিতে তখনও আলো জ্বলছিল। বাড়িটির নাম ছিল শান্তিনিকেতন ভিলা।নামটা শুনলে যতটা সুন্দর মনে হয়, বাড়িটা আসলে তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে। একসময় জমিদার বাড়ির মতো বিশাল ছিল। এখন দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে, জানালার কাঠে পোকা ধরেছে, ছাদের কার্নিশে বট গাছের শিকড় ঢুকে গেছে। বাড়ির চারপাশে কোনো প্রতিবেশী নেই।উত্তরে বাঁশঝাড়, দক্ষিণে পুরোনো আম বাগান, পশ্চিমে নদী। আর পূর্বদিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গ্রামের প্রথম বাড়িগুলো। এই বাড়িতে গত তিন মাস ধরে একাই থাকছিল অর্ণব মুখার্জি। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। পেশায় সে একজন লেখক। শহরের ব্যস্ততা, মানুষের কোলাহল আর প্রতিদিনের অসংখ্য ফোনকল থেকে দূরে থাকার জন্যই সে এখানে এসেছিল।তার নতুন উপন্যাস লেখার জন্য নির্জন একটা জায়গা দরকার ছিল।

শান্তিনিকেতন ভিলার মালিক ছিল তার এক দূর সম্পর্কের কাকা। বহু বছর ধরে বাড়িটা বন্ধ পড়ে ছিল। অর্ণবকে কয়েক মাস থাকার অনুমতি দিতে তার কোনো আপত্তি ছিল না। প্রথম দুটো মাস বেশ ভালোই কেটেছিল।কিন্তু তৃতীয় মাসে এসে অর্ণব বুঝতে শুরু করল- এই বাড়িতে সে একা নয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় দশ দিন আগে। রাত তখন সাড়ে এগারোটা।অর্ণব তার লেখার টেবিলে বসে লিখছিল। হঠাৎ ওপরতলা থেকে একটা শব্দ হয়েছিল- ঠক... ঠক... ঠক...। মনে হয়েছিল কেউ যেন কাঠের মেঝেতে ধীরে ধীরে হাঁটছে। অর্ণব ভেবেছিল হয়তো কোনো ইঁদুর। কিন্তু শব্দটা কয়েক সেকেন্ড পর আবার হলো- ঠক... ঠক... ঠক...। তারপর থেমে গেল। সে সেদিন বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি।

কিন্তু দ্বিতীয় দিন রাতে আবার একই ঘটনা। এমনকি তৃতীয় দিনও। প্রতিবার রাত সাড়ে এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো- শব্দটা সবসময় একই জায়গা থেকে আসত। দোতলার উত্তর দিকের সেই ঘর থেকে, যে ঘরটি গত চল্লিশ বছর ধরে বন্ধ। অর্ণব একবার দরজাটা খুলতে চেষ্টা করেছিল। দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল না। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক, দরজা এক ইঞ্চিও নড়েনি। যেন ভেতর থেকে কেউ শক্ত করে ধরে রেখেছে। অর্ণব তখন বিষয়টাকে পুরোনো বাড়ির কাঠের ফুলে যাওয়া দরজা বলে ধরে নিয়েছিল। কিন্তু সেদিন রাতে যা ঘটতে চলেছিল, তার কোনো যুক্তি সঙ্গত ব্যাখ্যা সে আর কখনও খুঁজে পায়নি।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available