অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ১০ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর দশম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- অরিন্দম ফাইলটি বের করল। ফাইলের ওপর লেখা- ১৭ / ২০০৪ / ব্যক্তিগত, সে ফাইল খুলল। ভেতরে কয়েকটি কাগজ। প্রথম পাতায় কিছু নাম, তারিখ, ট্রেন নম্বর, স্টেশনের নাম। আর এক পাশে লাল কালি দিয়ে লেখা- ফিরে আসা যাত্রীদের তালিকা। অরিন্দম একে একে নামগুলো পড়তে লাগল। প্রথম নাম- রফিকুল ইসলাম। দ্বিতীয়- মাধব সেন। অরিন্দম থমকে গেল। মাধব সেন, তার বাবা। তৃতীয় নাম- সুবর্ণা সেন, তার মা।চতুর্থ নাম- অরিন্দম সেন, তার নিজের নাম। কিন্তু নামগুলোর পাশে দুটি কলাম। একটিতে লেখা- প্রবেশ , অন্যটিতে প্রত্যাবর্তন।
রফিকুল ইসলামের পাশে- প্রবেশ: ১১:৩৭ PM, প্রত্যাবর্তন: ১২:০৩ AM. মাধব সেন- প্রবেশ: ১১:৪১ PM, প্রত্যাবর্তন: ——— সুবর্ণা সেন- প্রবেশ: ১১:৪২ PM, প্রত্যাবর্তন: ——— অরিন্দম সেন- প্রবেশ: ১১:৪৩ PM, প্রত্যাবর্তন: ১১:৪৮ PM. অরিন্দমের হাত কেঁপে উঠল। আমি... ফিরে এসেছিলাম? কিন্তু কীভাবে? সে তো এই স্টেশনের কথা জানেই না।আর ফাইল অনুযায়ী তার বাবা-মা ফিরে আসেননি, শুধু সে ফিরে এসেছিল। অরিন্দম পরের পাতাটি খুলল। সেখানে মাত্র একটি বাক্য- শিশুটি ফিরে এসেছে, কিন্তু সে আর আগের শিশুটি নয়। তার নিচে লাল কালি দিয়ে লেখা- স্মৃতি মুছে ফেলতে হবে। অরিন্দম ফাইলটি হাত থেকে ফেলে দিল। তার মাথায় তখন একের পর এক প্রশ্ন।
সে কি সত্যিই ২০০৪ সালে এই স্টেশনে এসেছিল? যদি এসে থাকে, তাহলে কীভাবে সে ফিরে গেল? কে তার স্মৃতি মুছে দিয়েছিল? আর তার বাবা-মা কোথায়? হঠাৎ তার মাথার মধ্যে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো, সে চোখ বন্ধ করল। আর এবার স্মৃতির দরজা যেন হঠাৎ খুলে গেল। বৃষ্টি পড়ছে ভীষণ জোরে। একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে।ছোট্ট অরিন্দম জানালার পাশে বসে, তার পাশে মা। মা কাঁদছেন, বাবা বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছেন। কেউ যেন তাদের অনুসরণ করছে।তারপর বাবা নিচু গলায় বললেন- সুবর্ণা, এখন আমাদের নামতেই হবে। মা বললেন- না। ওকে নিয়ে ট্রেন থেকে নামব না। বাবা বললেন- ট্রেনটা এখানে বেশিক্ষণ থাকবে না। তুমি জানো ওরা আমাদের খুঁজছে! জানি। তাহলে? বাবা ছোট অরিন্দমের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন- ওকে আমি নিয়ে যাচ্ছি।
মা তার হাত ধরে ফেললেন। না! ছোট অরিন্দম ভয় পেয়ে বলল- মা, কী হয়েছে? মা তাকে জড়িয়ে ধরলেন। কিছু হয়নি বাবা। বাইরে হঠাৎ একটি হুইসেল, বাবা জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন- ওরা এসে গেছে। একজন লোক ট্রেনের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে। কালো কোট, ধূসর টুপি, রফিকুল। সে দরজা খুলে বলল- মাধববাবু, আর সময় নেই। বাবা বললেন- তুমি বলেছিলে আমাদের নিরাপদে নিয়ে যাবে। রফিকুল হাসল, আমি কথা রেখেছি। মা ফিসফিস করে বললেন- মাধব... ওকে বিশ্বাস কোরো না। রফিকুলের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। তারপর- হঠাৎ সবকিছু অন্ধকার।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





