কালো খামের চিঠি ( পর্ব ১১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর একাদশ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর অর্ণব হঠাৎ অনুভব করল- ঘরে সে আর একা নেই, তার পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ধীরে ধীরে সে ঘুরে দাঁড়াল এবং দেখলো কালো রেইনকোট পরা সেই মানুষ। এই প্রথম সে মুখ থেকে হুড সরিয়ে ফেলল। অর্ণব হতবাক, কারণ লোকটির মুখ অবিকল তার নিজের মতো। একই চোখ, একই চোয়াল এবং একই কণ্ঠস্বর। লোকটি মৃদু হেসে বলল- আমাকে চিনতে পারছ না? অর্ণব পিছিয়ে গেল। কারণ এটা অসম্ভব। এরপরে লোকটি বলল- অসম্ভব বলেই তো এত বছর টিকে ছিল। তোমার স্মৃতি মুছে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু আমারটা নয়।
আমি সেই অর্ণব, যাকে তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অর্ণবের মাথা যেন কাজ করা বন্ধ করে দিল। সে কিছুই বুঝতে পারছে না, লোকটি পকেট থেকে আরেকটি কালো খাম বের করল। এবার খামের ওপর কোনো নাম নেই। শুধু লেখা- শেষ চিঠি। সে খামটি অর্ণবের হাতে দিয়ে বলল- এই চিঠি খুলবে তখনই, যখন সত্য জানার সাহস থাকবে। কথা শেষ করে সে ধীরে ধীরে পেছাতে লাগল। হঠাৎ পুরো ভূগর্ভস্থ ঘর কেঁপে উঠল। ছাদের প্লাস্টার ভাঙতে শুরু করল এবং সাথে সাথে সাইরেন বেজে উঠল-আগুনের সতর্কবার্তা। অর্ণব এক মুহূর্ত দেরি না করে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। পেছনে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ। সে বাইরে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে পেছনে তাকাল।
পুরোনো স্কুল ভবনের একাংশ ধসে পড়ছে। ধুলোর বিশাল মেঘ আকাশ ঢেকে দিল। তার হাতে শক্ত করে ধরা শেষ কালো খাম। তার ভেতরে কী আছে, সে এখনো জানে না।কিন্তু সে জানে- এই চিঠিই নির্ধারণ করবে, তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ ঐশীকে কে হত্যা করেছিল? ডক্টর রায় কি সত্যিই জীবিত? আর সেই মানুষটি, যার মুখ অবিকল অর্ণবের মতো- সে কি সত্যিই একজন মানুষ? নাকি বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এমন এক সত্য, যাকে পৃথিবী ইচ্ছে করে ভুলে গেছে? অর্ণব ধীরে ধীরে আকাশের দিকে তাকাল। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। তার মনে হলো- শেষ ঝড়টি এখনো আসেনি।
রাত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আকাশে ধীরে ধীরে ভোরের আভা ফুটতে শুরু করেছে। কিন্তু অর্ণবের কাছে সময় যেন থেমে গেছে। ভাঙা স্কুল ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সে অনেকক্ষণ ধরে শেষ কালো খামটির দিকে তাকিয়ে রইল। এটাই শেষ চিঠি।ছয়টি রাত, ছয়টি সূত্র। অসংখ্য প্রশ্ন আর এখন সব উত্তর এই খামের ভেতরে। তার হাত কাঁপছিল।ধীরে ধীরে খামটি খুলতেই ভেতর থেকে তিনটি জিনিস বেরিয়ে এল। একটি ছোট্ট চাবি, একটি পেনড্রাইভ আর একটি হাতে লেখা চিঠি। চিঠির শুরুতেই লেখা- প্রিয় অর্ণব, যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে ধরে নেবে আমি হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু আমি চাই, অন্তত একজন মানুষ যেন পুরো সত্যটা জানতে পারে।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





