মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৬ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো।আপনার বাবার একটা সমস্যা ছিল। কী সমস্যা?তিনি নিজের সন্তান হারিয়েছিলেন। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল। আমি? নির্মলবাবু মাথা নিচু করলেন।আপনি জন্মের আগে আপনার মায়ের গর্ভপাত হয়েছিল। অর্ণব কিছু বলল না, এই বিষয়টা সে কখনও শোনেনি। তারপর? আপনার বাবা ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি কি...হ্যাঁ। নির্মলবাবু বললেন- তিনি অমলবাবুর কাছে এসেছিলেন। কেন? কারণ অমল বলেছিল, এই বাড়িতে মৃত মানুষের স্মৃতি ধরে রাখা যায়। অর্ণবের গলা শুকিয়ে গেল।আমার বাবা কি আমাকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল? হ্যাঁ। কিন্তু...নির্মলবাবু থেমে গেলেন।
কিন্তু কী? যে জিনিস ফিরে এসেছিল, সেটা সম্পূর্ণ তুমি ছিলে না। অর্ণব চোখ বন্ধ করল এবং তার মাথায় অদ্ভুত সব ছবি ভেসে উঠতে লাগল- একটা ঘর, একটা টেবিল, একজন মহিলা কাঁদছে, একজন পুরুষ মোমবাতি জ্বালাচ্ছে, একটা শিশু কাঁদছে আর একটা দরজা। এরপর সে চোখ খুলে ফেলল। আমি এসব দেখছি কেন? নির্মলবাবু বললেন- কারণ তোমার স্মৃতি জেগে উঠছে। হঠাৎ দেয়ালের ঘড়িতে ঘণ্টা বাজল- টং। অর্ণব ঘড়ির দিকে তাকাল, সকাল দশটা। কিন্তু ঘড়িটা থেমে ছিল বহু বছর ধরে, অথচ তার কাঁটা নড়ছে। দশটা, দশটা এক মিনিট, দশটা দুই। অর্ণব উঠে দাঁড়াল। এই ঘড়িটা চলল কীভাবে? নির্মলবাবু কোনো উত্তর দিলেন না। ঘড়ির কাঁটা দ্রুত ঘুরতে শুরু করল- দশটা, এগারোটা, বারোটা, একটা, দুটো।
অর্ণব হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ঘড়ির কাঁটা আবার পিছিয়ে গেল- দুটো, একটা, বারোটা, এগারোটা। তারপর- ১২:১৭। ঘড়ি থেমে গেল- একই সময়, প্রতিবার, ১২:১৭। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল। এই সময়টা কেন? নির্মলবাবু খুব নিচু গলায় বললেন- কারণ সেই সময়েই প্রথম অতিথি এসেছিল। কখন? ১৯৮৬ সালে। কে? বৃদ্ধ তার দিকে তাকালেন। তোমার বাবা। অর্ণব স্তব্ধ হয়ে গেল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। নির্মলবাবু বাড়ি থেকে যেতে চাইছিলেন, কিন্তু অর্ণব তাকে যেতে দিল না। আপনি আজ রাতে এখানে থাকবেন। বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন- না। কেন? আমি এই রাত আর একবার দেখতে চাই না। আপনি এত বছর ধরে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? হ্যাঁ। কিন্তু এবার আপনি যাবেন না। নির্মলবাবু তার দিকে তাকালেন, তুমি বুঝতে পারছ না। আমি বুঝতে চাই।
বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাহলে রাত বারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। তারপর? তারপর তুমি নিজেই সব মনে করবে। রাত নামল, আকাশে মেঘ জমেছে, বাতাস বাড়ছে। অর্ণব বাড়ির সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দিল। নির্মলবাবু বসার ঘরে বসে ছিলেন। তার হাতে একটা পুরোনো রিভলভার। অর্ণব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল- এটা কোথা থেকে পেলেন? ১৯৮৬ সালে অমল আমাকে দিয়েছিল। আপনি এটা দিয়ে কী করেছিলেন? বৃদ্ধ চোখ নামিয়ে বললেন- যেটা করা উচিত ছিল না। কাকে গুলি করেছিলেন? নির্মলবাবু উত্তর দিলেন না। রাত এগারোটা পেরোল- ১১:১৫, ১১:৩০, ১১:৪৫। বাড়ির ভেতর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে গেল। অর্ণবের নিঃশ্বাস থেকে ধোঁয়া বেরোতে লাগল। ১১:৫৫, উপরতলা থেকে পায়ের শব্দ- ঠক...ঠক...ঠক...। নির্মলবাবু রিভলভার শক্ত করে ধরলেন। এবার শুরু হবে- ১১:৫৮।...
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





