কালো খামের চিঠি ( পর্ব ১২ )

in আমার বাংলা ব্লগyesterday
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000088311.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর দ্বাদশ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর নিচে স্বাক্ষর- ড. অরিন্দম রায়। অর্ণব দ্রুত পড়তে শুরু করল- আমি একজন বিজ্ঞানী ছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, আমি একসময় বিজ্ঞানী থেকে অপরাধীতে পরিণত হয়েছিলাম।সরকারি গবেষণার আড়ালে আমাদের একটি গোপন প্রকল্প চালানো হচ্ছিল। নাম- প্রজেক্ট চোখ। উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের স্মৃতি পরিবর্তন করে ট্রমা মুছে ফেলা। কিন্তু প্রকল্পটি পরে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শুরু হয়। কিছু প্রভাবশালী মানুষ চাইছিল নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা, নির্দিষ্ট কিছু সাক্ষী এবং নির্দিষ্ট কিছু সত্য মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল।

সে পড়তে থাকল- ঐশী দুর্ঘটনাবশত সেই গোপন গবেষণাগার দেখে ফেলেছিল। তাকে পরীক্ষার অংশ বানানো হয়, কিন্তু তার মস্তিষ্ক অন্য সবার মতো ছিল না। তার স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যায়নি, সে সব মনে করতে শুরু করেছিল। এটাই তার মৃত্যুর কারণ। অর্ণবের চোখ ঝাপসা হয়ে গেল।তার মানে ঐশী সত্যিই হত্যা হয়েছিল। চিঠিতে আরও লেখা- তুমি যাকে কালো রেইনকোট পরে দেখেছ, সে তোমার যমজ ভাই নয়। সে আমারই একজন সহকারী- রুদ্র সেন। তোমার স্মৃতি আংশিক মুছে দেওয়া হয়েছিল বলে তার মুখ তোমার কাছে নিজের মুখের মতো বিকৃত হয়ে দেখা দিত। এটি ছিল তোমার মস্তিষ্কের ট্রমাজনিত প্রতিক্রিয়া। অর্ণব স্তব্ধ হয়ে গেল। তাহলে সে যা দেখেছিল, তার সবই বাস্তব ছিল না।

রুদ্র ইচ্ছা করেই তার সামনে আসত। কারণ সে চাইছিল অর্ণব সত্য পর্যন্ত পৌঁছাক। চিঠির শেষ অংশে লেখা ছিল- আমি পালিয়ে বেঁচেছিলাম। কিন্তু বেশিদিন লুকিয়ে থাকতে পারিনি। তারা আমাকে খুঁজে পেয়েছে। যদি তুমি সত্যিই সত্য প্রকাশ করতে চাও, তাহলে পেনড্রাইভটি পুলিশের কাছে নয়, সরাসরি আদালতে জমা দিও। কারণ যাদের বিরুদ্ধে এই প্রমাণ, তাদের হাত অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়। আর একটি কথা- ঐশী শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করত- তার দাদা একদিন সত্য খুঁজে বের করবেই। ওর বিশ্বাসটুকু ভেঙে দিও না। এরপর চিঠি শেষ। অর্ণব আর নিজেকে সামলাতে পারল না, বহু বছরের জমে থাকা কান্না একসঙ্গে বেরিয়ে এল। সে প্রথমবারের মতো নিজের বোনের জন্য কাঁদল। বাড়িতে ফিরে সে বাবার পুরোনো বইয়ের আলমারির সামনে দাঁড়াল।

ডক্টর রায়ের কথামতো আলমারিটি সরাতেই পেছনে ছোট্ট একটি লোহার সিন্দুক দেখা গেল। শেষ চাবিটি ঠিক সেখানেই লাগল। সিন্দুক খুলতেই ভেতরে আরও কিছু নথি, ভিডিও ডিস্ক, গবেষণার মূল ফাইল এবং বহু বছর আগের একটি পারিবারিক ছবি। ছবিটিতে ছোট্ট ঐশী হাসছে এবং তার পাশে অর্ণব। আর পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের বাবা।ছবির পেছনে বাবার হাতের লেখা- সত্য লুকিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু হারিয়ে যায় না। অর্ণব বুঝতে পারল- তার বাবা সবকিছু জানতেন না। কিন্তু কিছু একটা সন্দেহ করেছিলেন। সেই কারণেই হয়তো এই সিন্দুকটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ছিল যুদ্ধের মতো। অর্ণব ডক্টর রায়ের সমস্ত নথি নিরাপদে সংরক্ষণ করল। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জমা দিল প্রমাণ।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available