মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। কিছুক্ষণ পর আবার ঠক, একবার। তারপর- ঠক, আরেকবার। তারপর তৃতীয়বার- ঠক। কিন্তু এবার কড়া নাড়ার শব্দটা দরজা থেকে নয়। শব্দটা এল- তার ঠিক পেছন থেকে। অর্ণব ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল, তার পেছনে ছিল ঘরের সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে যাওয়া যায় দোতলায়। অন্ধকারে সিঁড়িগুলো যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। আর সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে ভেসে এল- ঠক... ঠক... ঠক...। অর্ণবের শরীর অবশ হয়ে গেল। কেউ একজন দোতলায় হাঁটছে ধীরে ধীরে। সিঁড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। একটা শব্দ, তারপর আরেকটা। তারপর আরেকটা ঠক...ঠক...ঠক...।
অর্ণব পেছাতে পেছাতে দেওয়ালের সঙ্গে ঠেকে গেল। তার চোখ তখন অন্ধকার সিঁড়ির দিকে স্থির।হঠাৎ একটা ছায়া দেখা গেল সিঁড়ির মাঝামাঝি।মানুষের মতো একটা অবয়ব। কিন্তু অর্ণব কোনো কথা বলতে পারল না। ছায়াটা নড়ল না, শুধু দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব ধীরে ধীরে এক ধাপ নিচে নামল- কড়রর...। পুরোনো কাঠের সিঁড়ি কেঁপে উঠল। আরেক ধাপ কড়রর...। অর্ণবের বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন যেন কান পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে। তৃতীয় ধাপ- ছায়াটা এবার একটু স্পষ্ট- একজন লম্বা, পাতলা মানুষ। মাথায় যেন কোনো পুরোনো ধরনের টুপি। অর্ণবের মনে হলো লোকটির পরনে লম্বা কালো কোট। কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছে না। লোকটি আরও এক ধাপ নিচে নামল।তারপর থেমে গেল।
অর্ণব সাহস করে বলল- কে আপনি? কিন্তু কোনো উত্তর নেই। আপনি এখানে কী করছেন? নীরবতা। তারপর লোকটি মাথা তুলল। অর্ণবের বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।কারণ- লোকটির মুখ ছিল না। সেখানে শুধু অন্ধকার। দুটি গভীর কালো গর্তের মতো চোখ।আর তার নিচে একটা অস্পষ্ট হাসি। অর্ণব চিৎকার করতে গিয়েও পারল না। ঠিক তখনই হঠাৎ বিদ্যুৎ ফিরে এল। ঘর আলোয় ভরে গেল এবং সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে অর্ণব দেখল- কেউ নেই। সিঁড়ি সম্পূর্ণ খালি, সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর দৌড়ে সিঁড়ির কাছে গেল- এক ধাপ, দুই ধাপ, তিন ধাপ। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। দোতলার করিডোরও খালি, শুধু উত্তর দিকের সেই বন্ধ ঘরের দরজা।
অর্ণব দরজাটার দিকে তাকাল এবং তার বুকের ভেতর আবার একটা অজানা ভয় জমল। দরজাটা এতদিন বন্ধ ছিল, কিন্তু আজ দরজার নিচ দিয়ে একটা সরু আলো বেরিয়ে আসছে। অর্ণব ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখল- ভেতরে কেউ একটা বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে। কিন্তু এই ঘরে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ থাকার কথা নয়। অর্ণব হাত বাড়িয়ে দরজার হাতলে ধরল। এই প্রথম হাতলটা নড়ল এবং দরজা খুলে গেল। ঘরের ভেতরে ঢুকেই অর্ণব থেমে গেল। ঘরটা ধুলোয় ভরা এবং দেয়ালে পুরোনো ছবি। এক পাশে কাঠের আলমারি এবং মেঝেতে কয়েকটা পুরোনো বাক্স। আর ঘরের মাঝখানে একটা টেবিল। টেবিলের ওপর রাখা- একটা পুরোনো কালো ডায়েরি। অর্ণব ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারিখ লেখা- ১৯৮৬।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





