মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৫ )

in আমার বাংলা ব্লগ17 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৫ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো।এরপর- তবুও পড়বে। লোকটি ডায়েরিটা মেঝেতে রেখে পিছিয়ে গেল। তারপর অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেল। কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কথা বলল- আজ রাত বারোটা বাজলে তুমি সব মনে করবে। অর্ণব চিৎকার করে বলল- কী মনে করব? অন্ধকার থেকে উত্তর এল- তুমি আসলে কে। নির্মলবাবু তখনও দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপছিলেন। অর্ণব তার দিকে তাকাল- আপনি সব জানেন। এরপর বৃদ্ধ চোখ নামিয়ে নিলেন- আমি কিছু জানি না। মিথ্যে। অর্ণব- আপনি বলেছিলেন আমার বাবা ১৯৮৬ সালে মারা যায়নি।নির্মলবাবু চুপ, আপনি বলেছিলেন অমলকে আমার বাবা হত্যা করেছিল। চুপ।

আপনি বলেছিলেন অয়ন মারা গেছে। চুপ। অর্ণব গর্জে উঠল- কিন্তু এখন দোতলায় যে দাঁড়িয়ে আছে সে কে? নির্মলবাবু ধীরে ধীরে উপরের দিকে তাকালেন। অয়ন তখন আর জানালায় নেই। এরপর বৃদ্ধ ফিসফিস করে বললেন- ওকে আপনি যতটা ভাবছেন, ও তার চেয়েও পুরোনো। মানে? ওর জন্ম হয়নি। তাহলে? ওকে তৈরি করা হয়েছিল। অর্ণব স্তব্ধ হয়ে গেল। কীভাবে? নির্মলবাবু বললেন- মানুষের স্মৃতি দিয়ে। অর্ণব কিছুই বুঝতে পারছিল না। নির্মলবাবু তাকে বসতে বললেন। দুজনেই পুরোনো বসার ঘরে বসল। এরপর বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন- ১৯৮৬ সালের আগে অমলবাবু এই বাড়িতে অনেক পুরোনো নথি খুঁজে পেয়েছিলেন। কীসের নথি? এই বাড়ির আগের মালিকদের।

তাতে কী ছিল? একটা অদ্ভুত ঘটনা। নির্মলবাবু ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন। প্রায় একশো বছর আগে এই বাড়িতে একজন তান্ত্রিক থাকত। অর্ণব ভ্রু কুঁচকে বলল- তান্ত্রিক? হ্যাঁ। গ্রামের মানুষ তাকে পাগল বলত। কিন্তু সে বলত, মানুষের স্মৃতি নষ্ট হয় না। তার মানে? সে বিশ্বাস করত, একজন মানুষের মৃত্যুর পরও তার স্মৃতি কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় থেকে যেতে পারে। কোথায়? নির্মলবাবু বাড়ির দিকে তাকালেন। এই বাড়িতে। অর্ণবের বুকের ভেতর একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। সে কী করেছিল? একটা ঘর বানিয়েছিল। উত্তরের ঘর? বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন। হ্যাঁ। কেন? সে মানুষের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করেছিল। অর্ণব হেসে ফেলল।এটা অসম্ভব। আমি নিজেও একসময় তাই ভাবতাম। তারপর? একদিন সে নিজের মৃত ছেলেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল।

অর্ণবের হাসি মিলিয়ে গেল। ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল? নির্মলবাবু বললেন- শরীর নয়। তাহলে? একটা স্মৃতি। এরপর অর্ণব ধীরে বলল- শুধু স্মৃতি? প্রথমে তাই। তারপর? সেই স্মৃতি একটা শিশুর রূপ নেয়। অর্ণবের মুখ শুকিয়ে গেল। অয়ন? নির্মলবাবু মাথা নাড়লেন- না, অয়নের আগেও এই বাড়িতে সেই শিশুটি ছিল। অর্ণব আবার উত্তর দিকের ঘরের দিকে তাকাল। তার মনে পড়ল- শৈশবের সেই স্বপ্ন। একটা দরজা, একটা লণ্ঠন, একটা শিশু। তাহলে কি সে ছোটবেলা থেকেই এই বাড়ির সঙ্গে যুক্ত? কিন্তু কেন? নির্মলবাবু যেন তার মনের কথা বুঝতে পেরে বললেন- আপনার বাবা যখন প্রথম অমলবাবুর সঙ্গে দেখা করেন, তখন তিনি এই বাড়ির ইতিহাস জানতে পারেন। কেন আমার বাবা এখানে এসেছিল?.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available