মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৪ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৪ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাবার মুখটা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তার জায়গায় দেখা দিল অর্ণবের নিজের মুখ। ছায়াটা হাসল, তারপর বলল- এবার বুঝতে পারছ, অর্ণব? এক মুহূর্ত থেমে- মধ্যরাতের অতিথি তোমার বাবা নয়...। তারপর অন্ধকারের মধ্যে সেই মুখটা আরও কাছে এগিয়ে এল। মধ্যরাতের অতিথি... তুমি নিজেই, মধ্যরাতের অতিথি... তুমি নিজেই। কথাটা শোনার পর অর্ণবের মনে হলো, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ যেন এক মুহূর্তে থেমে গেছে। সিঁড়ির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মুখ- তার নিজের মুখ, একই চোখ, একই নাক, একই ঠোঁট।
এমনকি কপালের ডান পাশে ছোট্ট সেই কালো দাগটাও আছে, যেটা অর্ণবের জন্ম থেকেই ছিল। কিন্তু একটা পার্থক্য ছিল- লোকটির চোখে কোনো উষ্ণতা নেই, শুধু অন্ধকার। অর্ণব কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেল- তুমি... কে? সামনের মানুষটি হাসল, হাসিটা অর্ণবের নিজের মতোই। এই প্রশ্নটা তুমি অনেক দেরিতে করলে- তুমি আমার মুখ ব্যবহার করছ কেন?আমি তোমার মুখ ব্যবহার করছি না। এরপর সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগল। তুমি আমার মুখ ব্যবহার করছ। অর্ণবের শরীর কেঁপে উঠল। মানে? লোকটি আরও এক ধাপ নিচে নামল। তুমি ভাবছ তোমার জন্ম হয়েছে ত্রিশ বছর আগে, অর্ণব চুপ। কিন্তু তুমি ভুল ভাবছ। আমি... কী? তুমি জন্মাওনি, অর্ণবের বুকের ভেতর যেন কিছু একটা ভেঙে গেল। চুপ করো।
এরপর লোকটি হাসল। তোমার বাবা তোমাকে কখনও সত্যিটা বলেনি। আমার বাবা মারা গেছেন- না। লোকটি থেমে গেল। তোমার বাবা মারা যায়নি। তাহলে কোথায়? তোমার খুব কাছেই। অর্ণব চারপাশে তাকাল। কোথায়? লোকটি নিজের বুকে হাত রাখল। এখানে। অর্ণব বুঝতে পারল না।তারপর লোকটি বলল- তুমি যখন আমার কথা মনে করো, তখন আমি বেঁচে উঠি। অর্ণবের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। হঠাৎ দোতলা থেকে শিশুটির কণ্ঠ ভেসে এল। দাদা! অর্ণব উপরের দিকে তাকাল। জানালার পাশে অয়ন দাঁড়িয়ে। ওর কথা শুনবে না! অর্ণব চিৎকার করে বলল- তাহলে তুমি কে? শিশুটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল- আমি অয়ন। তুমি যদি অয়ন হও, তাহলে তুমি মারা গিয়েছিলে কেন?
শিশুটির মুখে অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতা ফুটে উঠল। আমি মরিনি, কিন্তু নির্মলবাবু বলেছেন- নির্মল মিথ্যে বলেছে। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়ামূর্তিটি হেসে উঠল- ও সবসময় মিথ্যে বলে। অর্ণব তাকাল তার দিকে আর বললো- তুমি কি সত্যিই আমার বাবা? লোকটি এবার আর হাসল না। না। অর্ণবের বুক থেকে যেন একটা ভার নেমে গেল। কিন্তু পরের কথাটা শুনে আবার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি তোমার বাবার সবচেয়ে বড় ভুল। কী ভুল? তোমাকে বাঁচিয়ে রাখা। অর্ণব কিছু বলতে পারল না। লোকটি ধীরে ধীরে সিঁড়ির শেষ ধাপে এসে দাঁড়াল। তার হাতে এখনও কালো ডায়েরি, সে ডায়েরিটা অর্ণবের দিকে বাড়িয়ে দিল আর বললো- পড়ো। অর্ণব ডায়েরিটা নিতে চাইল না।এতে কী আছে? তোমার জন্মের আগের রাত। আমি এসব বিশ্বাস করি না।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





