অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ১৫ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ১৫ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- ঠিক তখনই দূরে ট্রেনের শব্দ শোনা গেল, কিন্তু শব্দটি অদ্ভুত। চাকার ঘর্ষণ নেই, শুধু একটা গভীর গর্জন। মনে হচ্ছে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে বিশাল কোনো কিছু এগিয়ে আসছে।ছোট অরিন্দম বলল- ওরা আসছে। কারা? ছেলেটি উত্তর দিল না, সে অরিন্দমের হাত ধরে টানতে লাগল- চলো। কোথায়? ঘর ১৯-এ। রফিকুল সঙ্গে সঙ্গে বলল- না। ছোট অরিন্দম থেমে গেল। রফিকুল বলল- ওখানে গেলে আর ফিরে আসতে পারবে না। অরিন্দম বলল- ঘর ১৯-এ কী আছে? রফিকুলের মুখ বদলে গেল- তোমার বাবা। অরিন্দমের বুক ধক করে উঠল- বাবা? হ্যাঁ।
তিনি বেঁচে আছেন? রফিকুল কোনো উত্তর দিল না। অরিন্দম এবার ছোট ছেলেটির দিকে তাকাল।ছেলেটি বলল- বাবা সেখানে আটকে আছেন। কত বছর ধরে? তোমার কাছে যত বছর গেছে, তার থেকেও বেশি। অরিন্দম আর অপেক্ষা করল না, সে ঘর ১৯-এর দিকে দৌড় দিল। ঘর ১৯ ছিল, ১৭ নম্বর ঘরের ঠিক পরের দিকে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে তাদের হাঁটতে হলো অনেক দূর।প্ল্যাটফর্মের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। তারপর একটি অন্ধকার করিডর, দেয়ালে অসংখ্য দরজা। প্রতিটি দরজায় একটি করে সংখ্যা- ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬। তারপর- ১৭। অরিন্দম থেমে গেল। তারপর ১৮, তারপর ১৯। ঘর ১৯-এর দরজাটি অন্য সব দরজার চেয়ে আলাদা, এটি লোহার।
দরজার ওপর কোনো নম্বর নেই, শুধু একটি বাক্য খোদাই করা। যে ফিরে গেছে, সে এখানে ঢুকবে না। অরিন্দমের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।এর মানে কী? ছোট অরিন্দম বলল- তুমি ঢুকতে পারবে না। কেন? কারণ তুমি ফিরে গিয়েছিলে। তাহলে বাবা? বাবা ফেরেননি। রফিকুল পিছন থেকে বলল- তোমার বাবা এখানে আছেন। অরিন্দম দরজায় হাত রাখল, সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে একটি শব্দ এল- ঠক। অরিন্দম হাত সরিয়ে নিল। আবার- ঠক। এবার শব্দটি যেন কেউ ভেতর থেকে দরজায় হাত দিয়ে করছে। বাবা? কোনো উত্তর নেই। অরিন্দম আবার দরজায় হাত রাখল।ভেতর থেকে খুব ক্ষীণ কণ্ঠস্বর- অরিন্দম? অরিন্দমের চোখে পানি এসে গেল। বাবা! কণ্ঠস্বরটি বলল- তুই এসেছিস? হ্যাঁ। কেন এসেছিস? তোমাকে নিয়ে যেতে। ভেতর থেকে দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর- তুই একা এসেছিস? অরিন্দম ছোট ছেলেটির দিকে তাকাল- না। বাবার কণ্ঠ হঠাৎ কেঁপে উঠল- ও কি তোর সঙ্গে? অরিন্দম বলল- হ্যাঁ। ভেতর থেকে তার বাবা চিৎকার করে উঠলেন-ওকে আমার কাছ থেকে দূরে রাখ! ছোট অরিন্দম সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গেল। অরিন্দম অবাক হয়ে তাকাল- কেন? ভেতর থেকে বাবার কণ্ঠ- কারণ ও তুই নয়! অরিন্দম বলল- কিন্তু ও বলছে ও আমি!ও মিথ্যে বলছে! ছোট অরিন্দম কাঁদতে শুরু করল। বাবা, আমি তো তোমার ছেলে... ভেতর থেকে কোনো উত্তর নেই। অরিন্দম রফিকুলের দিকে তাকাল- আপনি সত্যিটা বলুন। রফিকুল বলল- সত্যি একটাই। কোনটা? তোমার বাবা যাকে নিজের ছেলে বলে চিনেছিলেন, সে এখনো এই স্টেশনে আছে। অরিন্দমের শরীর কেঁপে উঠল।তাহলে আমি?....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





