মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৭ )

in আমার বাংলা ব্লগ15 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৭ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো ।দেয়ালের ঘড়ি আবার চলতে শুরু করল-১১:৫৯।অর্ণবের মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো, সে মাথা চেপে ধরল। আহ্! তার চোখের সামনে দৃশ্য বদলে যেতে লাগল। সে দেখতে পেল- একটা ঘর, ১৯৮৬।একজন তরুণ তার বাবা। তার পাশে অমল, একজন মহিলা কাঁদছে আর একটা শিশু। শিশুটার মুখ- অর্ণবের মতো। তারপর তার বাবা শিশুটিকে কোলে তুলে নিচ্ছে। কেউ চিৎকার করছে- ওকে ফিরিয়ে দিও না! অমল বলছে- ও তোমার ছেলে নয়। তার বাবা বলছে- আমি জানি। অমল: তাহলে কেন? তার বাবা: কারণ আমি আমার ছেলেকে ফিরে চাই। তারপর একটা দরজা খুলে যায়।

ঘরের মধ্যে অন্ধকার ঢুকে পড়ে। অর্ণব চিৎকার করে উঠল- না! দৃশ্যটা মিলিয়ে গেল, সে মেঝেতে পড়ে গেল। নির্মলবাবু তাকে ধরে ফেললেন- অর্ণব! অর্ণব চোখ খুলল এবং ঘড়ির দিকে তাকাল- ১২:১৭। ঠিক সেই মুহূর্তে- বাড়ির সব আলো নিভে গেল, অন্ধকার। নির্মলবাবু ফিসফিস করে বললেন- ও এসেছে। অর্ণবের সামনে ঘরের দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।করিডোরের শেষে একজন দাঁড়িয়ে, হাতে লণ্ঠন।অর্ণব তাকিয়ে রইল এবং লোকটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কিন্তু এবার তার মুখ অর্ণবের নয়, তার বাবার মুখ। অর্ণবের চোখে জল চলে এল। বাবা? লোকটি থেমে গেল। হ্যাঁ। অর্ণব কাঁপা গলায় বলল- তুমি আমাকে কেন মিথ্যে বলেছিলে?লোকটি বলল- কারণ তোমাকে সত্যিটা জানালে তুমি এখানে আসতে।

তুমি কি আমাকে এখানে এনেছ? না। তাহলে কে? লোকটি অর্ণবের দিকে তাকাল। তুমি নিজেই। অর্ণব মাথা নাড়ল- আমি বুঝতে পারছি না। তার বাবা বললেন- তুই যে মানুষটাকে অর্ণব বলে চিনিস...। একটু থেমে- সে আসলে অর্ণব নয়। নির্মলবাবু চিৎকার করে উঠলেন- চুপ করো! অর্ণব তাকাল তার দিকে।কেন? বৃদ্ধ কাঁদতে কাঁদতে বললেন- কারণ সত্যিটা জানলে তুমি আর আগের মানুষ থাকবে না। অর্ণব তার বাবার দিকে তাকাল। আমি কে? লোকটি লণ্ঠনটা উঁচু করল- তুই সেই শিশু...যাকে ১৯৮৬ সালে এই বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছিল। কিন্তু...অর্ণবের চোখে ভয়। আমি তো জন্মেছি ১৯৯৬ সালে। তার বাবা মৃদু হাসলেন, তোর শরীর ১৯৯৬ সালে জন্মেছে। কিন্তু তোর স্মৃতি? ১৯৮৬ সালে।

অর্ণবের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। তার বাবা বললেন- তুই অয়নকে চিনিস। কারণ? কারণ অয়ন ছিল তোর ভাই। অর্ণবের মুখ সাদা হয়ে গেল। আমার ভাই? হ্যাঁ। তাহলে সে এখন কোথায়?তার বাবা চুপ করে রইল। অর্ণব চিৎকার করে বলল- বল! লোকটি ধীরে ধীরে উত্তর দিল- তোর ভেতরে। অর্ণব পিছিয়ে গেল- না...তুই যখন ছোট ছিলি, তখন থেকেই অয়নের স্মৃতি তোর সঙ্গে ছিল। না! তুই যে স্বপ্নগুলো দেখতিস, সেগুলো স্বপ্ন ছিল না। থামো! ওগুলো অয়নের স্মৃতি। অর্ণব কান চেপে ধরল। না! হঠাৎ দোতলা থেকে শিশুর কণ্ঠ ভেসে এল- দাদা...অর্ণব স্থির হয়ে গেল।আবার- দাদা, আমি এখানে। অর্ণব ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে তাকাল। অয়ন দাঁড়িয়ে, তার চোখে জল। তুমি আমাকে ভুলে গেছ।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available