মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২২ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- অর্ণবের চোখে রাগ। কিন্তু অমল তো এই কাজ করেছিল! অমল সাহায্য করেছিল। কেন? নির্মলবাবু বললেন- কারণ তোমার বাবা তাকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে এটা অয়নকে বাঁচানোর শেষ সুযোগ। অর্ণব বলল- তাহলে অয়ন? সে তখনও বেঁচে ছিল। কোথায়? বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না।অর্ণব তার হাত চেপে ধরল। বলুন! নির্মলবাবু ফিসফিস করে বললেন- তোমার জন্মের রাতেই অয়ন অদৃশ্য হয়ে যায়। কীভাবে? সে তোমার শরীরে ঢুকে পড়ে। অর্ণবের চোখ বড় হয়ে গেল।তাহলে অয়ন আর অতিথি- এক নয়। তাহলে দুজন? হ্যাঁ। তাহলে আমার শরীরে কে আছে?
নির্মলবাবু কাঁপা গলায় বললেন- অয়নের স্মৃতি। আর অতিথি? অতিথি এখনও বাইরে। অর্ণবের বুক ধক করে উঠল। তাহলে এতক্ষণ যে আমাকে অনুসরণ করছে? বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন, সে তোমার স্মৃতির প্রতিলিপি। কিন্তু তার মুখ আমার মতো কেন? কারণ সে তোমাকে নিজের শরীর হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঘরের বাতাস হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।রেকর্ডারটা নিজে থেকেই আবার চালু হলো, কিন্তু এবার অমলের কণ্ঠ নয়। একটা শিশুর কণ্ঠ- দাদা...। অর্ণব ধীরে ধীরে রেকর্ডারের দিকে তাকাল। আমি তোমাকে একটা কথা বলিনি। অর্ণবের গলা শুকিয়ে গেল। অয়ন? হ্যাঁ, কী কথা? শিশুটির কণ্ঠ খুব ধীরে বলল- তুমি যে অতিথিকে খুঁজছ... কিছুক্ষণ নীরবতা। সে তোমার শরীরে ঢুকতে চায় না। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল।
তাহলে?শিশুটির কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল- সে তোমাকে তার শরীর বানাতে চায়। অর্ণব পিছিয়ে গেল।রেকর্ডার থেকে আবার কণ্ঠ- কারণ তুমি তার প্রথম সফল শরীর নও। তুমি তার শেষ শরীর। অর্ণব চিৎকার করে বলল- অয়ন, তুমি কোথায়? নীরবতা, তারপর- দাদা...হ্যাঁ? পেছনে তাকিও না। অর্ণবের শরীর জমে গেল, কারণ তার ঠিক পেছনে- কেউ দাঁড়িয়ে আছে, সে ঘুরল না।শুধু বুঝতে পারল- কেউ তার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে, ঠান্ডা নিঃশ্বাস। তারপর সেই কণ্ঠ- তার নিজের কণ্ঠ। অনেক কথা শুনলে, অর্ণব। অর্ণব চোখ বন্ধ করল। কণ্ঠটা আবার বলল- এবার আমার কথা শোনো। অর্ণব ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।তার সামনে দাঁড়িয়ে- সে নিজেই। একই মুখ, একই চোখ, একই পোশাক। কিন্তু এবার সেই মানুষটির হাতে কোনো লণ্ঠন নেই।
তার হাতে- অর্ণবের জন্মের হাসপাতালের একটা পুরোনো ফাইল। সে ফাইলটা অর্ণবের হাতে দিয়ে বলল- এটা পড়ো। অর্ণব ফাইল খুলল। প্রথম পাতায় লেখা- শিশুর নাম: অজানা, তারিখ: ২৪ অক্টোবর ১৯৯৬, অবস্থা: মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ। অর্ণবের হাত কাঁপতে লাগল। তারপর দ্বিতীয় পাতায়- একটা হাতে লেখা নোট। শিশুটি ১২:১৭ AM-এ পুনরায় শ্বাস নিতে শুরু করে। অর্ণবের চোখ বড় হয়ে গেল।নিচে স্বাক্ষর- ডা. অমল মুখার্জি। তারপর শেষ লাইন- শিশুটির প্রথম উচ্চারিত শব্দ- অয়ন। অর্ণব ফাইলটা ফেলে দিল। না... তার সামনে দাঁড়ানো মানুষটি হাসল। এবার বুঝতে পারছ?অর্ণব কাঁপা গলায় বলল- তুমি কে?....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





