মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২১ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- মিথ্যে! সে তোমাকে হারিয়েছিল। অর্ণব থেমে গেল। কী? নির্মলবাবু বললেন- তুমি জন্মের আগেই মারা গিয়েছিলে। ঘরটা যেন ঘুরে উঠল।না...তোমার মা তখন হাসপাতালে। না...তোমার বাবা ভেঙে পড়েছিল। থামুন, সে অমলের কাছে ফিরে আসে। থামুন! আর অমল তাকে একটা প্রস্তাব দেয়। নির্মলবাবু ফিসফিস করে বললেন- মৃত শিশুর শরীরে নতুন স্মৃতি বসানো যায়। অর্ণব স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব ধীরে বলল- তাহলে আমি...বৃদ্ধ বললেন- তোমার শরীর জন্মেছিল ১৯৯৬ সালে। কিন্তু তোমার ভেতরের কিছু স্মৃতি- ১৯৮৬ সালের। অর্ণবের চোখে জল এসে গেল।
তাহলে আমি কি সত্যিই আমি? নির্মলবাবু কোনো উত্তর দিলেন না। ঠিক তখনই বাড়ির ওপরতলা থেকে একটা শিশুর হাসি শোনা গেল। অর্ণব মাথা তুলল। অয়ন? কোনো উত্তর নেই। আবার হাসি। তারপর- ঠক... ঠক... ঠক... অর্ণব সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। নির্মলবাবু তাকে থামাতে চাইলেন। ওখানে যেও না, আমাকে যেতে হবে। না, আমার উত্তর দরকার। অর্ণব সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে লাগল। প্রতিটি ধাপে পায়ের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে- কড়রর...কড়রর...। দোতলায় পৌঁছে সে উত্তর দিকের ঘরের সামনে দাঁড়াল।দরজা বন্ধ। ভেতর থেকে শিশুর কণ্ঠ- দাদা...অর্ণব দরজা খুলল। ঘরটা খালি, শুধু মাঝখানে একটা চেয়ার। চেয়ারের ওপর রাখা একটা পুরোনো ক্যাসেট রেকর্ডার। রেকর্ডারটা নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল- ক্লিক, তারপর অমলের কণ্ঠ।
যদি এই রেকর্ডিং কেউ শুনে, তাহলে বুঝতে হবে পরীক্ষাটা সফল হয়েছে। অর্ণব স্থির হয়ে শুনতে লাগল, অতিথি এখন অয়নের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাকে আলাদা করা যায়। একটা নতুন শরীর দরকার। শরীর যতটা অয়নের সঙ্গে মিলবে, অতিথি তত সহজে তার মধ্যে প্রবেশ করবে। তারপর অমলের কণ্ঠ থেমে গেল, আরেকটা কণ্ঠ শোনা গেল। অর্ণবের বাবার। শিশুটার জন্ম হবে কবে? অমল বলল- দশ বছর পর। বাবা বলল- তাহলে? অমল বলল- ততদিন অতিথিকে ধরে রাখতে হবে। তারপর- একটা প্রচণ্ড শব্দ, রেকর্ডিং বন্ধ। অর্ণব কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তারপর রেকর্ডারের নিচে একটা কাগজ দেখতে পেল। তাতে লেখা- প্রথম শরীর ব্যর্থ। তার নিচে- দ্বিতীয় শরীর সফল। আর নিচে একটা নাম- অর্ণব।
অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল, সে কাগজটা মুঠো করে ধরল। হঠাৎ তার মাথায় আবার স্মৃতির ঝড় উঠল।সে দেখল- একটা হাসপাতাল, তার মা শুয়ে আছেন। একজন ডাক্তার বলছেন- শিশুটি বাঁচেনি।তার বাবা কাঁদছে। তারপর- একটা অন্ধকার ঘর।অমল একটা ছোট্ট শিশুর শরীরের পাশে দাঁড়িয়ে।একটা লণ্ঠন, একটা ধাতব যন্ত্র। আর একটা শিশুর কণ্ঠ- দাদা...অর্ণব চোখ খুলে ফেলল। সে মেঝেতে পড়ে গেছে, কেউ তার কাঁধ ধরে আছে।নির্মলবাবু। অর্ণব! অর্ণব হাঁপাতে হাঁপাতে বলল- আমি দেখেছি। কী? আমার জন্ম। বৃদ্ধের চোখে জল। সব দেখেছ? অর্ণব মাথা নাড়ল- আমি মারা গিয়েছিলাম। নির্মলবাবু চুপ, তারপর আমাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। হ্যাঁ, কিন্তু কে ফিরিয়েছিল? বৃদ্ধ বললেন- তোমার বাবা। অমল? না। অর্ণব তাকাল- তোমার বাবা।...
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





