শূন্য বাড়ির জানালা ( পর্ব ১০ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "শূন্য বাড়ির জানালা" এর দশম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, অন্ধকারের ভিতর থেকে যেন একটি মুখ ভেসে উঠল। একজন পুরুষ, মুখটি দেখে অর্ণবের বুকের ভিতর সবকিছু থেমে গেল। কারণ, সেই মুখটি তার নিজের বাবার।যে মানুষটিকে সে বহু বছর আগে হারিয়েছে, যে মানুষটির মৃত্যুর স্মৃতি তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের অধ্যায়গুলোর একটি- সেই মানুষটিই যেন জানালার ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে। অর্ণব চোখের পাতা ফেলল, মুখটি অদৃশ্য হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড পর আবার দেখা গেল। এবার মানুষটি জানালার কাচে হাত রাখলেন, তার ঠোঁট নড়ল।
অর্ণব স্পষ্ট দেখতে পেল, তিনি একটি শব্দ উচ্চারণ করছেন- ফিরে এসো। তারপর সব অন্ধকার। অর্ণব আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। সে দ্রুত গ্রামের পথ ধরে ফিরে চলল। তার মাথায় তখন অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরছিল। সে জানত, আজ রাতে যা দেখেছে, তা হয়তো তার জীবনের সমস্ত ধারণা বদলে দেবে। কিন্তু সে এটাও বুঝতে পারছিল না- যদি জানালার ভিতরে থাকা মানুষটি সত্যিই তার বাবা হন, তবে তিনি এত বছর ধরে সেখানে কীভাবে আছেন? আর যদি তিনি না হন, তাহলে কে তার বাবার মুখ ব্যবহার করে তাকে এই বাড়ির দিকে টানছে? হরিপদবাবুর বাড়িতে পৌঁছতে পৌঁছতে রাত প্রায় দুটো বেজে গিয়েছিল।অর্ণব দরজায় ধাক্কা দিতেই বৃদ্ধ দরজা খুললেন। তাঁকে দেখে মনে হলো, তিনি এতক্ষণ ঘুমোননি।
তুই গিয়েছিলি? তিনি জিজ্ঞেস করলেন। অর্ণব কোনো উত্তর না দিয়ে ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। কাকু, আপনি আমাকে সব বলেননি। হরিপদবাবুর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কী দেখেছিস? অর্ণব পকেট থেকে কাগজটি বের করে তাঁর সামনে রাখল। এটা বাড়ির জানালা থেকে পেয়েছি। এখানে লেখা আছে, আমার বাবাকে ওই বাড়ির ভিতরে শেষবার দেখা গিয়েছিল। বৃদ্ধ কাগজটি হাতে নিয়ে পড়লেন।তারপর তাঁর হাত কাঁপতে শুরু করল। না... এটা কীভাবে সম্ভব? আপনি কি জানতেন? না! আমি শপথ করে বলছি, তোর বাবার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তাহলে আপনার কাছে এই চাবি কীভাবে এল? আর আপনি কেন বলেছিলেন যে জানালায় আমার বাবার মতো একজনকে দেখেছিলেন? হরিপদবাবু চেয়ারে বসে পড়লেন।
তাঁর মুখে গভীর ক্লান্তি। অর্ণব, আমি তোকে যা বলেছি, সব সত্যি। কিন্তু একটা কথা আমি বলিনি। কী কথা? বৃদ্ধ ধীরে ধীরে মাথা তুললেন।মুখার্জিদের বাড়ি থেকে তোর বাবার সঙ্গে আমার শেষবার দেখা হয়েছিল। অর্ণবের বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কবে? তোর বাবার মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে। কী বলছেন! বাবা তখন কলকাতায় ছিলেন! আমি জানি, তুই কী বিশ্বাস করিস। কিন্তু আমি নিজের চোখে তাঁকে দেখেছি। এই বাড়ির সামনেই। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা যেন কাউকে না জানাই। অর্ণবের কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠল। তারপর? তিনি আমাকে একটা খাম দিয়েছিলেন। বলেছিলেন- যদি কোনোদিন তুই এই বাড়ির রহস্য জানতে আসিস, তখন খামটা তোকে দিতে। খামটা কোথায়?....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





