কালো খামের চিঠি ( পর্ব ৮ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো। সেখানে বোর্ডে এখনো অস্পষ্টভাবে লেখা- সত্য সবসময় লুকিয়ে থাকে না। সে বিস্মিত হয়ে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রইল। এটা কি বহু বছরের পুরোনো লেখা? নাকি কেউ সম্প্রতি লিখেছে? ঠিক তখনই করিডোরে কারও দৌড়ে যাওয়ার শব্দ। অর্ণব দ্রুত বেরিয়ে এল, দূরে সাদা পোশাক পরা একটি ছোট্ট মেয়েকে দেখা গেল। সে করিডোরের শেষ মাথা ঘুরে অদৃশ্য হয়ে গেল।অর্ণব ছুটল, কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখল কেউ নেই।শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটি ছোট্ট নীল রঙের ফিতা। ফিতাটি হাতে নিয়েই তার বুক কেঁপে উঠল।
এটা ঠিক ঐশীর সেই চুলের ফিতার মতো, যেটা সে ছোটবেলায় প্রায়ই পরত। হঠাৎ তার ফোনে একটি মেসেজ এল। অচেনা নম্বর, মাত্র চারটি শব্দ। লাইব্রেরিতে যাও, একা। অর্ণব দ্রুত স্কুলের পুরোনো লাইব্রেরির দিকে এগোল। কিন্তু দরজাটি আধখোলা। ভেতরে ঢুকতেই ধুলো আর পুরোনো বইয়ের গন্ধে পুরো ঘর ভরে গেল। বইয়ের তাকগুলো এলোমেলো, মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বই। কিন্তু একটি টেবিল একেবারে পরিষ্কার, যেন কেউ নিয়মিত ব্যবহার করে। টেবিলের ওপর রাখা একটি পুরোনো রেজিস্টার। অর্ণব খুলে দেখল- ২০০৮ সালের ছাত্রদের উপস্থিতির খাতা। সে ঐশীর নাম খুঁজতে লাগল। নাম পেল, কিন্তু ১৭ জুলাইয়ের পাতায় ঐশীর উপস্থিতির ঘরে লাল কালি দিয়ে বড় করে লেখা- স্থানান্তরিত, অর্ণব থমকে গেল।
এটার মানে কী? ঐশী তো কখনো অন্য কোথাও যায়নি। ঠিক তখনই ডায়েরির ভেতর রাখা ১৩-B চাবিটা তার পকেট থেকে পড়ে মেঝেতে গড়িয়ে গেল। চাবিটি গিয়ে থামল একটি বিশাল বুক শেলফের সামনে। অর্ণব চাবি তুলতে গিয়ে লক্ষ্য করল- বুক শেলফের নিচে খুব সরু একটা ফাঁক। সেখানে ঠান্ডা বাতাস বের হচ্ছে, সে বুক শেলফটা ঠেলে দেখল। প্রথমে নড়ল না, আরও জোরে চাপ দিতেই ধীরে ধীরে পুরো বুক শেলফটা সরে গেল। পেছনে দেখা দিল লোহার একটি দরজা, দরজার তালার আকার দেখে অর্ণবের বুক ধক করে উঠল। এটা ঠিক ১৩-B চাবির মতো। কাঁপা হাতে সে চাবি ঢুকিয়ে ঘুরাল- ক্লিক...দরজাটা খুলে গেল। ভেতরে সরু সিঁড়ি, নিচে নামছে। বাতাস ঠান্ডা, পুরো অন্ধকার।
অর্ণব টর্চ জ্বালিয়ে নামতে শুরু করল- দশ, বারো এবং পনেরো ধাপ। নিচে একটি ছোট কংক্রিটের ঘর।দেয়ালজুড়ে অসংখ্য ছবি এবং সবগুলোতেই শিশু।কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কেউ ভয়ে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে। এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো ভিডিও ক্যামেরা। তার পাশে ধুলোমাখা কম্পিউটার। আর মাঝখানে একটি কাঠের টেবিল, টেবিলের ওপর রাখা একটি মোটা ফাইল। ফাইলের ওপরে লেখা- প্রকল্প "চোখ"। অর্ণবের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল এবং সে ধীরে ধীরে ফাইল খুলল। প্রথম পাতায় লেখা- মানুষের স্মৃতি পরিবর্তনের পরীক্ষামূলক নথি এবং তার নিচে কয়েকজন শিশুর ছবি। প্রতিটি ছবির নিচে নম্বর- ০১... ০২... ০৩...। অর্ণব দ্রুত পাতা উল্টাতে লাগল। হঠাৎ একটি পাতায় তার চোখ আটকে গেল।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





