মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৩ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো সেই কন্ঠটা ছিল খুব পরিষ্কার, খুব স্বাভাবিক।কাকু... আপনি এখনও মিথ্যে বলছেন? নির্মলবাবু জমে গেলেন। অর্ণব তার দিকে তাকাল। বৃদ্ধের চোখে আতঙ্ক। অর্ণব ধীরে বলল- আপনি কী লুকাচ্ছেন? নির্মলবাবু কোনো উত্তর দিলেন না।শুধু পিছিয়ে যেতে লাগলেন। অর্ণব বলল- আপনি ১৯৮৬ সালে সেখানে ছিলেন। বৃদ্ধ চুপ। আপনি জানেন অয়ন কে? চুপ। আপনি জানেন আমার বাবা কী করেছিলেন। বৃদ্ধের ঠোঁট কাঁপতে লাগল।অর্ণব এগিয়ে গেল। আর আপনি জানেন মধ্যরাতের অতিথি আসলে কে? নির্মলবাবু হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন- ও অয়ন নয়! অর্ণব থেমে গেল।
বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে বললেন- ও অয়ন নয়। তাহলে কে? নির্মলবাবু উত্তর দেওয়ার আগেই উপরের জানালাটা প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। ধাম! দোতলা থেকে শিশুটির হাসি শোনা গেল।তারপর আরেকটা কণ্ঠ, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের। খুব পরিচিত, অর্ণবের নিজের কণ্ঠ- নির্মল... এবার সত্যিটা বলো। বৃদ্ধের মুখ বিকৃত হয়ে গেল। তিনি দু’হাতে কান চেপে ধরলেন- না... না... আবার নয়...। অর্ণব তাকিয়ে রইল। কে কথা বলছে? নির্মলবাবু কাঁপা গলায় বললেন- যে মানুষটাকে আমরা ১৯৮৬ সালে মেরে ফেলেছিলাম। অর্ণবের চোখ বড় হয়ে গেল। কাকে? বৃদ্ধ তার দিকে তাকিয়ে বললেন- তোমার বাবাকে। অর্ণবের মাথার ভেতর যেন বজ্রপাত হলো। কী বললেন?
নির্মলবাবু কাঁদতে কাঁদতে বললেন- তোমার বাবা ১৯৮৬ সালে মারা যায়নি। তাহলে? সে-ই ছিল মধ্যরাতের অতিথি। অর্ণব কিছু বলতে পারল না। বৃদ্ধের কণ্ঠ কাঁপছিল- তোমার বাবা অমলকে হত্যা করেছিল। কেন? কারণ অমল সত্যিটা জেনে গিয়েছিল। কী সত্যি? নির্মলবাবু উত্তর দেওয়ার আগেই বাড়ির ভেতর থেকে একটা শব্দ এল। ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে কেউ নামছে- এক ধাপ, কড়রর...। আরেক ধাপ, কড়রর...। আরেক ধাপ। নির্মলবাবু ফিসফিস করে বললেন- ও এসে গেছে। অর্ণব সিঁড়ির দিকে তাকাল। অন্ধকারের ভেতর একটা ছায়া দেখা গেল। হাতে লণ্ঠন, লম্বা কালো কোট। ধীরে ধীরে নিচে নামছে- এক ধাপ, দুই ধাপ, তিন ধাপ।তারপর ছায়াটা থেমে গেল। অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলল- বাবাকে খুঁজছ? অর্ণবের শরীর কেঁপে উঠল।
কণ্ঠটা তার নিজের, কিন্তু এবার সেই কণ্ঠে একটা অদ্ভুত শান্তি। ছায়াটা আরও এক ধাপ নিচে নামল। তারপর লণ্ঠনের আলোয় মুখটা দেখা গেল। অর্ণবের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল, কারণ- সেই মুখটা তার বাবার। আর তার হাতে ধরা ছিল- ১৯৮৬ সালের সেই পুরোনো কালো ডায়েরি। বাবার মুখে ধীরে ধীরে হাসি ফুটল। অনেক দেরি হয়ে গেছে, অর্ণব। সে লণ্ঠনটা একটু উঁচু করল।এবার তোমার পালা, ঠিক তখনই দোতলার উত্তর দিকের ঘর থেকে শিশুটির চিৎকার শোনা গেল- দাদা! ও তোমার বাবা নয়! অর্ণব উপরের দিকে তাকাল। শিশুটির কণ্ঠ আবার- ওর মুখটা দেখো! অর্ণব সিঁড়ির দিকে তাকাল। লণ্ঠনের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মুখ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। চামড়া যেন গলে যাচ্ছে, চোখ দুটো কালো হয়ে যাচ্ছে, ঠোঁটের কোণে অস্বাভাবিক হাসি।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





