শূন্য বাড়ির জানালা ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "শূন্য বাড়ির জানালা" এর ৩য় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- বিকেলের দিকে অর্ণব শালবনপুরে পৌঁছল।স্টেশন থেকে নেমে সে একটি ভ্যানরিকশা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ঢুকল। রাস্তার দুপাশে আগের মতোই ছোট ছোট বাড়ি, পুকুর, বাঁশঝাড় আর সবুজ মাঠ। কিন্তু কোথাও যেন একটা পরিবর্তন ছিল। গ্রামটি আগের তুলনায় বেশি নীরব মনে হচ্ছিল। হরিপদবাবুর বাড়ি ছিল গ্রামের মাঝখানে, একটি পুরোনো শিবমন্দিরের কাছে। অর্ণব পৌঁছতেই বৃদ্ধ দরজা খুললেন। অর্ণব! অবশেষে এলি? তাঁর কণ্ঠে স্বস্তির সঙ্গে মিশে ছিল অদ্ভুত এক উদ্বেগ। চিঠিটা পেয়েই চলে এলাম, কাকু, অর্ণব বলল- কী হয়েছে?
মুখার্জিদের বাড়ি নিয়ে এমন কী জানেন? হরিপদবাবু প্রথমে কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হলেন, আশপাশে কেউ নেই। তারপর অর্ণবকে ভিতরে ডেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। ঘরের ভিতরে পুরোনো কাঠের আলমারি, দেওয়ালে ঝোলানো একটি ক্যালেন্ডার, আর কোণের টেবিলে রাখা কালো রঙের একটি রেডিও। জানালা দিয়ে বিকেলের আলো ঢুকছিল।বৃদ্ধ অর্ণবকে বসতে বলে নিজেও ধীরে ধীরে চেয়ারে বসলেন। তুই কি ওই বাড়িটার কথা জানিস?- তিনি প্রশ্ন করলেন। কিছুটা। অমিয়নাথ মুখার্জি, তাঁর স্ত্রী আর মেয়ে পনেরো বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তারপর বাড়িটা বন্ধ হয়ে যায়। অমাবস্যার রাতে জানালায় আলো জ্বলে- এই গল্পও শুনেছি। হরিপদবাবু চোখ বন্ধ করলেন-গল্প নয়, অর্ণব।
অন্তত জানালার আলো জ্বলার ব্যাপারটা গল্প নয়। আপনি নিজের চোখে দেখেছেন? বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন- শুধু আলো নয়।আমি একজন মানুষকেও দেখেছিলাম। অর্ণব সামনের দিকে ঝুঁকল। কাকে? হরিপদবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, মৃণালিনী দেবীকে। অর্ণব অবাক হয়ে গেল। কিন্তু উনি তো নিখোঁজ! আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে উনিই ছিলেন? কারণ, তাঁকে আমি বহু বছর ধরে চিনতাম। প্রতিদিন চিঠি বিলি করতে গিয়ে ওই বাড়িতে যেতাম। তাঁর মুখ, তাঁর হাঁটার ভঙ্গি- সব আমার চেনা ছিল। কবে দেখেছিলেন? যে রাতে ওঁরা নিখোঁজ হন, সেই রাতের কয়েক দিন পর। অমাবস্যা ছিল। রাত তখন প্রায় বারোটা। আমি ডাকঘর থেকে ফিরছিলাম।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, দোতলার উত্তর দিকের জানালায় আলো জ্বলছে। বৃদ্ধের কণ্ঠস্বর ক্রমশ নিচু হয়ে এল। জানালার কাছে একজন মহিলা দাঁড়িয়ে ছিলেন, সাদা শাড়ি পরা। তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো বাড়িতে কেউ ফিরে এসেছে। কিন্তু একটু পর তিনি আমার দিকে তাকালেন। তারপর? তিনি হাত তুলে আমাকে ইশারা করলেন। অর্ণবের কপালে ভাঁজ পড়ল। কীসের ইশারা? হরিপদবাবু শুকনো গলায় বললেন- আমাকে কাছে যেতে বলছিলেন। আপনি গিয়েছিলেন? বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন- না, আমি ভয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে আসি। পরদিন সকালে আবার ওই বাড়ির সামনে যাই। দরজায় তালা ছিল, জানালাও বন্ধ। এমনকি বাড়ির ভিতরে কারও থাকার কোনো চিহ্ন ছিল না। আপনি পুলিশকে জানাননি? জানিয়েছিলাম।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





