অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। পরদিন সকালে ঘটনাটিকে অরিন্দম নিজের কল্পনা বলে ধরে নিয়েছিল। রাতের দীর্ঘ যাত্রা, ক্লান্তি আর ঘুমের অভাব- সব মিলিয়ে হয়তো সে ভুল দেখেছিল। কিন্তু তার সেই ধারণা বেশিক্ষণ টিকল না। সকাল আটটার দিকে ট্রেনটি একটি বড় স্টেশনে পৌঁছাল। চা-ওয়ালার হাঁক, যাত্রীদের ভিড়, লাগেজ টানার শব্দ- সব মিলিয়ে মুহূর্তের মধ্যে কামরার পরিবেশ বদলে গেল।অরিন্দম জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে স্টেশনের নাম পড়ল- বর্ধমান। সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।গত রাতের অদ্ভুত ঘটনাটি মনে পড়তেই নিজের ওপরই হাসি পেল। ভূতের গল্প বেশি পড়লে এমনই হয়- মনে মনে বলল সে।
চা নিয়ে নিজের সিটে ফিরে আসার সময় তার চোখ হঠাৎ দরজার দিকে গেল। দরজার পাশে মেঝেতে কিছু একটা পড়ে আছে। একটি ছোট কালো ব্যাগ, অরিন্দম থেমে গেল। ব্যাগটি ঠিক সেই রকম, যেটা গত রাতে দরজার ওপাশে দাঁড়ানো লোকটির হাতে ছিল। সে চারদিকে তাকাল, কেউ ব্যাগটির দিকে নজর দিচ্ছে না। অরিন্দম ব্যাগটি তুলে নিল। কার ব্যাগ? বৃদ্ধ যাত্রী ঘুম থেকে উঠে বললেন- কী হয়েছে? এই ব্যাগটা এখানে পড়ে ছিল। বৃদ্ধ ব্যাগটির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন- ওটা আপনার নয় তো? না। তাহলে স্পর্শ না করাই ভালো। অরিন্দম অবাক হলো। কেন? বৃদ্ধ কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু বললেন- রেল পুলিশের কাছে দিয়ে দিন। অরিন্দম মাথা নাড়ল, ব্যাগটি নিয়ে সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল।
কিন্তু ঠিক তখনই তার মনে হলো- ব্যাগটি অস্বাভাবিকভাবে হালকা, ভেতরে যেন কিছুই নেই।তবু ব্যাগটি হাতে নিতেই একটা ঠান্ডা অনুভূতি তার আঙুল বেয়ে উঠে গেল। দুপুরের দিকে অরিন্দম আবার নিজের সিটে বসে ব্যাগটির কথা ভাবছিল।রেল পুলিশকে ব্যাগটি দেওয়ার কথা সে ভেবেছিল, কিন্তু অদ্ভুতভাবে বিষয়টি নিয়ে তার কৌতূহল বেড়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সে ব্যাগের চেইন খুলল, ভেতরে ছিল মাত্র তিনটি জিনিস।একটি পুরনো পকেটঘড়ি, একটি ভাঁজ করা কাগজ। আর একটি ছোট ধাতব চাবি। অরিন্দম প্রথমে পকেট ঘড়িটি হাতে নিল। ঘড়িটি বন্ধ, কাঁটা থেমে আছে- রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে। অরিন্দমের শরীরের ভেতর দিয়ে যেন বিদ্যুৎ বয়ে গেল। গত রাতে সে দরজার কাছে গিয়েছিল ঠিক সাড়ে এগারোটার পর।
কিন্তু লোকটি অদৃশ্য হওয়ার সময় তার হাতঘড়িতে ছিল- ১১টা ৪৭ মিনিট। সে দ্রুত নিজের মোবাইল বের করে সময় দেখল।তারপর আবার ঘড়িটির দিকে তাকাল। ঘড়ির পিছনে কিছু খোদাই করা ছিল। খুব ছোট অক্ষরে লেখা- ফিরে আসার সময় মনে রেখো। অরিন্দমের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। কাগজটি খুলল সে, সেখানে হাতে লেখা মাত্র একটি বাক্য- যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তবে বুঝবে ট্রেনটি ইতিমধ্যে ভুল পথে চলে গেছে। অরিন্দম কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ জানালার বাইরে তাকাল। ট্রেন ছুটে চলেছে, কিন্তু সে জানে না তারা এখন কোথায়। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই, গুগল ম্যাপ খুলছে না। ট্রেনের ভিতরের ঘোষণাও কিছুক্ষণ ধরে বন্ধ। অরিন্দম পাশের যাত্রীকে জিজ্ঞেস করল- দাদা, এখন কোন স্টেশন আসবে জানেন?....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





