সহজ এবং প্রাঞ্জল
আপনার কি মনে হয় না, এমবিএ করা একটা ছেলে চাইলেই যেকোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে?
তাহলে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের পারিবারিক ব্যবসায় সময় দিচ্ছে কেন? কিংবা কেনইবা গোবিন্দগঞ্জের ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে চাইছে?
প্রশ্নগুলো খুব জটিল নয়। তবে উত্তরটা আপনি কীভাবে নেবেন, সেটা নির্ভর করছে আপনার শোনার মানসিকতার ওপর।
চাকরি করে না,কারণ হয়তো নিজেকে আধুনিক দাসে পরিণত করতে চায় না। তাই ছোট পরিসরে হলেও পারিবারিক ব্যবসাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চায়। নিজের সময়, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের স্বাধীনতাকে হয়তো বেতনের বিনিময়ে বন্ধক রাখতে রাজি নয়।
কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকেই যায়,তাহলে হঠাৎ করে তার মাথায় কমিশনার হওয়ার চিন্তা এলো কেন?
উত্তরটা আসলে আরও সহজ, আরও প্রাঞ্জল।
আচ্ছা, আপনি যদি গোবিন্দগঞ্জের ৬ নং ওয়ার্ডবাসী হয়ে থাকেন, তাহলে প্রশ্নটা এবার আপনার কাছেই ছুঁড়ে দিলাম।
ছেলেটার একটা খারাপ দিক খুঁজে বের করুন। সত্যিই যদি এমন কোনো বিষয় পান, যা তাকে মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার অযোগ্য করে তোলে, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি,ওকে ভোট করতে দেবো না।
আশা করি, ছুঁড়ে দেওয়া এই প্রশ্নের খুব একটা জোরালো উত্তর আপনার কাছে নেই।
তাহলে এবার আসি আসল কথায়।
ছেলেটার মাথায় কমিশনার হওয়ার ইচ্ছা জেগেছে মূলত ওয়ার্ডের পরতে পরতে জমে থাকা সমস্যাগুলো দেখতে দেখতে। বছরের পর বছর যে ব্যবস্থাপনা সে নিজের চোখে দেখে এসেছে, তার প্রতি সে একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। বরং কোথাও একটা বিরক্তি, একটা ক্ষোভ, একটা পরিবর্তনের তাগিদ তার ভেতরে তৈরি হয়েছে।
তাই হয়তো নিজের জায়গা থেকেই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে,যে করেই হোক, ওয়ার্ডের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতাটা অন্তত নিজের ভেতরে পোক্ত করতে হবে।
ওয়ার্ডবাসী অশিক্ষিত নয়। তারা বোঝে, তারা দেখে, তারা হিসাবও করতে জানে। তারপরও দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেক সময় তারা সামান্য কিছু সুবিধা কিংবা স্বার্থের বিনিময়ে নিজেদের অস্তিত্ব, নিজেদের ভোট, নিজেদের অধিকার,খুব সস্তায় বিক্রি করে ফেলে।
এবারও যে এমনটা হবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?
এই তিতা সত্যটা ছেলেটাও জানে। ভোটের মাঠ যে ফুল বিছানো পথ নয়, বরং বড্ড কাঁটাযুক্ত,সেটাও তার অজানা নয়।
তারপরও কোনো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে তার মনে হয়েছে, মানুষ চাইলে তাকে সম্মানিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারে।
যাইহোক,যেহেতু মানুষটার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের পথচলা, তাই অন্তত এতটুকু নিঃসন্দেহে বলতে পারি,ওর ঝুলিতে সম্মানটুকু আছে, কিন্তু বাড়তি কোনো কানাকড়ি নেই।
এখন সিদ্ধান্ত ওয়ার্ডবাসীর।
