অদৃশ্য কবরস্থান

in আমার বাংলা ব্লগyesterday

34463.jpg

সবকিছুর একদিন কবর হয়ে যায় মানুষের— স্মৃতির, স্বপ্নের, এমনকি কথারও। কত মানুষ যে বিশ্বাসের ভারে নত হয়ে উগরে দিয়েছে নিজের ভেতরের জমে থাকা কথা, কিংবা সামান্য মানসিক প্রশান্তির আশায়, এই অধমের কাছে নামিয়ে রেখেছে বুকের পাথর—তার হিসাব কোনোদিন করিনি।

কত কথার যে সাক্ষী হয়ে আছি, কিংবা উন্মোচনের অপেক্ষায় কত কথার ওপর যে সময়ের ধুলো জমেছে, তা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। সময় কেবল এগিয়েছে, ঋতু বদলেছে, মানুষের মুখ বদলেছে; অথচ কথাগুলো ঠিক সেখানেই থেকে গেছে, নীরব, নিশ্চুপ, অনুচ্চারিত।

যত্নের কোনো ত্রুটি ছিল না বলেই, হয়তো তাদের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েছে। কেউ নিজের ভাঙা স্বপ্ন রেখে গেছে, কেউ অপূর্ণ ভালোবাসা, কেউ বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষত, কেউবা এমন কিছু সত্য, যা উচ্চারণ করার সাহসও তার ছিল না।

প্রায়ই ভাবি, মানুষ এত সহজে বিশ্বাস করে কেন? কেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিশ্চিন্তে বলে, "আর যাই হোক, এখান থেকে অন্তত কথার পাচার হবে না।" তারপর বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা গোপন কথাগুলো বন্ধক রেখে বিনিময়ে নিয়ে যায় একটুখানি মানসিক শান্তি।

কাউকে খালি হাতে ফেরাই না। যতটা মনোযোগ দিয়ে শুনি, ঠিক ততটাই যত্নে আগলে রাখি প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি নীরবতার অর্থ। কেউ কেউ পরে ফিরে আসে—নিজের ফেলে যাওয়া কথাগুলো ফেরত নিতে, অতীতকে আবার ছুঁয়ে দেখতে। আবার কেউ কেউ চিরদিনের মতো নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসে না, কিন্তু তাদের কথাগুলো থেকে যায়, নীরব স্মৃতিফলকের মতো।

এভাবেই বছরের পর বছর ধরে বুকের ভেতর গড়ে উঠেছে অদৃশ্য কবরস্থান। সেখানে শুয়ে আছে অসংখ্য না-বলা স্বীকারোক্তি, ভাঙা বিশ্বাস, অপূর্ণ ভালোবাসা, অশ্রু মুছে ফেলা প্রতিশ্রুতি আর অসহায় দীর্ঘশ্বাস।